ঢাকা, শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

আমাদের নির্মাতারা ‘আউট অব দ্য বক্স’ গল্প ভাবার ক্ষমতা রাখে: মিথিলা

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৬:১৬  
আপডেট :
 ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৪৬

আমাদের নির্মাতারা ‘আউট অব দ্য বক্স’ গল্প ভাবার ক্ষমতা রাখে: মিথিলা
জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা
ইমরুল নূর

‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ -কথাটি তার জন্য একদম যুতসই। স্বামী, সংসার ও সন্তান; নিজেকে শুধু এই তিন ‘স’ তে আবদ্ধ রাখেন নি, রূপে, গুণে আর অভিনয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন এক অনন্য মাত্রায়। বলছিলাম, নন্দিত মডেল ও অভিনেত্রী মিথিলার কথা। পুরো নাম রাফিয়াত রশীদ হলেও মিথিলা নামেই তিনি সর্বজন পরিচিত। অভিনেত্রীর বাইরেও তিনি একজন গবেষক, শিক্ষক, কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার। শুধু তাই নয়, তিনি একজন লেখক এবং উন্নয়ন কর্মীও। গবেষণা বিষয়ক লেখালেখির পাশাপাশি শিশুদের জন্য বই লিখেন তিনি। এক নামের পাশেই যার এত পরিচয় তার গুণ সম্পর্কে আর নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষাই রাখে না।

অভিনয়ের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ার, কিন্তু সিনেমাতে নাম লিখিয়েছেন সদ্যমাত্র। তাকে নিয়ে আগে সিনেমা নির্মাণের বহু চেষ্টা করেছেন অনেকেই কিন্তু পারেননি। তার একটাই উত্তর ছিলো ‘এখনই না’। কিন্তু যখনই সিনেমাকে ‘হ্যাঁ’ বললেন, তখন থেকেই একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব আসছে তার কাছে। যে পরিমাণে নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পান, ঠিক সে পরিমাণেই সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছেন এখন তিনি। নাম লেখানোর ছয় মাসেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন পাঁচ সিনেমায় আর ফিরিয়ে দিয়েছেন তার চেয়েও অনেক বেশি। সর্বশেষ মিথিলা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘জলে জ্বলে তারা’ তে। অরুণ চৌধুরী পরিচালিত এ সিনেমাতে মিথিলার বিপরীতে থাকছেন এফ এস নাঈম। সিনেমা, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় জনপ্রিয় এ তারকার সঙ্গে। সেই আলাপচারিতার চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রথমেই নতুন সিনেমাটি ‘জলে জ্বলে তারা’ সম্পর্কে জানতে চাই...

গল্প কিংবা চরিত্রটি নিয়ে এখনই অনেক বেশি কিছু বলবো না। তাহলে দেখা যাবে যে সাসপেন্সটাই থাকবে না। ‘জলে জ্বলে তারা’ হচ্ছে একটি নদী ও নারীর গল্প। গল্পের নারীর নাম তারা। এই সমাজে একটা শিশু থেকে নারী হয়ে উঠার মধ্যে যে কিরকম যাঁতাকলে পড়ে; ঠিক সেরকমই একটা গল্প। বলা যায়, নারীর নিষ্পেষিত হওয়ার গল্প।

কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কেরায়া’ গল্প থেকে ছবিটির কিছু অংশ অনুপ্রাণিত, তবে পুরোটা নয়। এই গল্পটা একদমই আলাদা। ‘জলে জ্বলে তারা’র তারার গল্প। আমি সেই ‘তারা’ চরিত্রটি করছি।

এই সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার কারণ কি?

নারীপ্রধান গল্প; এটা একটা কারণ। আমি তো এত বেশি নিয়মিত অভিনয় করি না, যখনই করি তখনই চাই এই ধরণের গল্পগুলোতে কাজ করতে। সহজভাবে যদি বলি, নারীপ্রধান গল্পগুলোই আমাকে বেশি টানে। এই ধরণের গল্পগুলোতে অভিনয়ের অনেক জায়গা থাকে, এ কারণে কাজ করে আমিও অনেক বেশি আনন্দ পাই। এখানে সেগুলোর সবকিছুই পেয়েছি যার কারণে কাজটি করতে রাজি হওয়া। আরেকটা কারণ হচ্ছে এখানের ‘তারা’ চরিত্রটির মত গ্রামীণ কোনো চরিত্র এর আগে করিনি কখনও, সবসময় আরবান চরিত্রগুলোই করা হয়েছে বেশি। এখানে আমার জন্য নতুনত্ব আছে, অন্যরকম কিছু করতে পারবো। দর্শক আমাকে নতুনভাবে দেখবে।

আপনার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য এতটা সময় নিলেন কেন? এই সময়ে এসে সিনেমার কোন বিষয়টি আপনাকে মুগ্ধ করেছে?

সত্যি বলতে আমি তো মূলত টেলিভিশনের শিল্পী। সবসময় টেলিভিশনেই অভিনয় করেছি। কিন্তু আমি কখনোই ভাবিনি যে, সিনেমাতে অভিনয় করবো বা করতে পারবো। অভিনয়ের বাইরে আমার আরেকটা পেশা রয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যুক্ত আছি, প্রতিষ্ঠানটির আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসাবে কর্মরত আছি। সেখানেও কিন্তু আমার দীর্ঘ ক্যরিয়ার। যেহেতু আমি সে প্রোগ্রামটির প্রধান, আমার অনেক দায়িত্ব, অনেক কাজ। অফিসের কাজের প্রচন্ড চাপ থাকে, এছাড়া বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু অনেক বেশি চাপের মধ্যেই থাকি আমি। আগামী মাসে আবার দেশের বাইরে যেতে হবে।

যেহেতু শিশুদের নিয়ে কাজ করি সেখানে অনেক মানুষ, অনেক ইনভেস্টর থাকে। অনেক দায়িত্ব আমার, অফিস মানেই যে আসা-যাওয়া; তেমন না। আমাকে প্রোগ্রাম প্ল্যান করতে হয়, প্রোগ্রাম ডিজাইন থেকে শুরু করে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় আমার। তারপর ভ্রমণ করতে হয় অনেক। আফ্রিকার ৬টি দেশে আমার প্রজেক্ট চলে। এসব দেশগুলোতে আমার নিয়মিত যেতে হয়। এরকমও হয় যে, প্রতি মাসেই আমাকে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে। এরকম দায়িত্বশীল একটা পদে থেকে এত ব্যস্ততার মধ্যে আমি কখনও সিনেমার জন্য সময় বের করতে পারবো, সেটাই কখনও ভাবিনি। কারণ, সিনেমা করতে গেলে লম্বা একটা সময় ধরে সেটার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। সেটা আমার দ্বারা কখনও হবে না। যার কারণে এতদিন ভাবতেও পারিনি আর করিনি।

প্যান্ডামিকের কারণে দেশের বাইরে আমার ভ্রমণ গত দুই বছর ধরে বন্ধ থাকায়, এই সময়টাতে আমরা সবাই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ অফিস করছি। এই সময়টাতে ভাবলাম যে, এখন দুয়েকটা সিনেমা করা যায়। এরমধ্যেই অনন্য মামুনের সিনেমাতে নাম লেখালাম। এরপর তো একে একে অনেক প্রস্তাব আসতে লাগলো।

আগে শুনেছি, সিনেমার শুটিং অনেক লম্বা সময় নিয়ে হয়। এখন কিন্তু এত বেশি সময় লাগে না। কলকাতাতেও অনেক কম সময়েই সিনেমার শুটিং শেষ হয়ে যায়। মাত্র ১৭ দিনেও পুরো শুটিং শেষ হয়ে যায়। তাহলে পুরো সিনেমা যদি ১৭ দিনে শেষ হয়, সেখানে আমার তো আর ১৭ দিন থাকে না, আরও কম থাকে। দেখা যায় যে, ভেঙে ভেঙে কাজগুলো করা যায়। অনেক বেশি সময় দিতে হয় না এখন। দেশেও কিন্তু আমরা অনেক কিছু গুছিয়ে এনেছি, অনেক সময় দিতে হয় না। যার কারণে এখন সময় দেওয়াটা সম্ভব হচ্ছে। মূলত সময়ের জন্যেই তো এতদিন পারিনি। এখন ট্রাভেলিং বন্ধ থাকার কারণে সময়টা বের করতে পেরেছি, যার কারণে আসলে সিনেমা করা।

সিনেমাতে নাম লেখানোর ৬ মাসেই ৫ টি সিনেমাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন (অনন্য মামুনের ‘অমানুষ’) (রাজর্ষি দে’র ‘মায়া’) (অরুণাভ খাসনবিশের ‘নীতিশাস্ত্র’) (রিঙ্গো ব্যানার্জির ‘আ রিভার ইন হ্যাভেন’) ও (অরুণ চৌধুরীর ‘জলে জ্বলে তারা’)। এখন সামনের পরিকল্পনা কি শুধুই সিনেমা?

সত্যি বলতে কি, সিনেমার কাজ শুরু করার পর যে এত বেশি সিনেমার প্রস্তাব আসবে এটা আমি বুঝতেই পারি নি। অনেক অফার পাচ্ছি, ভিন্ন ভিন্ন গল্পের। আমি আসলেই অবাক। তবে যা স্ক্রিপ্ট পেয়েছি সবগুলো যে করব তা না, এরমধ্যে বেছে বেছে কিছু হয়তো করবো। কিছুদিন পর আবার ভ্রমণ শুরু হয়ে যাবে আমার। তখন হয়তো এখনের মতো বছরে ৫/৬ টার মত সিনেমা করতে পারবো না। তখন সংখ্যাটা একটু কমে যাবে। এখন তো সবে শুট শেষ করলাম। এগুলো রিলিজ হলে দর্শকরা কিভাবে গ্রহণ করে সেটাও দেখার বাকি। দেখা যাক কি হয়!

আপনি চাকুরী করছেন, এর ফাঁকে সংসারও সামলাচ্ছেন। আমরা জানি সিনেমা মানেই বড় ক্যানভাস, এর জন্য দীর্ঘ প্রস্ততির বিষয় থাকে, লম্বা সময় নিয়ে কাজ করতে হয়। সবকিছু সামলাচ্ছেন কিভাবে?

সবকিছু সামলাতে কষ্ট তো হচ্ছেই। বহু বছর ধরেই কিন্তু এটা করে আসছি। আমি লেখাপড়া শেষ করেই কিন্তু সাথে সাথে চাকরীতে জয়েন করি। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এটা কন্টিনিউ করছি, পাশাপাশি অভিনয় করতে ভালোবাসি বলে সেটাও করছি। সে সময়টাতে আমি আমার সংসারম সন্তানকে প্রায়োটাইজ করেছি, অভিনয়টাকে প্রায়োটাইজ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু অভিনয়টাকে ফুলটাইম প্রায়োটাইজ করতে পারিনি, নাহলে আমার সিনেমাতে আসতেও এত সময় লাগতো না। আমি আসলে জানি না, হয়ে গেছে। এত বছর ধরে ব্যালেন্স করে চলতে চলতেই হয়ে গেছে ব্যাপারটা।

আমি খুবই আত্মনির্ভরশীল একটা মানুষ, কারও ওপর নির্ভর করে থাকতে পছন্দ করি না। নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি। নিজের পারিশ্রমিকের টাকা নিজে খরচ করতে পছন্দ করি, সারাজীবন এটাই করে আসছি। সব ব্যালেন্স করে আমি শুধু নিজেরটুকু নিয়েই থাকি। এবং আমি প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে পারি, কাছ থেকে কেউ না দেখলে সেটা বুঝতে পারবে না। আমি আড্ডাবাজি করতে পারি না, পরচর্চা করতে পারি না। এগুলো করার সময়ই নেই আমার। আমি নিজের ওপরেই ইনভেস্ট করি, অন্যের জীবন নিয়ে ভাবার সময়ও নেই আমার। এটা আগে বুঝতাম না, এখন বুঝি। মিডিয়া কিংবা মিডিয়ার বাইরেও অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করে ‘হাউ ডু ইউ ম্যানেজ অল দিজ?’। আমার ব্রেইনটাও এরকম হয়ে গেছে।

আমি শুটিং করছি বলে আমার অফিসের কোনো মিটিং মিস হবে না, ব্রেক নিয়ে আমি আমার মিটিংয়ে জয়েন করবো এরপর শেষ করে আবার শটে যাবো। শুটিং করছি বলে আমার অফিসের কাজ কখনোই পিছিয়ে থাকবে না, এটা কখনোই না। আমি কখনও আমার অফিস মিস করি নি, আমার কোনো ডেডলাইন মিস করি নি। কখনও কোনো কমিটমেন্ট মিস করি নি। সেটার জন্য তো আমাকে অনেক পরিশ্রম করতেই হয়।

এতকিছু সামলাতে গিয়ে কখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন কি?

আমি মানসিকভাবে অনেক স্ট্রং। আগে হয়তো অনেকসময় বুঝতাম না। আগে যখন কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তা হত বা ডিপ্রেশনে যেতাম তখন সেটা আইডেন্টিফাই করতে পারতাম না। একটা মেয়ের কোলজুড়ে যখন সন্তান আসে, তখন সেটাই কিন্তু তার ফুলটাইম জব। আইরা জন্ম নেওয়ার পর তাকে সময় দেওয়া, এরপর আমার চাকুরী করা, সবই করেছি। আইরার যখন ১ বছর বয়স তখন আমি ব্র্যাকে মাস্টার্স করছিলাম। পাশাপাশি চাকুরী তো আছেই। এই সময়ের মধ্যেই আমার সবকিছু দেখশোনা করতে হতো। ওই সময়টাতে আমি মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতাম, ডিপ্রেশনে পড়ে যেতাম। কিন্তু এখন সেটা আইডেন্টিফাই করতে পারি, মাঝে মাঝে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এরজন্য আমার কাউন্সিলর আছে যিনি আমাকে কাউন্সিলিং করেন। আগে সেসব বুঝতামই না। এখন মানসিকভাবে কোনো দুশ্চিন্তায় পড়লে কাউন্সিলিং করি, একটু বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করি যেন আমি আবার পূর্ণ উদ্দোমে আমার কাজগুলো করতে পারি। বছরের পর বছর এভাবে চর্চার মধ্যে থাকার কারণে একদম প্রোগ্রামাইজড হয়ে গেছি।

আমি সারাক্ষণ শুধু প্রোডাক্টিভ, কন্সট্রাক্টিভ কিছু করার চিন্তাভাবনা করি। সারাক্ষণ শুধু মাথায় এটা ঘোরে। গত বছর আমি যখন কলকাতায় গেলাম, একে তো লকডাউন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম অফিস করছি। তখনও কোনো শুটিং শুরু করিনি। সারাক্ষণ অস্থির লাগতো। এরপর ভাবলাম, কিছু একটা করতে হবে। আমার বাসার ছাদটা ফাঁকা পড়ে ছিলো, সেখানে আমি বাগান করলাম। বাগান করতে করতে একটা সময় সেখানে একশ’র ওপরে গাছ হয়ে গেলো। এখন আমার বাগানের গাছগুলো আমার চেয়েও অনেক লম্বা হয়ে গেছে। টমেটো, কাঁচামরিচ, ধনে পাতা, পেঁয়াজ; এগুলোর কোনো কিছু কিনে খেতে হয়নি আমাকে। সারাক্ষণ ক্রিয়েটিভ কিছু করার তাড়না থাকে আমার। বরং যখন কোনো কাজ থাকে না তখন আমি টেনশনে পড়ে যাই।

আপনি তো নাচেরও শিল্পী, গানেরও শিল্পী। আপনাকে কি কখনও নাচ-গানের সিনেমায় দেখা যাবে?

মূলধারার কিংবা বাণিজ্যিক সিনেমা আমার মানসিকতার সঙ্গে যায় না। সেজন্য সেটা করার কথা আমি কখনোই ভাবি না। এখন যে ধরণের গল্পনির্ভর কাজ হচ্ছে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম হচ্ছে; এ ধরণের কাজগুলো আমাকে বেশি টানে।

আর আমি তো আসলে ওভাবে নাচের শিল্পী না। আমি ৪/৫ বছর নাচ শিখেছি। কত্থক, ভারত নাট্যম, মনিপুরী এগুলো শিখেছি আমি। এখন সেরকম নাচ-গানের সিনেমা হলে আমি করতে পারবো কিনা আমি জানি না। ‘অমানুষ’ সিনেমায় কমার্শিয়াল একটা গান আছে, যেখানে হালকা একটু নেচেছি আমি। একদম কমার্শিয়াল নাচ-গানের সিনেমা আমি করতে পারবো বলে মনে হয় না। আমি পারবোই না।

কলকাতার সিনেমা করলেন সেখানকার গল্প বলার ধরণ আর আমাদের নির্মাতাদের নির্মাণ প্যার্টার্ণ টেস্ট কেমন?

দুই দেশেই এখন ভালো ভালো গল্পে কাজ হচ্ছে, গল্প বলার ক্ষমতাও বেশ ভালো। তবে কলকাতায় যেটা দেখলাম, সেখানে সাহিত্যনির্ভর, বইয়ের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন থ্রিলার গল্পে কাজের প্রবণতাটা অনেক বেশি। আমাদের দেশেও কিন্তু আউট অব দ্য বক্স কাজ হচ্ছে, আমাদের নির্মাতারাও আউট অব দ্য বক্স গল্প ভাবার ক্ষমতা রাখে। আমাদের এখানে সাহিত্যনির্ভর কাজ খুব একটা হয়না, কিন্তু আমাদের কাজগুলো খুব ইউনিক হয়। যেমন- মহানগর, তাকদীর। আমাদের অনেক বেশি ইনভেন্সট্মেন্ট দরকার, টেকনিক্যাল দিকগুলোতে আরও অনেক বেশি সাপোর্ট দরকার। আমাদের দেশে নারীকেন্দ্রিক গল্পের কাজ কম, এই দিকটাতে পরিচালকরা জোর দিতে পারেন।

আপনি তো বহু গুণে গুণান্বিত। অভিনয়ের কারণে আপনাকে গানে কিংবা নাচে এখন আর পাওয়া যায় না। সামনে এমন কিছুতে পাওয়া যাবে কি?

আমি তো শখের গায়িকা। শখের বশে গান গাই, এটা আমার পেশা না। মাঝে মধ্যে গিটার বাজাই, গান গাই; এরপর হয়তো সেগুলো আপলোড দেই। গান নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। অভিনয় নিয়েই তো কোনো পরিকল্পনা থাকে না, সেখানে গান তো অনেক দূরে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত