ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৫

প্রিন্ট

শিক্ষকদের বেতন ‍বৃদ্ধি: গণশিক্ষা সচিবের সাথে যে কথা হয়েছে অর্থ সচিবের

গণশিক্ষা সচিবের সাথে যে কথা হয়েছে অর্থ সচিবের
জার্নাল ডেস্ক

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি নাকচ করে তা ফেরত পাঠিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সারা দেশের সহকারী শিক্ষকরা।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেছেন, সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্যের বিষয়ে সরকার আন্তরিক ও সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই অর্থমন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কেন ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এখনো আমি দেখিনি। কারণ ফাইলটি এখনো আমার দফতরে আসেনি।

এ ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে তিনি জানান, ‘বুধবার আমি বিষয়টি নিয়ে অর্থ সচিবের সাথে কথা বলেছি। তিনি (অর্থ সচিব) রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর পাঠানো প্রস্তাব নিয়েই কথা হবে। অর্থ সচিবও এ ব্যপারে সম্মতি দিয়েছেন।’

প্রাথমিকের সচিব আকরাম আল হোসেন আরো বলেন, যোগ্যতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই বেতনবৈষম্য দূর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করি বৈঠকে বসলেই সব অস্পষ্টতা দূর করা যাবে।

এদিকে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব গত ২৯ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর ফিরতি চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। এতে বলা হয়, প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক আছে। তাই প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১০ এবং সহকারীদের গ্রেড-১২ করার কোনো সুযোগ নেই।

জানা গেছে, প্রস্তাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন একই ধরনের ক্যাটাগরি বাতিল করে সব ধরনের প্রধান শিক্ষককে গ্রেড-১০ আর সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড-১২ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাব অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকরা ১৬ হাজার এবং সহকারী ১১ হাজার ৩০০ টাকা স্কেলে বেতনভাতা পাবেন।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকরা ১৩ ও ১৪তম এবং সহকারী শিক্ষকরা ১৫ ও ১৬তম গ্রেডে বেতন পেতেন। উল্লিখিত মর্যাদা দেয়ার পর প্রধান শিক্ষকরা ১১ ও ১২তম এবং সহকারীরা নতুন করে ১৪ ও ১৫তম গ্রেডে বেতনভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও খুশি নন প্রাথমিকের শিক্ষকরা। বেতনভাতা বাড়ানোর পর থেকেই শিক্ষকরা দাবি নিয়ে মাঠে সক্রিয় আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কারণেই শিক্ষকদের বেতনভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করে। মূলত ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যেই বেতন বৈষম্য দূর করার প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া এসডিজি অর্জন, সর্বশেষ নীতিমালায় অনুযায়ী স্নাতকধারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিতে বেতন বাড়ানো দরকার বলে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। বেতন বৈষম্যের পক্ষে ওই প্রস্তাবে মোট ১১টি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, প্রশিক্ষণ।

এ ব্যাপারে বলা হয়, সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিতে না পারার ব্যর্থতা সরকারের। কেননা, সারা দেশের পিটিআইতে প্রতিবছর প্রশিক্ষণ দেয়া যায় ১৫ হাজার শিক্ষককে। আর প্রশিক্ষণ বিহীন আছেন ৭০ হাজার। বাকিদের প্রশিক্ষণের জন্য অপেক্ষা করলে বেতন বৈষম্যের শিকার হতে হবে দীর্ঘদিন। তাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আর প্রশিক্ষণবিহীন হিসেবে বিভাজন না করে সবার জন্য একই স্কেল নির্ধারণ করা দরকার। এতে প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল গ্রেড-১০ করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

যদিও ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড (গ্রেড-১১) উন্নীতকালে বলা হয়েছিল যে, গ্রেড-১০ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের স্কেল। তাই তাদেরকে সেটি দেয়া যাবে না।

এতে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, ২০০৯ সালে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের অনুপাত ছিল ১:৩। বর্তমানে তা হয়েছে ১:৬। সহকারী থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। তাই দীর্ঘদিন সহকারী শিক্ষকদের একই স্কেলে কাজ করতে হয়। বেতনভাতা না বাড়ালে হতাশা তৈরি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের পর এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য ১১টি যৌক্তিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নাকজ করে দিয়েছে। তবে আমরা হাল ছাড়তে রাজি নই। তাদের (অর্থ মন্ত্রণালয়) সঙ্গে আমারা আবারো বৈঠক করবো। বৈঠকে যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।’

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত