ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে: সাফা কবির

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২০  
আপডেট :
 ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩৯

অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে: সাফা কবির
‘বলি’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে সাফা কবির
ইমরুল নূর

বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা মডেল ও অভিনেত্রী সাফা কবির এখন দর্শকমহলে তুমুল জনপ্রিয়। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে যেন ছন্দে ফিরেছেন। সকল সমালোচনা পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন আপন মনে। অন্যান্য অনেক অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে নানামাত্রিক চরিত্রে হাজির হয়ে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করছেন এবং হচ্ছেন প্রশংসিত।

ভারতের জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্ম হইচইয়ের জন্য নির্মিত নতুন একটি সিরিজে অভিনয় করছেন সাফা কবির। নতুন এই সিরিজটির নাম ‘বলি’ (BOLI- Bustard of lonely iland)। এটি পরিচালনা করছেন শংখ দাশ গুপ্ত। হইচইয়ের সঙ্গে এটি সাফা কবিরের প্রথম কাজ হলেও এটি তার তৃতীয় ওয়েব সিরিজ। এর আগে তিনি কাজ করেছেন ‘বাঘবন্দি’ ও ‘গন কেইস’ সিরিজে; যেগুলো দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

সাফা কবির বলেন, ‘প্রথমত, এই সিরিজটির কেন্দ্রীয় একটা চরিত্রে আমি অভিনয় করছি, যেখানে আমাকে ঘিরেই নানান কাহিনি ঘটে। গল্পটা খুবই চমৎকার আর আমার চরিত্রটাও দারুণ। একটা ছেড়া দ্বীপের কিংবা চরের গল্প; আর আমি হচ্ছে সেই দ্বীপের কন্যা। খুবই ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র। হইচইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। এই কাজটা নিয়ে আমি অনেক বেশি এক্সাইটেড।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো এত লম্বা সময় নিয়ে কোনো কাজ করিনি। আজকে আমি ১৪তম দিন শুটিং করছি এর, আরও প্রায় ৬ দিন কাজ করতে হবে। এটা আমার জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা। এখানে অনেক শিল্পীরা অভিনয় করছেন। আমি অনেক বেশি উপভোগ করছি কাজটা।’

কাজটি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ‘চিরকাল’ খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা এখনও কুয়াকাটাতে শুটিং করছি। এমনই এক জায়গাতে শুটিং করছি যেখানে কোনো যানবাহন আসা যাওয়া সম্ভব না। যার কারণে একটা স্পট থেকে আরেকটা স্পটে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২৫/৩০ মিনিট এবং সেই রাস্তা আমাদের সবাইকে হেঁটে হেঁটে যেতে হচ্ছে। দেখা গেলো যে কাঁদা পেরিয়ে হেঁটে হেঁটে আমাদেরকে যেতে হচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন সময়ে আমাদের অনেক শিল্পী-ই কিছুটা আহত হয়েছেন। অনেকে অনেক রকম ব্যাথা পেয়েছেন, সমস্যা ফেইস করছেন। কারো হাত-পা কেটে গেছে, কেউ পরে গিয়েছে পানিতে কিংবা কারো হাতে আগুন লেগে গিয়েছে; এরকম অনেক সমস্যার মধ্যেই পড়েছি আমরা। আমিও পায়ে ব্যাথা পেয়েছিলাম, হঠাৎ দেখি আমার পা থেকে রক্ত পড়ছে। তবে এখন ঠিক আছি। বলা যায় যে, আমরা এক প্রকার যুদ্ধ-ই করছি এখানে! শুধু আমরাই নয়, শুটিং ইউনিটের প্রায় ১৩০ জন সদস্যই অনেক কষ্ট করছেন কাজটির জন্য। কোনো পরিবহণ ব্যবস্থা ছাড়াই সবাই লাইট, ট্রলি, ক্যামেরাসহ যা যা জিনিসপত্র আছে সব নিজেদেরকে বহন করতে হচ্ছে।

এখানে জোয়ার-ভাটার একটা ব্যাপার আছে যেটা কিনা মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়। দেখা গেলো আমরা নৌকা নিয়ে শুটিং করতে গেলাম, ফেরার পথে নৌকা নিয়ে ফেরা যাচ্ছে না। কাঁদা পানিতে নেমে হেঁটে হেঁটে আসতে হচ্ছে! এরকম অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা সবাই কাজ করছি। খুব কঠিন পরিস্থিতি আর অনেক বাঁধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে এখানে কাজ করতে হচ্ছে। এখন রোদ তো আবার বৃষ্টি। বৃষ্টি হলে আবার এখানে শুটিং করা যাচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে যদিও অনেক কষ্ট হচ্ছে কাজ করতে তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সুন্দরভাবে কাজটি শেষ করার জন্য।’

গতকালের অভিজ্ঞতা যদি বলি, ‘আমি অনেক বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমরা জানতে পারি যে এখানে ঝড় শুরু হবে। তার ওপর আমাদের কল টাইম ছিলো ভোর ৫টায়। সময়মতো আমরা সেটে আসি। ওই সময়ে আমাদের দৃশ্য ধারণ করা হবে সমুদ্রের মাঝখানে। যখন আকাশ পরিষ্কার দেখলাম তখন আমরা নৌকা নিয়ে সমুদ্রের মাঝখানে চলে আসি। কিন্তু এখানে আসার পর দেখি আকাশের অবস্থা খুবই খারাপ, কালো হয়ে যেতে শুরু করলো আর সমুদ্রে ক্রমাগত ঢেউ শুরু হলো। এত বেশ ঢেউ যে আমরা নৌকাতে স্থির থাকতে পারছিলাম না। অনেক কষ্টে আমরা সমুদ্রের পাড়ে আসি কিন্তু নামতে পারছিলাম না। কারণ পাড়ে পানির নিচে বালি, পা দিলেই নিচে চলে যেতে হবে এমন। খুব বেশি ভয় পাচ্ছিলাম। জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে শুটিং করছি এখানে। খুবই খুবই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। আমি এর আগে কখনো এত বেশি ভয় পাইনি।

তারপরও বলবো, সবাই এত কষ্ট করে কাজ করছেন, একটা সুন্দর আউটপুটের জন্য। এরকম একটা কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। এটা আমার জন্য অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’

৭ পর্বের এ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। এছাড়া এখানে আরও অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন লাভ্লু, সোহেল মণ্ডল, সোহানা সাবা, মৌসুমি মৌ, ইরেশ জাকের, নাসির উদ্দিন, জিয়াউল হক পলাশ, লুৎফুর রহমান জর্জ প্রমুখ।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার অদূরে কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে সিরিজটির শুটিং। সেখানে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে শুটিং এর পরদিন হবে মানিকগঞ্জে। সেখানে ২ দিন শুটিং করার পর বরিশালে হবে বাকি অংশের শুটিং। ৫ অক্টোবর সিরিজটির ক্যামেরা ক্লোজ হবে। শুটিং শেষে চলতি বছরেই ‘বলি’ সিরিজিটি মুক্তি পাবে ওটিটিতে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত