ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:২০

প্রিন্ট

'প্রতিটি মানুষের হাতে কাজ চাই'

'প্রতিটি মানুষের হাতে কাজ চাই'
ঢাবি প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের কাছে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাজেটের ভিতরে এনে সুপরিকল্পিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা এবং এদেশের প্রত্যেক ব্যক্তিকে শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনাসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছে ‘মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস’।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তরুণ সমাজ’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস’র আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী, সদস্য আসাদুল্লাহ লায়ন, সাব্বির আহমেদ, এনায়েত রাফি ও গাজী আরিফ।

লিখিত বক্তব্যে ফারুক আহমাদ আরিফ বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। ২০০৮ হতে ২০১৮ পর্যন্ত ১০ বছরে দেশে তরুণ ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ। এদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১৮-২৮ বছর। এরমধ্যে ১ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজারের অধিক নতুন ভোটার। ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালিত (২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে। তাদের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এক্ষেত্রে এক বছরে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার।

আরিফ বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পণ করবে। সে উপলক্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের হাতে কাজ চাই। এক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারই এর ব্যবস্থা করবে। আমাদের আশা থাকবে, পরিকল্পনা করে কিভাবে দেশের প্রতিটি মানুষকে শ্রমে নিয়োজিত করা যায় সেই চিন্তাটি সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতিহার প্রণয়ন ও নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করবে।

এসময় তিনি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো- বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাজেটের ভিতরে এনে সুপরিকল্পিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে প্রতিটি ব্যক্তি শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় চলে আসে।

মানুষের খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং খাদ্য উৎপাদনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভর্তুকিসহ সহজ শর্তে ঋণ, অনুদান দিতে হবে। কমিউনিটি হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে আরো সম্প্রসারণ ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে কর্মস্থানের মধ্যে আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘বিচার বিভাগ ও সুশাসন’ শীর্ষক বক্তব্যে রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, কোনো দেশে আইনের শাসন কার্যকর হয় বিচার বিভাগের মাধ্যমে। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে আইনের শাসন সম্ভব নয়। বিচার বিভাগে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত না হলে স্বাধীনভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব বন্ধ করা উচিৎ।

‘গণমাধ্যম ও তরুণ সমাজ’ শীর্ষক বক্তব্যে সাব্বির আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণের স্বার্থ ফুটিয়ে তোলা। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা পালন নিশ্চিত করতে হবে।

গাজী আরিফ বলেন, এদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে পরিকল্পনার অভাব। একই ভবনে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতেও দেখা গেছে। শিক্ষাকে ব্যবসা হিসেবে পরিগণিত করা হচ্ছে। এটা অনুচিৎ, শিক্ষায় তারতম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এটা আগামী প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর। ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত