ঢাকা, শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৯

প্রিন্ট

কম্বোডিয়ায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজশাহীর ইসমাইল

কম্বোডিয়ায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজশাহীর ইসমাইল
ছবি: প্রতিনিধি

আবু দারদা যোবায়ের

কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন শহরের কালমেট হাসপাতালের আইসিইউতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি যুবক ইসমাইল। ভাগ্য বদলাতে দালালদের খপ্পরে পড়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সেদেশে গিয়েছিলেন। কাঙ্খিত চাকুরী তো জোটেনি বরং অনাহারে অর্ধাহারে ডে লেবারের কাজ জুটেছিল।

দৈনিক দশ থেকে বারো ডলারের মজুরিতে ফ্রান্সের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন। বর্তমানে যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রতিদিন সেখানে তিন থেকে চারশো ডলার খরচ হচ্ছে।

নমপেনে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম কর্মকর্তা ব্যবসায়ী এম এইচ কবির জানান, ইসমাইল হোসেনের চিকিৎসার জন্য তারা কমিউনিটির পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দূতাবাস তার চিকিৎসার ব্যয় কমানোর জন্য কেলমেট হাসপাতালে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এম এইচ কবির আরো জানান, ইসমাইলের চিকিৎসার জন্য সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা সাধ্যমত এগিয়ে এসেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ইসমাইল হোসেনের চিকিৎসায় আরও বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। ইসমাইল হোসেনের মেডিকেল ইন্সুরেন্স না থাকায় তার চিকিৎসা ব্যয় বেশি হচ্ছে।

এদিকে, রাজশাহীর গোদাগারী উপজেলার পাকড়ি গোয়াল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের বাবা নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ছেলে ইসমাইল প্রায় দুই বছর আগে চার লাখ টাকা খরচ করে কম্বোডিয়ার নমপেনে গিয়েছেন। চাপাইনবাবগঞ্জের এক দালালদের মাধ্যমে বিজনেস ভিসায় ইসমাইল ঐ দেশে গেছেন। এর আগে তার ছেলে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। তেইশ মাস সেখানে থেকে মাত্র অর্ধেক টাকা তুলতে পেরেছিলেন।

তিনি তার ছেলের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার জন্য প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

অন্যদিকে নমপেনে বৈধভাবে বসবাসকারী ও সে দেশে বিনিয়োগকারী একাধিক বাংলাদেশি দাবি করেছেন, দুই দেশের সরকারি পর্যায় ছাড়া দালাল বা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভিজিট কিংবা বিজনেস ভিসায় মানুষ পাঠানো বন্ধ করা না গেলে নমপেনের রাস্তায় ভাগ্যহত বাংলাদেশি তরুণ যুবকের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়ের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত