ঢাকা, সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৪০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৮

প্রিন্ট

নকলের ভিডিও ভাইরাল

সেই দুই কেন্দ্র পরিদর্শককে আজীবনের জন্য অব্যাহতির সুপারিশ

সেই দুই কেন্দ্র পরিদর্শককে আজীবনের জন্য অব্যাহতির সুপারিশ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের ঘটনায় তদন্ত রিপোর্টে নকলের প্রমাণ মিলেছে। তাই ওই পরিক্ষা কেন্দ্র বাতিল ও দায়িত্বে অবহেলায় কেন্দ্রটির সচিব ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারকে তিরস্কার ও পরীক্ষা কেন্দ্রের দুই পরিদর্শককে আজীবনের জন্য পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ বেশ কিছু সপারিশ এসেছে তদন্ত রিপোর্টে ।

সোমবার বিকেলে এই তদন্ত রিপোর্ট সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব।

তদন্ত রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের সব কয়টি কক্ষে পরীক্ষার্থীরা নকলে মেতেছিলো। তাই এই কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ ও কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব শাহিনুর ইসলাম সাজুকে তিরস্কার ও কেন্দ্রটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নকলে বাধা না দেয়ায় এই কেন্দ্রের পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা গাছাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ববিতা আকতার ও ওসমানের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলীকে আজীবনের জন্য পরীক্ষা পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

‘পিএসসি পরীক্ষায় নকলে মজেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল সরবরাহের একটি ভিডিও প্রচার হয়। এরই মধ্যে ওই ভিডিও এবং সংবাদটি ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে এলে গত মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাঘাটা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীবকে প্রধান করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর সাজু মিয়া ও সাঘাটা উপজেলাশিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম।

তবে এই তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকেই এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে বলে সচেতন মহল দাবি করেছেন। এতে তদন্ত কীভাবে সুষ্ঠু হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

রোববার (২৪ নভেম্বর) সারাদেশের মতো গাইবান্ধায়ও পিইসির গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন সরেজমিন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা কেন্দ্রে যেন মাছের বাজার বসেছে। পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করতে শতশত অভিভাবক পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছেন। সময়-সুযোগ পেলেই শিক্ষার্থীদের হাতে নকল ধরিয়ে দিচ্ছেন তারা। নকল চলাকালে পরিদর্শকরা নীরব ভূমিকায় ছিলেন। অধিকাংশ পরীক্ষার্থী নকল করলেও কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ ওকামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব শাহিনুর ইসলাম সাজু কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত