ঢাকা, রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসির উন্নয়ন চাই না

  ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৪৩

ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসির উন্নয়ন চাই না
ছবি: প্রতিনিধি
ঢাবি প্রতিনিধি

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ নানা ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্ত্বর। সেই ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসির উন্নয়ন চান না সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

শুক্রবার বিকেলে 'ইতিহাস- ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসি'র উন্নয়ন চাই না' শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মন তমা।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন বলতেই বোঝানো হয় বিল্ডিং নির্মাণ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, কর্মচারীদের জন্য নির্মিত শেখ রাসেল টাওয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে সবগুলোই বিল্ডিং বানানো। শতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় একটা আন্তর্জাতিক মানের না হলেও গরিব দেশ হিসেবে উপমহাদেশের মধ্যে একটা অনন্য গবেষণাগার তৈরি করতে পারতো। একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরি নির্মাণ করতে পারতো। তা না করে টিএসসিকে বহুতলা ভবনে রুপান্তর করতে চাওয়া হচ্ছে। এটি সেই বিল্ডিং নির্মাণের উন্নয়নেরই একটি অংশ।

শিশু ও কথাসাহিত্যক রাখাল রাহা বলেন, রাষ্ট্রের একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা রয়েছে, সেখান থেকে যখন সিদ্ধান্ত আসে তা বাস্তবায়ন করা হয়। আমাদের ভয় হয় সেখান থেকে যেহেতু সিদ্ধান্ত নেয় হয়েছে, তাই কখন জানি টিএসসিকে ভেঙে ফেলা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানকলে নির্মিত ভবনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব ভবন দেখে মনে হয় এগুলো আমাদের ওপর থুতু দিয়ে বলছে তোমরা ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বলো, এই নাও তোমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য।

ইন্জিনিয়ার এ্যান্ড আর্কিটেক্ট ফর এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল রাজী বলেন, উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো সেখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশর ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন করা। আমাদের উন্নয়ন করতে হবে, তবে ইতিহাস-ঐতিহ্য ধ্বংস করে নয়, ইতিহাসের পায়ের চিহ্ন মুছে দিয়ে নয়। আর যদি এসব চিহ্ন মুছে ফেলা হয় তাহলে আমরা মৃত মানুষে পরিণত হবো।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রমান্বয়ে সংকুচিত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে চায়ের দোকানগুলো ১২টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। পলাশী, টিএসসির চায়ের দোকানগুলো ১০টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। চারুকলা অনুষদের ছবির হাট নামে একটা যায়গা ছিল, তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসরে মুক্তভাবে চলাফেরা করার যায়গাটা প্রশাসন এভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষদের শিক্ষার্থীকে অন্য অনুষদে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই বহিরাগত কালচারটা তৈরি করেছে প্রশাসন। এর কারণ হচ্ছে তারা শিক্ষার্থীদের মনন জগতকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আর মনন জগতকে নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে বড় ভাগ হচ্ছে তার সাংস্কৃতিক জগতটিকে মেরে দেয়া। এটি করতে হলে প্রয়োজন তার সংস্কৃতিক জগতের যে প্রাণকেন্দ্র, তাকে ধ্বংস করা।

এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিন কান্তি রায়, অনুগল্প লেখক মাহমুদ হক আরিফ, ওয়ালিদ আশরাফ প্রমুখ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত