ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৫৮

প্রিন্ট

আবরার হত্যা: বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সেই রাতে যা ঘটেছিল

আবরার হত্যা: বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সেই রাতে যা ঘটেছিল
জার্নাল ডেস্ক

রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরারের কক্ষ ১০১১ নম্বর রুমে গিয়ে দেখি সে সেখানে নেই। পরে জানতে পারি রাত সোয়া আটটার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল ছাত্রলীগের ছেলেরা। কথাগুলো বলছিলেন নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন। আতংকিত এই ছাত্রটি নিজের নাম পরিচয় প্রকাশে একেবারেই রাজি নন।

এটা ক্যাম্পাসের নৈমিত্তিক ঘটনা। তাই এ ব্যাপারে ততটা গুরুত্ব দেইনি, বলছিলেন তিনি।

কিন্তু রাত ৩টার দিকে তিনি জানতে পারেন আবরার কে হত্যা করে একতলা এবং দোতলার সিঁড়ির মাঝামাঝি ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি এসময় নানা জনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, আবরারকে দুই-দফা দুটি রুমে নিয়ে গিয়ে পেটানো হয়েছে। প্রথমে ২০১১ নম্বর রুমে, পরে ২০০৫ নম্বর রুমে। বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, সেই সময় আমি ঘটনাস্থলে যাই। দেখি বুয়েট মেডিকেলের ডাক্তার এসেছেন এবং আবরারকে দেখে মৃত বলে ঘোষণা করছেন। সিঁড়ির কাছের জায়গাটি ঘিরে রেখেছে ছাত্রলীগের ছেলেরা। সাধারণ ছাত্রদের সেখানে জড়ো হতে বাধা দিচ্ছিল তারা। খবর বিবিসি বাংলার।

তিনি আরো বলেন, আমরা তখন হলের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভোষ্ট কে বলি, স্যার আপনার সাথে কথা আছে। স্যার কে নিয়ে ১০১১ রুমে আসি এবং দরজা বন্ধ করে স্যার কে বলি, স্যার এখানে কিছু হচ্ছে, যেটা স্বাভাবিক না। স্যার আমাদের তখন বলেন, তোমরা নিজেরা একত্রিত হও। এর মধ্যে ছাত্রলীগের ছেলেরা খবর পেয়ে আমাদের দরজা বাইরে থেকে ধাক্কা দিতে থাকে। তারা ভোর ৫টা পর্যন্ত সেখানেই ছিলো। তারপর তারা চলে গেলে আমরা ফেসবুকে আমাদের বুয়েটের সব হলের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করি এবং একত্রিত হতে থাকি। ততক্ষণে ৬টা বেজে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ের পরিচালক মিজানুর রহমান এলে তাকে আমরা একটা কথাই বলি যে, এই ঘটনার তদন্ত চাই। কিন্তু তিনি আমাদের হতাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রের বয়ান:

২০০৫ নম্বর রুমে আবরারকে আমি দেখি। তখন সে বেঁচে ছিলো। তখন পুলিশ চলে এসেছে। আমরা পুলিশের কাছে যাই, পুলিশ বলে ওকে (আবরারকে) নিচে নামানোর ব্যবস্থা করা হোক, যেন হাসপাতাল বা থানায় নেয়া হয়। এটা পুলিশের ভাষ্য। আমি কয়েকজন জুনিয়রকে নিয়ে আবরারকে কোলে করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম।

সময়টা রাত ২ থেকে ৩ টার মধ্যে। সে তখন জীবিত ছিলো এবং আমাদের বলছিল, আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাও। বিশেষ করে বিশেষায়িত কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সে।

অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হচ্ছিলো। পুলিশ ছিলো। যেকোন কারণেই হোক আমার আর সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ যা বলছে:

চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন ঐ রাতের ঘটনা সম্পর্কে বলছিলেন, আমরা প্রথম সংবাদ পাই আমাদের ঐ এলাকায় যে মোবাইল পেট্রোল পার্টি আছে তাদের কাছে। তারা থানায় ফোন করে জানায়, বুয়েটে গণ্ডগোল হচ্ছে। তখন পুলিশের এই দলটি বুয়েটে যায়। রাত সোয়া দুইটার দিকে পুলিশের একটা দল যায় হলে। কিন্তু তাদের কে ভিতরে ঢুকতে দেয় নি। ছাত্রলীগের কিছু ছেলে এসে বলে এখন ঢুকতে পারবেন না, কারণ আমাদের হল কর্তৃপক্ষ এখন কেউ আসেনি।

তিনি বলছিলেন, পুলিশের এই দলটি ৩টা পর্যন্ত সেখানে ছিলো তারপর সেখান থেকে চলে আসে।

এরপর বুয়েট ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি রাসেল (বর্তমানে বহিষ্কৃত) আবার থানায় ফোন করে এবং জানায় এখন তাদের হলের প্রভোষ্ট এসেছে। এখন আপনারা আসতে পারেন।

হোসেন বলেন, ৪টার দিকে আবারো পুলিশ সেখানে যায়। প্রভোষ্ট, ডাক্তার সেখানে সবাই উপস্থিত ছিলো। ডাক্তার সেখানে আবরারকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর সেখানকার প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

তিনি আরো জানান, আবরারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আবরারের মৃতদেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। সোমবারই পুলিশ বলেছিল, আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

কিছু গণমাধ্যমে খবরে, পুলিশের দুই দফা সেখানে যাওয়া এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। হোসেন বলছিলেন, আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছি। কিন্তু অনুমতি ছাড়া আমরা হলের মধ্যে ঢুকতে পারি না। সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের দায়িত্বের কোন গাফিলতি দেখতে পাচ্ছি না।

আবরার হত্যায় এ পর্যন্ত ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের সবাইকেই রিমান্ডে নেয়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত