ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২০:২৯

প্রিন্ট

দেশপ্রেম থাকলে বাংলাদেশে যাবেন না

দেশপ্রেম থাকলে বাংলাদেশে যাবেন না
মেহেদী হাসান সানী
মেহেদী হাসান সানী

চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে করোনাভাইরাস আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেছে। ভারত ও নেপালে একাধিক আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। চীন-বাংলদেশ নিয়মিত যাত্রী যাওয়া-আসার কারণে যে কোনো সময় বাংলাদেশেও পাওয়া যেতে পারে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী।

গত এক সপ্তাহের হিসেব অনুযায়ী চীন থেকে দুই হাজারেরও বেশি লোক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কিন্তু সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে আমাদের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আগত যাত্রীদের শুধুমাত্র একটি থার্মাল স্ক্যানার এর মাধ্যমে তাদের দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু দেহে তাপমাত্রা বেশি থাকলেই যে করোনাভাইরাস থাকবে এমনটা নয়।

করোনাভাইরাস কোনো লক্ষণ ছাড়াই ১৪ দিন মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। তো বাংলাদেশে যে ২০০০ লোক প্রবেশ করছে তাদের মধ্যে যে করোনাভাইরাস নেই সেটা শুধু দেহের থার্মাল স্ক্যান করে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান IEDCR যেখানে শুধুমাত্র এই করোনাভাইরাস এর টেস্ট করা যায় কিন্তু তাদের কাছে এই টেস্ট এর রি-এজেন্ট পর্যাপ্ত নয়। যদিও তারা ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে রি-এজেন্ট সরবরাহের জন্য আবেদন করেছে।

আমদের সবার নিশ্চয়ই গেল বছর ডেঙ্গু মহামরীর কথা মনে আছে, তখন প্রায় এক শ’র অধিক মানুষ ডেঙ্গু রোগে প্রাণ হারিয়েছিল। ডেঙ্গু আমাদের কাছে অতি সুপরিচিত একটি রোগ হওয়া স্বত্বেও এই রোগ মোকাবেলায় সরকারকে হিমসিম খেতে হয়। সে সময় মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ছিলো। কিন্তু করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ একটি নতুন ভাইরাস, যেটা কিনা মাত্র ২৮ দিন আগে সর্বপ্রথম ধরা পরে। এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায় এবং হাসি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি মুখ বা নাকের মাধ্যমে সাধারণত দেহে প্রবেশ করে। যার ফলে খুব দ্রুতই ভাইরাসটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

ধরুন একজন করোনাভাইরাস বাহিত রোগী গুলিস্থান, ফার্মগেট বা নিউমার্কেট এর মতো জনবহুল এলাকায় যেয়ে যদি একটা হাঁসি বা কাশি দেয় তাহলে বুঝতে পারছেন কি অবস্থা হবে? চারপাশের সবাই আক্রান্ত হবে, ব্যাপারটা কল্পনা করা যাচ্ছে না কতটা ভয়াবহ।

বাংলাদেশ এখন কোনোভাবেই এই ভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত না, যদি কোনোভাবে এই ভাইরাস বাংলাদেশ ঢুকে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ঢাকার মত একটা জনবহুল শহরে এই ভাইরাস ছড়াবে আলোর চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে। আক্রান্ত হতে পার লক্ষ মানুষ, মৃত্যুও হতে পারে অনেক মানুষের।

এজন্য যারা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, আপনারা একবার আপনার পরিবার আপনার দেশের মানুষের কথা ভাবেন, আপনি যদি কোনোভাবে এই ভাইরাস দেশে নিয়ে যান, প্রথমেই আক্রান্ত হবে আপনার পরিবার, আপনার কারণে মৃত্যু হতে পারে আপনার দেশের শত শত মানুষের। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার দেহে এই ভাইরাস নেই কিন্তু যদি থাকে তখন কি হবে? আপনি এখন হয়তো পরিপূর্ণভাবে সুস্থ কিন্তু দেশে যাওয়ার ১৫ দিন পরে ভাইরাস এর লক্ষণ আপনার দেহে দেখা দিলো, তখন কি হবে? না পারবেন চীনে ফিরতে না পারবেন বাংলাদেশে এই রোগের চিকিৎসা করাতে।

চীন ইতিমধ্যে এই ভাইরাসকে কন্ট্রোলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অনেক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে, ৬০ এর ও অধিক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং আপনি যদি চীনে থেকে আক্রান্ত হন ও চীন সরকার আপনার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্বসহ সব ব্যয় বহন করবে।

আপনি এই মুহূর্ত দেশে যাওয়ার মানে অনেকটা দেশের জন্য বিপদ বয়ে আনা, ব্যক্তি বিশেষ এর ক্ষেত্রে এটা ভিন্ন। অনেকেই বেশি আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছেন, সেক্ষেত্রে যদি দেশে যেতে চান তাহলে আপনি আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার শরীরে এই ভাইরাস নেই। এরকমটি করলে অবশ্যই একজন দায়িত্ববান দেশপ্রেমিক নাগরিকের পরিচয় দিবেন। আপনার এই ক্ষুদ্র আত্মত্যাগের কারণেই হয়ত বেচে যাবে বাংলাদেশর লক্ষ লক্ষ মানুষ, আপনার পরিবারের সদস্যরা।

তবে উহান শহর যেখানে এই রোগের উৎপত্তি, সেখানে অনেকে বলছে খাবার সংকট দেখা দিচ্ছে কিন্তু আমি যতটুকু জানি সেখানে কিছু মার্কেট খোলা আছে এবং সেখানে কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজার করার সুবিধা আছে, যদি সেটা না থেকে থাকে সেক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে ১০০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালে সব রোগী স্থানান্তর-এর পরে উহানের পরিস্থিতি ও মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উহান বাদে অন্য সব শহরের জীবন যাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক, বেইজিং-এর সব সুপার মার্কেট খোলা আছে। তবে বিভিন্ন শহরে মানুষ আতঙ্কিত এটাই বড় সমস্যা।

এজন্য আমি মনে করি এই পরিস্থিতিতে আপনারা চীনের যে যেখানেই থাকেন না কেনো মনোবল দৃঢ় করে যে যার জায়গায় অবস্থান করে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চীনে অবস্থানরত বাঙ্গালী যারা বিভিন্ন শহরে আটকা পড়েছে তাদের উদ্ধারের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেইজিং-এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছে। আশা করছি দ্রুতই একটি সুসংবাদ পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রেও যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে, দেহে ভাইরাস নেই এটা ১০০ ভাগ নিশ্চিত হয়েই দেশে নেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত হবে।

ইনশাল্লাহ দ্রুতই চীনের এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

লেখক: শিক্ষার্থী- পেকিং ইউনিভার্সিটি, বেইজিং, চীন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত