ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:২৩

প্রিন্ট

বশেমুপ্রবিতে যৌন হয়রানি

অভিযুক্ত আক্কাস আলী ও তদন্ত দল প্রধানের ফোনালাপ ফাঁস

অভিযুক্ত আক্কাস আলী ও তদন্ত দল প্রধানের ফোনালাপ ফাঁস
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সাবেক প্রধান ছাত্রী যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত আক্কাস আলী ও তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রহিম খানের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।

ফোনালাপে আক্কাস আলী তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রহিম খানকে বলতে শোনা যায়, অভিযোগকারী দুই ছাত্রী মেসে গিয়ে থাকে এবং বলে স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিবা। একটি মেয়ে আন্দোলনে যাচ্ছে না কেন সেজন্য নির্যাতন করছে।

এসময় তদন্তকারী দলের প্রধান আব্দুর রহিম খান ওই দুই মেয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটা তোমাকে (আক্কাস আলী) ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে। আপতত চুপ থাক। পরে সব কিছু মেকআপ হয়ে যাবে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান আক্কাস আলী গত ডিসেম্বর মাসে ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রীকে থিসিসের নামে প্রায় সময় নিজ বাড়িতে ডেকে নিতেন। এসময় তিনি বিভিন্নভাবে তাদের কুপ্রস্তাব দেয়াসহ যৌন হয়রানি করেন।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয়। পরে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাস আলীর শাস্তি দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. আব্দুর রহিম খানকে সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. বশির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আক্কাস আলীকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেয়া হয়। সেই সাথে জানুয়ারি-জুন ২০১৯ থেকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত মোট ৮ সেমিস্টারের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ ফোনালোপে আব্দুর রহিম খানকে আরো বলতে শোনা যায়, আমরা তোমার পক্ষে (আক্কাস আলী) রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কিন্তু খারাপ রিপোর্ট দেইনি। এসময় আক্কাস আলী বলেন, কলঙ্কিত হয়ে গেলাম, আমি মুখ দেখাতে পারি না। অন্য কারো শাস্তি হোক আর না হোক যদি আমি করিনি এটা প্রমাণিত হলে আমি কলঙ্ক মুক্ত হতে পারব।

এ ফোনালাপ ফাঁস হবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ফোনালাপটি প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রহিম খান বলেন, ওই সময়ের আক্কাস আলী আমাকে প্রায়ই ফোন করতেন। সহকর্মী হওয়ায় আমি তার সাথে কথা বলি। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কথা বলতেন। এ সময় তাকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া কিছুই ছিল না।

তিনি আরো বলেন, আক্কাস আলী নিজেই অডিওটি ভাইরাল করেছেন। তবে কী জন্য তিনি অডিওটি ভাইরাল করেছেন তা তিনি বলতে পারেননি।

অভিযুক্ত আক্কাস আলী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান আব্দুর রহিমকে ফোন করে আমার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে নির্দোষ বলেন। এসময় আমি কথোবকথনটি রেকর্ড করে রাখি। পরে ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার কাছে আমি তদন্ত কমিটির প্রধান আমাকে নির্দোষ বলেছেন বলে তাকে বলি। এ ব্যাপারে ওই সাংবাদিক আব্দুর রহিম খানের কাছে জানাতে চাইলে তিনি তা অস্বীবার করেন। পরে আমি প্রমাণ স্বরূপ রেকর্ডটি ওই সাংবাদিককে দিয়ে দেই। এভাবেই ফোনালাপটি ফাঁস হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো. শাহজাহান বলেন, এটি একটি পুরাতন ইস্যু। তবে ফোন আলাপটি ভাইরাল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। এজন্য তারা আন্দোলন করেছে এবং আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে পুনঃতদন্ত কমিটি গঠন ও আব্দুর রহিম খানের পদত্যাগের দাবিতে রেজিস্ট্রার-প্রক্টরের কাছে একটি পত্র দিয়েছে। আমি পত্রটি পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ফোনালাপটি ভাইরাল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মনে করছেন আগের তদন্তকারীদের তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে আবারো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পরে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত