ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯, ১৮:০৫

প্রিন্ট

বশেমুরবিপ্রবির ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বশেমুরবিপ্রবির ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

‘সরকার ও প্রশাসনবিরোধী প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন বহন’ ও ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নুরউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত গত ৩০ মে জারি করা এক নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই ১৪ শিক্ষার্থী হলেন, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের দিগন্ত লস্কর, শেখ মেহেদী হাসান, এমএম-র নিউটন মজুমদার, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৩য় বর্ষের ইসমাইল হোসেন রিয়াদ, সিকদার মাহবুব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৩য় বর্ষের নাজমুল হুদা, রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী, শিবলী সাদিক, ৪র্থ বর্ষের সিরাজুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের মিথুন সোহাইন, ২য় বর্ষের সৌরভ সমাদ্দার, পরিসংখ্যান বিভাগের ২য় বর্ষের বিসালাত আহমেদ অর্নব, আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের এস এম আব্দুল্লাহ কাফি ও ইংরেজি বিভাগের এমএ-র বুলবুল আহমেদ।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নুরউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জানাগেছে, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা, এবং অতুৎসাহী হয়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন করার আগেই আন্দোলনের সাথে আপনাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। যা বিশ্ববিদ্যালয় শৃংখলা পরিপন্থি একটি কাজ। সুতারং এহেন কাজের জন্য আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তা অত্র পত্র জাড়ির ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত ভাবে জবাব প্রদানের জন্য বলা হল।

গত ১৬ মে, ধানের ন্যায্যমূল্য চেয়ে একটি মানববন্ধন করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল−‘আর করব না ধান চাষ দেখব এবার কী খাস’, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, পাকা ধানে আগুন কেন’, ‘কৃষক মরে হীরক রাজার টনক কি নড়ে, ফসল জ্বললে জ্বলবে গদি’। এ মানববন্ধন করার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে কি না তা পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী বলেন, কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে করা মানববন্ধনে সরকার বিরোধী কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। একটি সিস্টেমের বিরুদ্ধে স্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হয়েছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অধিকারের কথা বলতে গেলেই এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে কথা বলার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশের মুখোমুখি হতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আসলে নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া অপর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা বলেন, আমরা কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের জন্য মানববন্ধন করি। সেখানে না কি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়েছি। যে কারণে আমাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে তা আসলে ঠিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসনবিরোধী প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন বহন’ ও ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করার কারণে এমন নোটিশ দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। নোটিশে কারণ দর্শানোর বিষয়টি উল্লেখ করা আছে।

কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সব ধরনের কর্মসূচি করতেই বা ক্যাম্পাসে যাই করুক না কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি যদি না থাকে তাহলে যে কেউ যেকোনো কিছু করে বসবে। আমরা তো এদের অভিভাবক, যাই করুক অনুমতি নিয়েই করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত