ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:১৯

প্রিন্ট

বেসরকারি স্কুলেও ভর্তি ফি বেঁধে দিতে পারে সরকার

বেসরকারি স্কুলেও ভর্তি ফি বেঁধে দিতে পারে সরকার
অনলাইন ডেস্ক

স্কুলে ভর্তির মৌসুমে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে ‘গলাকাটা’ অর্থ অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি স্কুলেও সুনির্দিষ্টভাবে ভর্তি ফি বেঁধে দেয়া উচিত বলে মনে করেন নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে যেটুকু থাকবে, তাতে নিয়ম মানা হবে। কিন্তু বেসরকারি হলেই একেবারে লাগামছাড়া, সেটি একেবারেই হওয়া উচিত নয়। বরং সে ক্ষেত্রেও একটা যুক্তিসঙ্গত সিলিং নিশ্চয়ই থাকা উচিত।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের নামে করে ঢাকার নামকরা স্কুলগুলোতে অভিভাবকদের কাছ থেকে গড়ে মাথাপিছু অতিরিক্ত ৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এব্যাপারে স্কুলগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, ব্যয় বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ নিতে হচ্ছে। স্কুল কমিটিগুলো এই বাড়তি অর্থ আদায় অনুমোদন করেছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে।

কিন্তু এ ধরনের অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যদি কোন স্কুল এই অতিরিক্ত ফি নিয়ে থাকে তাহলে সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে সেই স্কুলের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তিনি আরো বলেন, আমি অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ করবো যদি কোন স্কুল এধরনের অতিরিক্ত ফি আদায় করবার চেষ্টা করে, তাহলে তারা যেন আমাদের কাছে সেই তথ্য-প্রমাণ দেন যেন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। আমরা নিজেরাও তথ্য সংগ্রহ করছি যে কোথাও এধরনের কিছু হচ্ছে কিনা। হলে অ।বশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

স্কুলগুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বশেষ যে নীতিমালা তৈরি করেছে তাতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলগুলো উন্নয়ন এবং এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করতে পারবে।

উন্নয়ন খাতে কোন প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে ডা. দীপ মনি বলেন, স্কুলগুলোর জন্য যে সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অনেক বিচার-বিবেচনা করেই ঠিক করা হয়েছে। সেটি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন হলে তা নিয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তার আগে এখন পর্যন্ত যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, স্কুলগুলোকে তাই মেনে চলতে হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close