ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ১৫:০৩

প্রিন্ট

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা

সোয়া কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিলেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা

সোয়া কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিলেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা
রংপুর প্রতিনিধি

বিধিমালা অমান্য করে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন বাবদ মোট আয়ের সোয়া কোটি টাকা বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। তবে বাটোয়ার মধ্যে পরিমানে ভিসিপন্থীরা বেশি পাওয়ায় এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। হিসেবে কষে দেখা গেছে ভর্তি পরীক্ষা নিতে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ব্যয় হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজিষ্ট্রেশন ফি নিচ্ছেন ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। একারনে টাকা বাটোয়ারা করে না নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফি কমানোর দাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার দপ্তর সূত্রে প্রকাশ, চলতি ২০১৮-১৯ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি বাবদ ৩ কোটি ৪২ লাখ ৭০৫ টাকা আয় করে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে ৮ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ কেটে নেয় টেলিটক। টেলিটক কেটে নেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এ অর্থ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে ৪০ শতাংশ হারে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা জমা দেয় কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার খরচ বাবদ ৭৪ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয় দেখায় ভর্তি কমিটি। এরপর ওই টাকা থেকে উদ্বৃত্ব থাকে ১ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

গত ১৩ মে ওই প্রায় সোয়া কোটি টাকা সই করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন ভিসিসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পজিশন অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই বাটোয়ারা করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা আইন অনুযায়ী উদ্বৃত্ত ওই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল তহিবেল জমা হওয়ার কথা ছিল।

এই বিশাল অংকের পাকা বাটোয়ারার সাথে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ভর্তি রেজিস্ট্রেশন থেকে প্রাপ্ত টাকার মধ্যে উদ্বৃত্ত ১ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ভিসি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির আহবায়ক, ডিন ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে সম্মানি বাবদ পেয়েছেন তিন লক্ষ টাকা।

ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। আর, বাকি অর্থ অনুষদ ভিত্তিক ভাগ করে দেয়া হয়েছে। যে অনুষদে বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে সে অনুষদ বেশি পরিমান অর্থ পেয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কলা অনুষদভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়েছেন ২১ লক্ষ ৪২ হাজার ১৪১ টাকা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৪১ লক্ষ ২৭ হাজার ২০৯ টাকা, বিজনেস অনুষদভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়েছেন ১১ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৯ টাকা, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়েছেন ১৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৬৮ টাকা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৬ লক্ষ ৫ হাজার ২৬৯ টাকা এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়েছেন ৭ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮৯৯ টাকা।

জানা গেছে, এবছর সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত শিক্ষকরা। এই অনুষদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা এক শিক্ষক একাই পেয়েছেন এক লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। আর, সবচেয়ে কম পেয়েছেন বিজনেস অনুষদভুক্ত শিক্ষকরা। তারা গড়ে ৩০/৩৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন।

এছাড়া, কর্মকর্তারা নামমাত্র সম্মানি পেয়েছেন। তুলনামূলক কম টাকা পাওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, আমি ভর্তি পরীক্ষার আয়-ব্যায়ের সকল হিসেব রেখেছি, অথচ আমাকে দিয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দায়িত্বরত প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নগদ মোটা অংকের সম্মানি প্রদান করা হয়। এছাড়া, ওই সময় প্রত্যেক অনুষদ খরচ বাবদ দুই থেকে আড়াই লাখ করে টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে ব্যয় করে থাকে। তারপরেও ভর্তি পরীক্ষার উদ্বৃত্ত টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না করে এভাবে ভাগাভাগি করে নেয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। কিন্তু, ফরম পূরণের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। উত্তারাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ফরম বাবদ এই অধিক অর্থ আয় করে তা ভাগ করে নেয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও অমানবিক। প্রতিবছর যেহেতু এভাবে টাকা ভাগাভাগি করে নেয়া হয় সেক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রেশন ফি কমালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সাশ্রয় পাবেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুর রহমান জানান, এভাবে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়াটা সম্পুর্ন বেআইসি ও অনৈতিক। এটি না করে ভর্তি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফি কমালে অভিভাবকদের ওপর আর্থিক চাপ কমবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে এধরনের প্রশ্ন উঠবে না।

এ ব্যপারে জানতে ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close