ঢাকা, বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে

‘চেয়েছি জীবনের প্রথম চিত্রনাট্যের কাজটা যেন সুন্দর হয়’

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৬:০৩  
আপডেট :
 ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৪৭

‘চেয়েছি জীবনের প্রথম চিত্রনাট্যের কাজটা যেন সুন্দর হয়’
অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান
ইমরুল নূর

৮ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। ‘লাভ এক্সপ্রেস’, ‘মাই ইমোশনাল ওয়াইফ’, ‘ফেইক প্রেম’​সহ ৭টি নাটকে গল্পভাবনা ছিল এই অভিনেতার। কিন্তু এবারই প্রথম লিখলেন চিত্রনাট্য। নাটকের নাম ‘আমার বার্থ ডে’। শুধু গল্প, চিত্রনাট্য নয়, এখানে অভিনয়ও করেছেন তিনি নিজেই, সঙ্গে দেখা যাবে আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সহিদ উন নবী। কাজ, সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সেই আলাপচারিতার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

এখন অনেক অভিনয়শিল্পীরাই গল্পভাবনা এবং চিত্রনাট্য লেখায় মন দিয়েছেন। অবশেষে আপনিও নাম লেখালেন সেই তালিকায়। শিল্পীর লেখার ইচ্ছেটাকে আপনি আসলে কিভাবে দেখেন?

অনেস্টলি, আমি বিষয়টিকে একদম পজেটিভভাবেই দেখি। কারণ, একজন শিল্পী প্রতিনিয়তই নানামুখী গল্পের মুখোমুখি হচ্ছেন বা কাজ করছেন কিংবা চলার পথে অনেক গল্পেরই থিম পাচ্ছেন। এখন কেউ যদি সেটাকে বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে সেটা তো খুবই ভালো। আমার গল্পভাবনায় এর আগে কয়েকটা কাজ হয়েছে, খুব সম্ভবত ৭টি; কিন্তু চিত্রনাট্যে এবারই প্রথম।

গল্প কিংবা চিত্রনাট্য লেখা, এই ভাবনাটা কখন মাথায় আসলো?

অনেকদিন আগে থেকেই গল্প লিখছি, তবে সেটা একান্তই নিজের ভালো লাগা থেকে। নাট্যকার হওয়ার স্বপ্ন কখনোই নেই। লেখালেখি করার নেশাটা আগে থেকেই ছিল। মনের মধ্যে যখন কোনো গল্পের আনাগোনা চলে, তখনই লেখার চেষ্টা করি। ইচ্ছে আছে নিয়মিত লেখার। কারণ নিজের গল্পে কাজ করতে বেশ কমফোর্ট থাকা যায়, চরিত্রটা নিজে ধারণ করা যায় সহজেই। আমরা যারা অভিনয়শিল্পী তারা প্রতিনিয়তই কিন্তু নানান ধরণের গল্প ফেইস করি। নাট্যকার বা পরিচালকরা যখন আমাদেরকে গল্প (সিনোপসিস) পাঠায় আমরা সেগুলো পরে ‘হ্যাঁ’ বলার পর তারা চিত্রনাট্য প্রস্তুত করে পাঠায়, তারপর কিন্তু আমরা শুটিং করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে গল্পটা বা স্ক্রিপ্টটা আমাদের হাতে আসে হয়তো শুটিংয়ের দুদিন আগে কিংবা আগের দিন। অনেক চাপের মধ্যে থাকার কারণে কিন্তু এত কম সময়ে অনেক গল্প বা চিত্রনাট্য পড়া সম্ভব হয় না আমাদের জন্য।

আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিন অনেক গল্প জমা হয়। আমার কাছে প্রতিদিন প্রায় ৫/১০ টা গল্প আসে। সবগুলো তো আর পড়া সম্ভব হয় না। আমি সেগুলো জমিয়ে রাখি। আমার খুব কাছের ২/৩ জন বন্ধু আছে, যারা আমাকে এই বিষয়গুলোতে অনেক সহযোগিতা করে। যখন অনেক বেশি গল্প জমা হয়ে যায় তখন আমি আমার বন্ধুদেরকে নিয়ে একসাথে আড্ডায় বসি এবং কিছু গল্প আমি পড়ি, কিছু আমার বন্ধুদেরকে দেই, তারা সেগুলো পড়ে আমাকে জানায়। তারপর সেগুলো শুনে যেটা ভালো মনে হয় সেই গল্পটাকে ‘হ্যাঁ’ বলি এবং চিত্রনাট্য পাঠাতে বলি পরিচালককে। এরপর কাজ করি। গত ২/৩ বছর যাবত এরকমটাই করে আসছি আমি।

এরকম করতে করতেই এই গল্পটা আমার মাথায় আসে। আর এই প্ল্যানটা মাথায় আসে আমার জন্মদিনে, যখন আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন। তখন এই গল্পটা আমার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করি, আমার প্ল্যান শুনে ওরা বেশ খুশি হয়েছে। বলল, ‘হ্যাঁ, এটা দারুণ হবে।’ এরপর আমি সংলাপ, দৃশ্যগুলো বলি, আমার বন্ধুরা সেভাবে লিখতে শুরু করে। এরপর সেই স্ক্রিপ্টটা পরিচালক সহিদ উন নবীর সঙ্গে শেয়ার করার পর উনার বেশ পছন্দ হয় এবং উনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার আইডিয়া। এই গল্পটাতে আমি কাজ করবো, অন্য কাউকে দিও না।’। এরপর শুটিংয়ে নেমে পড়ি।

গল্পটা সম্পর্কে একটু জানতে চাই...

রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার। পুরো গল্পটা আসলে ‘২৫তম জন্মদিন’কে ঘিরে। গল্পে দেখা যাবে যে, ছেলেটা পুরান ঢাকার। তার ২৫তম জন্মদিনকে ঘিরে সে এলাকজুড়ে বিশাল এক আয়োজন করে। দিনটিকে ঘিরে ৭ দিন ব্যাপী আয়োজন করে বসে। পুরা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে ফেলে, কখনও ছাগলের বাজারে গিয়ে সব ছাগল নিয়ে এসে পড়ে, এলাকার সব বাবুর্চি জড় করে, মাইকিং করে এলাকাবাসীর সবাইকে দাওয়াত করে বসে। এরকম নানা কাণ্ডকারখানা করে, আর সবখানে গিয়ে বিল ধরায় যে এসবের বিল তার বাবা দেবে। ৭ দিন পর্যন্ত সবাইকে দাওয়াতই দেয়। এরপর শেষদিকে গিয়ে দর্শকরা একটা টুইস্ট পাবে, দর্শকরা মজা পাবে আশা করি।

নিজের গল্পে, চিত্রনাট্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

মোটামুটি ৮ বছর হলো এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। অনেক বেশি না হলেও কিছু অভিজ্ঞতা তো অর্জন করেছি। অনেক গল্পে কাজ করা হয়েছে। সেই জায়গা থেকে একটু হলেও বুঝতে পেরেছি কোন ধরনের গল্পগুলো দর্শকরা পছন্দ করবে, কোনগুলো করবে না। সেই জায়গা থেকে মনে হলো এই গল্পটাকে আমি পূর্ণতা দিতে চাই, এটা সুন্দরভাবে করতে পারলে দর্শকরা পছন্দ করবে আমার বিশ্বাস। পরিচালক, প্রযোজক গল্প এবং আমার পরিকল্পনা শুনে বেশ পছন্দ করেছেন। এরপর আমি গত কয়েকদিন ধরে শুধু এই গল্পটার ভিতরেই রয়েছি। আমি চেয়েছি, আমার জীবনের প্রথম চিত্রনাট্যের কাজটা যেন খুব গোছালো ও সুন্দর হয়। এরজন্য যতটুকু এফোর্ট দেওয়া প্রয়োজন আমি দিয়েছি। এর পিছনে অনেকটা সময় দিয়েছি। সচরাচর দুইদিন শুটিং করলেও এটার জন্য আমি তিন দিন শুটিং করছি। এছাড়াও পরিচালক, প্রযোজক, সহশিল্পী, ক্যামেরাম্যান সবার সঙ্গে বসেছি, বসে প্ল্যান করেছি কিভাবে কি করলে কাজটা ভালো হয়! সবাই অনেক সাপোর্ট করেছে, আমি গ্রেটফুল সবার কাছে। মোটকথা, কাজটা যেন ভালো হয়।

নিজের চিত্রনাট্য বলে এতটা এফোর্ট দিয়েছেন। অন্যদের হলে কি সে চেষ্টাটা থাকে না?

না। বিষয়টা ঠিক তেমন না। এটা তো সত্য যে, নিজের কষ্টের জিনিসের প্রতি সবারই কিন্তু একটা অন্যরকম ভালোবাসা থাকে। অন্যদের স্ক্রিপ্টেও যখন কাজ করি তখনও কিন্তু এফোর্ট দিয়েই কাজ করি। কিন্তু সেক্ষেত্রে হয় কি, অনেক সময় স্ক্রিপ্টগুলো আমাদের হাতে আসে একদিন কিংবা দুদিন আগে; তখন কিন্তু সেটা নিয়ে ওভাবে বসাও হয়না বা হোমওয়ার্কও করা সম্ভব হয় না। কিন্তু আমি যখন সময় নিয়ে একটা বিষয়বস্তুকে আমার মধ্যে ধারণ করবো, তখন কিন্তু সারাক্ষণ সেটা আমার মাথার মধ্যেই থাকবে। তখন সেটা নিয়ে কাজ করতেও অনেক সুবিধা হবে। আমার মাথায় যখন পুরো গল্পটা থাকবে তখন কোনকিছু মিস হলেও কিন্তু সেটা আমি ধরতে পারবো। এতে করে ইনভল্বড থাকা যায়।

এখন থেকে নিয়মিতই চিত্রনাট্য লিখবেন নাকি এটা শুধু শখের বসে...

এই কাজটা যদি সাকসেসফুল হয় তাহলে অবশ্যই সামনে আরও লিখবো। আরও কিছু গল্প মাথায় রয়েছে, সেগুলো সামনে করার ইচ্ছে আছে। যদি ভালো রেসপন্স পাই তাহলে নিয়মিত করবো।

সামনের ব্যস্ততা...

আজকে তো ‘আমার বার্থ ডে’ এর শুটিং করছি। এরপর পূজার কিছু কাজ করা হবে। আমাদের ব্যস্ততা কিন্তু ঈদ, ভালোবাসা দিবস কিংবা পূজাকে ঘিরেই বেশি থাকে। এছাড়া অন্যান্য সময় এতটা চাপ থাকে না। আর আমি তো একটু বিরতি দিয়েই কাজ করি, এই তো।

অনেকেই এরইমধ্যে ওটিটিতে কাজ করছেন। ‘মরীচিকা’র পর আপনাকে আর এই মাধ্যমে পাওয়া যায়নি কেন?

সত্যি বলতে আমি নাটকটাকেই অনেক বেশি ভালোবাসি, যার কারণে ওটিটি আমাকে খুব বেশি একটা টানে না। ‘মরীচিকা’ করেছিলাম, ভালো সাড়া পেয়েছি; এরজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আর এই মাধ্যমটাতো এখনও নতুন, সামনে তো আরও অনেক সময় আছে। দেখা যাক কি হয় সামনে। কিন্তু আমার নাটকেই ভীষণ ভালো লাগে। আমি অনেক বেশি উপভোগ করি এই জায়গাটাতে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত