ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:৫২

প্রিন্ট

এবার রাজশাহী পলিটেকনিকে মিলল ছাত্রলীগের টর্চার সেল

রাজশাহী পলিটেকনিকে টর্চার সেল
রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের টর্চার সেলের সন্ধান মিলেছে। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী প্রতিনিধি

এবার রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনার পর থেকে আলোচনায় রয়েছে ক্যাম্পাসটি। সর্বশেষ এ টর্চারসেলের সন্ধান পাওয়ার পর অনেকের মাঝে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিং ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা তদন্ত চলাকালে এ টর্চার সেলের সন্ধান পান।

এ সময় তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র জানান, ওই টর্চার সেলটি ছাত্রলীগের। ওই কক্ষের সামনে ছাত্রলীগের টেন্ট। ছাত্রলীগের নেতাদের কথা না শুনলে সেখানে নিয়ে শিক্ষার্থীদের টর্চার করা হয়।

এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এসএম ফেরদৌস আলম বলেন, রোববার সকালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিকেলে আমরা দুইজন ঢাকা থেকে বিমানে রাজশাহী এসেছি। আর কমিটির অপর সদস্য রাজশাহীতে ছিলেন। রাজশাহী পৌঁছেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। টর্চার সেল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস আলম বলেন, সব বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলছি। পরিপূর্ণ তদন্তের পরই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টর্চার সেলের ওই কক্ষটিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরে এনে রড ও লাঠি দিয়ে নির্যাতন করা হয়। এখানে চলে ফ্রি স্টাইলে মারধর।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কোনো বিষয়ে কথা বললে বা তাদের কোনো অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। এ ছাড়া যত অপকর্ম আছে তার পরিকল্পনা এখানেই করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এমনকি শিক্ষকের সামনেই ক্লাস থেকে সাধারণ ছাত্রদের ধরে এখানে এনে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই কক্ষটি জোর করে নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা ব্যবহার করে। সেখানে বসে তারা বিভিন্ন সময় আড্ডা বা মিটিং করে। তবে শুনেছি তারা ওই কক্ষটি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করত। তবে এ নিয়ে কেউ কোনোদিন আমার কাছে অভিযোগ করেনি।

ছাত্রলীগের ছেলেদের বিরুদ্ধে শিক্ষক বা ছাত্র সবাই অভিযোগ দিতে ভয় পায় বলে এ সময় জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত