ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৩৭

প্রিন্ট

শিক্ষিকার অনিয়ম তদন্ত করবেন স্বামীর সহকর্মী!

শিক্ষিকার অনিয়ম তদন্ত করবেন স্বামীর সহকর্মী!
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭৪ নং মধ্য নামাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস খানমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিকদার মো. আতিকুর রহমান জুয়েলকে।

আগামী রোববার ওই তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা শিকদার আতিকুর রহমান জুয়েল অভিযুক্ত শিক্ষিকার স্বামী মো. বশির হোসেনের সহকর্মী ও ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বশির হোসেন ওই উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।

স্থানীয় শিক্ষার্থী অভিভাবকদের অভিযোগ ওই কর্মকর্তাকে দিয়ে করা তদন্ত নিরপেক্ষ না হয়ে বরং ওই শিক্ষিকার পক্ষে যাবে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে গত রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধনসহ ক্লাস বর্জন করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এর আগের দিন শনিবারও ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস বেগমের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে কমিটির প্রধান হিসাবে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিকদার মো. আতিকুর রহমান জুয়েল আগামী রোববার তদন্ত করবেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সেলিম শেখ জানান, ওই প্রধান শিক্ষিকা তার স্বামীর বাড়ির সংলগ্ন বিদ্যালয়ে গত ১৪ বছর ধরে চাকরি করছেন। সিই সুবাদে বিদ্যালয়টি নিজের খেয়াল-খুশিমতো পরিচালনা করে আসছেন তিনি। প্রায়ই তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। ক্লাসও করান না। শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোর করে স্কুলের টয়লেটসহ পানির ট্যাংকি পরিস্কার করান। এতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এছাড়া তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সাথে অকথ্য ভাষা ব্যবহারসহ মারধর করেন। তার এসব অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। আমরা বিদ্যালয়ের পড়ার পরিবেশ ফিরে পেতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কমনা করছি।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক সাইফুল ইসলাম লাভলু জানান, ওই প্রধান শিক্ষিকার স্বামী স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি চাকরিবিধি মেনে চাকরি করছেন না। তিনি তার খেয়ালখুশি মতো স্কুল চালান। শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জেছের আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিলে আইনি ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস খানম জানান, যেসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে তা সবই মিথ্যা। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত শক্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত