ঢাকা, রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ২০:২২

প্রিন্ট

‘সুখের খোঁজে’ বিচ্ছেদ

‘সুখের খোঁজে’ বিচ্ছেদ
সংগৃহীত ছবি

বিনোদন ডেস্ক

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আংটিবদল হয় শবনম ফারিয়া ও হারুন অর রশীদ অপুর। এরপর ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজন। সবশেষ চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর বিয়ের ঠিক ৬৬৫ দিনের মাথায় (এক বছর ৯ মাস) বিচ্ছেদ হলো এই দম্পতির। এখন তারা সম্পর্কে সাবেক।

তবে ফেসবুকে এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে সেটা খোলাসা করেছেন তারা, ‘যে সুখের জন্য আলাদা হলাম, সেই সুখ যেন আমরা খুঁজে পাই।’

শনিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুকে ফারিয়া লেখেন, মানুষের জীবন নদীর মতো। কখনও জোয়ার, কখনও ভাটা। কখনও বৃষ্টিতে পানি বেড়ে যায়, শীতকালে পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের জীবনেও এমনটা হয়! আমাদের জীবনে কিছু মানুষ আসে; কেউ কেউ স্থায়ী হয়, কেউ কেউ কিছু কারণে স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না! আমার মা সব সময় একটা কথা বলে, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না, আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি!’ ঠিক সেভাবেই আমি আর অপু অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করেছি একসাথে থাকতে! কিন্তু বিষয়টা একটা পর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে যায়!

ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরো লেখেন, ‘মানুষ কি বলবে’ ভেবে নিজেদের উপর একটু বেশিই টর্চার করে ফেলছিলাম আমরা! জীবনটা অনেক ছোট, এতো কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার কি দরকার’? এইটা ভেবে আমরা এ বছরের শুরু থেকেই সিদ্ধান্তে আসি আমরা আর একসাথে থেকে কষ্টে থাকতে চাই না! তাও বছর খানেক সময় নিয়েছি পরষ্পরকে বুঝতে! ফাইনালি ‘আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যেই করেন’ ভেবে আমরা আমাদের প্রায় আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে আবারো ৫ বছরের পুরানো বন্ধুত্বে ফিরে গিয়েছি। বিবাহে বিচ্ছেদ হয়, কিন্তু ভালবাসার বিচ্ছেদ নেই! বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ নেই! যতদিন বেঁচে আছি আমাদের ভালবাসা ও বন্ধুত্ব থাকবে!

শুধুমাত্র বৈবাহিক বন্ধন থেকে আমাদের সম্পর্কের ইতি টেনে নিলাম! এ ঘটনা আমাদের জীবনের গতি হয়তো রোধ করবে, ছন্দপতন করবে কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না!

অপুর জন্যে আমার অনেক অনেক দোয়া, ভালবাসা আর শুভ কামনা। আমরা যে সুখের জন্যে আলাদা হলাম আমরা যেন সে সুখ খুঁজে পাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

আরো পড়ুন: দাম্পত্য জীবনে শবনম ফারিয়া কি সুখী?

দয়া করে ‘মিডিয়ার বিয়ে টেকে না’ ধরণের কথা বলে আমাদের জন্যে আমাদের সহকর্মীদের ছোট করবেন না! আমরা সম্পূর্ণ ‘পারিবারিক কারণে’, পারিবারিক ভাবে, পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ের মতো ইনষ্টিটিউশন থেকে বের হয়ে এসেছি! আমাদের কখনও ভালবাসা কিংবা বিশ্বাসের অভাব ছিল না, হবেও না!

আর আমার প্রিয় সাংবাদিক ভাই/বোনদের উদ্দেশ্যে একটাই অনুরোধ, দয়া করে একটু মানবিকতার সাথে বিষয়টা দেখবেন! প্লিজ! দুজন মানুষের বিবাহ্ বিচ্ছেদ মানে, দুইটা পরিবারের বিচ্ছেদ, অনেক স্মৃতির বিচ্ছেদ! অনেক ভালো সময়ের সাথে বিচ্ছেদ এইটা কারো জন্য সুখকর অনুভূতি না! দয়া করে মুখরোচক অদ্ভুত সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের আর বিব্রত করবেন না! আমরা একে অন্যের উপর সম্পূর্ণ সন্মান বজায় রাখতে চাই! ধন্যবাদ! অপু-ফারিয়া

আরো পড়ুন: শবনম ফারিয়া-অপুর সংসার টিকলো ৬৬৫ দিন

প্রসঙ্গত, গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি চাকুরীজীবী হারুন অর রশীদ অপু। এদিন নৌকায় ভেসে ভেসে পরীর বেশে বিয়ের আসরে হাজির হলেন নববধূ শবনম ফারিয়া! অন্যদিকে একই সময়ে লেকের পাড় ধরে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে এলেন বর হারুন অর রশিদ অপু। এমন নান্দনিক বিয়ের আয়োজন এর আগে কোনো শিল্পীকে ঘিরে হয়নি আগে। মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গভীরে, নয়নাভিরাম ‘জল-জোছনা’য় উন্মুক্ত আকাশের নিচে আয়োজিত হয় এটি।

আরো পড়ুন: আমার স্বামী অক্ষম নয়: শবনম ফারিয়া

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত