ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৯, ১৮:২৫

প্রিন্ট

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী বৃদ্ধি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী বৃদ্ধি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (২৮শে জুলাই) আনসান শহরের অঙ্গোগ দোংয়ে অবস্থিত বিদেশি আবাসিক সহায়তা কেন্দ্রের প্রধান হলে গোপালগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ কোরিয়ার (জিএএস কে) আয়োজনে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এতে যোগ দেন বাংলাদেশি ইপিএস কর্মী, ব্যবসায়ি, চাকরিজীবী, সমাজসেবীসহ বিভিন্ন পেশার কয়েকশ মানুষ। বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে আরো বেশি করে কোরিয়ায় আসতে পারে সে বিষয়ে তারা মত বিনিময় করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ও আলোচক ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় (সিউলে) বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। বিশেষ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস এর প্রথম সচিব (শ্রম) মকিমা বেগম।

প্রথমেই গোপালগঞ্জ আ্যসোসিয়েশন অফ সাউথ কোরিয়ার সাধারণ সম্পাদক ও এই আয়োজনের সমন্বয়কারী জনাব ডেভিড ইকরাম তার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্যানেল ডিসকাশনের কারণ উল্লেখসহ সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন।

প্রথম পর্বে প্যানেল ডিসকাশনের (সেমিনার) মূল বক্তব্য প্রদান করেন গোপালগঞ্জ আ্যসোসিয়েশন অফ সাউথ কোরিয়া’র সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন। তিনি দ্বিতীয় পর্বে প্যানেল ডিসকাশনের মডারেটর হিসেবেও পুরো আলোচনার পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনিতিবিদ আব্দুল মতিন, রফিকুল ইসলাম ভুট্টো, মুন্সী রফিকুল ইসলামসহ সাবেক সিনিয়র ইপিএস সদস্যরা। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশিষ্ট প্রবাসী গবেষক ডঃ নাজমুল হুদা।

প্যানেল ডিসকাশনের প্রথম পর্বে ছিল সমস্যা অনুসন্ধান করা। কোন কারণে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পিছিয়ে আছে তা অনুসন্ধান করা। ২য় পর্বে ছিল সমস্যাসমূহ সমাধানের উপায় বা পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত তা খুজে বের করা। ৩য় পর্বে ছিল, পদক্ষেপগুলো কিভাবে ফলপ্রসূভাবে কার্য করা যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে যাওয়া।

বাংলাদেশ দুতাবাসের লেবার উয়িংসের শেখ নিজামূল হক বলেন, মামলার কারণে কোরিয়ান মালিকেরা অনেক সময় ঝামেলায় পড়ে যান, কোরিয়ান মালিকেরা সব সময় খুব ব্যস্ত থাকেন। থানা পুলিশ করার সময় তাদের থাকে না। অনেকে নিজেদের কালচার প্রতিষ্ঠা করতে বা ডরমিটরিতে রান্না করার ব্যবস্থা না থাকলেও রান্না করতে চায় যেটা কোরিয়ান মালিকদের জন্য একটা বাড়তি বার্ডেন হয়ে দাড়ায়।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম জিএএসকেকে সময় উপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের আলোচনায় যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে তা যদি আমরা পরিহার করতে না পারি, শুধরাতে না পারি তবে ইপিএস পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত অন্য পনেরোটা দেশের সাথে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বো। কোরিয়ান কোম্পানি কিন্তু খালি থাকবে না, অন্য দেশের কর্মী এসে সেখানে ভরে যাবে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা না করে, যে কোম্পানিতে প্রথম এসেছেন সেটাতে যদি পুরো সময় থাকেন তাতেই বেশি লাভবান হবেন এবং বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেশি যাবে। বাংলাদেশি সকল ইপিএস কর্মীকে তাদের মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, অন্যান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ইপিএস কর্মীরা যতটুকু ত্যাগ স্বীকার করছেন তার চেয়ে আরো একটু বেশি ত্যাগ স্বীকার আমাদের করতে হবে। তারা যতটুকু সততা, বিশস্ততা দিচ্ছেন তার চেয়ে আরো সততা, বিশস্ততা দিতে হবে। তারা যতটা দক্ষতা, দায়িত্ববোধ দেখাচ্ছেন তার চেয়ে আরো একটু দক্ষতা, দায়িত্ববোধ প্রকাশ করে তাহলে অন্যান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর জায়গা বাংলাদেশি ইপিএস কর্মীরা এসে ভরে যেতে পারে। ফলশ্রতিতে, বিভিন্ন কমিউনিটিতে সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাবে, হালাল ফুড, ট্রাভেল এজেন্সি, দেশে টাকা পাঠানো অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা রমরমা হবে। প্রতি বছর বাংলাদেশের আরো অনেকগুলো পরিবার স্বচ্ছল হবে, বাংলাদেশিদের সুযোগ দেয় এমন কোরিয়ান কোম্পানিগুলোসহ কোরিয়া তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশাব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে ছিল কোরিয়ার নামকরা মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি জি-মানি ট্রান্স।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত