ঢাকা, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে

‘শিডিউল প্রয়োজন ত্রিশ দিন, পরিচালকরা রেখে দিতো ৯০ দিন’

  ইমরুল নূর

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:০৪  
আপডেট :
 ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:১৩

‘শিডিউল প্রয়োজন ত্রিশ দিন, পরিচালকরা রেখে দিতো ৯০ দিন’
চিত্রনায়ক রিয়াজ
ইমরুল নূর

৪৮ পেরিয়ে ঊনপঞ্চাশ বসন্তে পা রাখলেন ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ। পুরো নাম রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক হলেও সবার কাছে তিনি রিয়াজ নামেই পরিচিত। অভিনয় গুণে নিজস্বতায় নিজেকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন এই নায়ক। তাকে ছাড়া ঢাকাই সিনেমার ইতিহাস অসম্পূর্ণ। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, নিজস্বতায় তিনি অন্যান্য অনেক নায়কের চেয়ে এগিয়ে। সিনেমার ইতিহাসে তিনি যেন এক মুক্তার মালা।

আজ মঙ্গলবার এই নায়কের জন্মদিন। ১৯৭২ সালের আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরোতেই ভক্ত অনুরাগীসহ সহকর্মীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। দিনটিতে তেমন কোন আয়োজন না থাকলেও পরিবারের সঙ্গেই দিনটি উদযাপন করবেন তিনি। গেল বছরে এই নায়ক তার সিনেমা ক্যারিয়ারের রজত জয়ন্তী অতিবাহিত করেছেন। সম্প্রতি তার ক্যারিয়ার, সিনেমা ছেড়ে দেওয়া ও নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সেই আলাপচারিতার প্রথম পর্ব পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো...

আপনার সিনেমায় আসার গল্পটা বিভিন্নজনের কাছে বিভিন্নভাবে শুনেছি, চিত্রনায়িকা ববিতা আপনার বোন হওয়ার সুবাদে আপনি সহজেই সিনেমাতে সুযোগ পেয়েছেন বলে শোনা যায়। আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই সঠিকটা...

আমরা যশোরের মানুষরা অনেক ইন্ট্রোভার্ট, নিজেদের কথা খুব কম বলতে পছন্দ করি, বলা হয় না। ববিতা আপা আমার কাজিন হয়। কাজিন বলে বলছি না, উনি মানুষ হিসেবে অসাধারণ। আমাদের দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন নায়িকা বলতে ববিতা আপাকেই বুঝি। আমার কাছে কেন জানি মনে হয়, ববিতা আপার মত পার্সোনালিটি এখনকার খুব কম নায়িকার মধ্যেই আছে। অনেক সুপারস্টার নায়িকা আছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে, কিন্তু ওই পার্সোনালিটিটা নেই। একটা মানুষের অনেকগুলো গুণের মধ্যে যেটা সবচেয়ে অনন্য বলে মনে করি সেই ‘পরিবারের প্রতি কমিটমেন্ট’, এই গুণটা উনার মধ্যে শতভাগ ছিলো, যার কারণে আমি বলতে পারি, ‘সি ইজ অ্যা ওয়ান্ডারফুল লেডি’। উনার সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। আমি অনেক গর্বিত। উনি আমাকে অনেক আদর করেন। আমি যখন অসুস্থ থাকতাম, কাজের মধ্যেও তিনি নিয়মিত আমাকে দেখতে যেতেন।

আর সিনেমায় আসার ব্যাপারে ববিতা আপা ওইভাবে কিছু বলে নি আমাকে। আমি মাঝেমাঝে এফডিসিতে উনার শুটিং দেখতে যেতাম। সেখানে গিয়ে জসিম ভাইয়ের (চিত্রনয়ায়ক জসিম) সঙ্গে পরিচয় হয়। উনি আমার মাথার মধ্যে সিনেমার এই পোকাটা ঢুকিয়ে দেন। উনি আমাকে বলেন, করবা নাকি? প্রস্তাবটা আসলে জসিম ভাইয়ের কাছ থেকেই পাই। সেখান থেকেই শুরু। একটাই কাজ করেছিলাম উনার সঙ্গে ‘বাংলার নায়ক’ ১৯৯৫ সালে। এরপর আর আমাদের কাজের সুযোগ হয়নি।

চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারের জন্য জসিম ভাই ছিলেন আমার বিগ মেন্টর। এই নামটাই আমার কাছে একটা ইমোশনের জায়গা। উনি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। চলচিচত্র সম্পর্কে, একজন শিল্পীর কেমন ব্যবহার হওয়া উচিত, কার সঙ্গে কিভাবে ডিল করতে হবে; এরকম অনেক কিছুই উনি আমাকে শিখিয়েছেন। অভিনয়ের অনেক খুঁটিনাটি, ফাইটিং সবকিছু হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। উনাকে দেখে দেখেই আমার শেখা। উনার শুটিং হলে উনি আমাকে ডাকতেন, আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম। একজন শিল্পীকে তৈরি করার এই বিষয়টা জসিম ভাই করে দিয়েছিলেন। আমি যখন শুটিং করতে গেলাম তখন খুব একটা সমস্যা হয়নি। জসিম ভাই না থাকলে সেটা কখনোই সম্ভব হতো না।

১৯৯৫ সালে আপনার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু, ওইসময়টাতে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও অনেক নায়ক ছিলেন। সেসময় আপনার স্ট্রাগল পিরিয়ডটা কেমন ছিল?

আমার প্রথম সিনেমা ‘বাংলার নায়ক’ মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। এরপর ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ মুক্তি পায় ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে, এটিই আমার প্রথম হিট সিনেমা। আমার ক্যারিয়ারে প্রথম হতাশার জায়গা ছিলো ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমাটি । ছবিটি নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলাম কিন্তু সে অর্থে কিছুই হয়নি। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ছবিটার শুটিং অনেকদিন করার পর গিয়ে জানতে পারি যে, ছবিতে আরেকজন নায়ক আছে সেটা হচ্ছে জসিম ভাই। তখন তো ছবি সম্পর্কে আমার তেমন কোনো আইডিয়া ছিলো না, আমি ভেবেছিলাম যে আমি-ই আছি। আমি ছিলাম সেকেন্ড হিরো। পরে ছবিটা নিয়ে যেমনটা আশা করেছিলাম তেমন হয়নি। আমি আসলে শখের বশে এক-দুইটা ছবি করতে আসছিলাম। ওইসময়টাতে কখনও কোনো কিছুতে তো ব্যর্থ হইনি, এই ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে চলে যাওয়াটা ঠিক হবে না ভাবছিলাম। তখন মনের মধ্যে একটা জিদ আসলো। ‘বাংলার নায়ক’ শুটিং চলাকালীন সময়েই দীলিপ বিশ্বাসের ‘অজান্তে’ সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। ‘অজান্তে’ সিনেমা করার সময়ে চুক্তিবদ্ধ হই ‘প্রিয়জন’ এবং ‘বাঁচার লড়াই’ সিনেমায়। এরমধ্যে ‘পৃথিবী আমাকে চায় না’ নামে একটা কাজ করেছিলাম কিন্তু পৃথিবী আমাকে চাইলো-ই না। এরপর ‘হৃদয়ের আয়না’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘মন মানে না’, ‘পৃথিবী তোমার আমার’ চারটি ছবি হিট হয়ে গেলো। চারটাতেই লিড ক্যারেক্টার ছিলো, চারটা ছবি-ই হিট সিরিজ হয়ে গেলো। ‘হৃদয়ের আয়না’ ছবিটি আগে মুক্তি পেলেও ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ছিল আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।

‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ছিল ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট, সেই সিনেমায় আপনার নায়িকা ছিলো রাবিনা। তার সঙ্গে তিনটি সিনেমায় কাজ করেছিলেন। এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি কেন?

রাবিনাকে নিয়ে এসেছিলো পরিচালক হান্নান ভাই। আমাদের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া ছিল, ভালোভাবেই কাজ করছিলাম। রাবিনা অভিনয়ে একটু কম পারদর্শী ছিলো কিন্তু নাচতো খুব ভালো। আমাদের কেমিস্ট্রি দর্শকরাও বেশ পছন্দ করেছিলেন। তিনটি ছবি করা হয়েছিলো, এরপর আর সুযোগ হয়নি। সে কলকাতার মেয়ে হলেও বোম্বে কাজ করতো। ওইসময় বোম্বে চলে গেলো। এরপর আমাদের আর তেমন কথা হয়নি। তখন তো আর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এখনের মত এত স্ট্রং ছিলো না। ওর বোম্বের একটা ফোন নাম্বার দিয়ে গিয়েছিলো। নাম্বার হারিয়ে গেলেই তো আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল না তখন। এরপর নাম্বারটা হারিয়ে যায়। এরপর আর কোন খোঁজ পাইনি রাবিনার।

এরপর শাবনূরের সঙ্গে একাধিক হিট সিনেমা উপহার দেন। উনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা শুনতে চাই...

শাবনূরের সঙ্গে আমার প্রথম সিনেমা ‘মন মানে না’, পরিচালনা করেছেন মতিন রহমান। এটা ছিল লিনা ফিল্মসের ব্যানারে। ওইসময় লিনা ফিল্মস ছিলো ওয়ান অব দ্য বিগ প্রোডাকশন হাউজ। এই ছবিটার সালমান শাহ্‌ কিছু অংশ করেছিলেন। পরে ওই অংশ ফেলে আবার নতুন করে আমাকে নিয়ে শুরু হয়।

মতিন ভাই যখন আমাকে জানালেন তিনি এই ছবিটি করতে চান তখন আমি উনাকে নিয়ে বসলাম। তখন আমি ছবিটি করতে রাজি হই কিন্তু উনাকে এটা বলি যে, সালমান যে অংশটুকু করেছে সে অংশটুকু রাখা যাবে না। আপনি প্রয়োজনে পুরো ছবিটি সালমানের নামে উৎসর্গ করেন কিংবা যা খুশি করেন, আমার কোনো সমস্যা নেই। এটা কোনো ইগো থেকে নয়, এটা বলেছি প্রফেশনালিজমের জায়গা থেকে, ভালবাসার জায়গা থেকে। কারণ, স্ক্রিনে কিছুক্ষণ সালমানকে দেখার পর দর্শকরা সেখানে শাহরুখ খান আসলেও তাকে গ্রহণ করবে না। সালমানের রেখে যাওয়া ছবিগুলো পরে যারাই করেছেন, সেই ছবিগুলো কিন্তু চলে নি। এরপর নতুন করে আমি আর শাবনূর শুট করি।

সহশিল্পী হিসেবে শাবনূর অসম্ভব ভালো একজন অভিনেত্রী। স্ক্রিনে কোনটা অভিনয় আর কোনটা বাস্তব সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত থাকতাম। ওইসময়ে একটা ঘটনা ঘটেছিলো। একই সময়ে আমি ৩ সিনেমার ডেট দিয়ে রেখেছিলাম। ডেট ক্ল্যাশ করেছিলো। পরে দেখি মন মানে না, প্রিয়জন, প্রাণের চেয়ে প্রিয়- এই তিন সিনেমার জন্য একই সময়ে ১৫ দিনের ডেট দিয়ে রেখেছি। এটা নিয়ে অনেক কাহিনি হলো। আসলে তখন আমি শিডিউল বুঝতামও না। পরিচালকরা এসে বলতো এখানে কোণায় দুইটা সাইন করে দে, আমি করে দিতাম। আমি ভাবতাম এটাই নিয়ম।

এক ছবিতে বিদেশি নায়িকা, আরেক ছবিতে ওইসময়ের সুপারস্টার শাবনূর, আরেক ছবিতে আয়না। নায়িকাদের শিডিউল পাওয়াও দুষ্কর।আমি তখন গ্যাড়াকলের মধ্যে। তখন দিনে এক পার্টির শুটিং করেছি আবার সারা রাত আরেক পার্টির শুটিং করেছি। এভাবেই করতে হয়েছে। এভাবে করতে করতে অসুস্থ হয়ে গেলাম। চারদিন মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। একটা ছবিতে লাগতো ৩০ দিন কিন্তু আমার কাছ থেকে শিডিউল নিতো ৮০/৯০ দিন সাইন করে রেখে দিতো। আমি তো বুঝতাম না, যার কারণে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিলো। ওইসময়ে দীলিপ বিশ্বাস আমাকে অনেক হেল্প করেছে। আমার শিডিউলগুলো ঠিকঠাক করে দেয়, বুঝিয়ে দেয় সবকিছু।

ওইসময়টাতে শাবনূর আমাকে অনেক হেল্প করেছে। সে চাইলে বলতে পারত যে, আমি আমার ডেট দিয়েছি, আপনি করতে পারবেন কি পারবেন না সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু সে আমার জন্য অনেক ডে ক্যান্সেল করেছে। পরিস্থিতি বুঝে সাপোর্ট করেছে ওইসময়। যার কারণে ওর প্রতি একটা ভালো লাগা তৈরি হয়েছিলো, কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি হয়েছিলো।

আশেপাশের লোকজন আমাকে বলতেছিলো, শাবনূর সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে? আপনি তার শিডিউল খেয়ে ফেলেতেছেন! তখন আমি বলতাম, তো আমি কি করবো! শাবনূর সেই সাপোর্টটা দিয়েছিলো। এটাই শাবনূর।

অনেক সময় শোনা গিয়েছে যে, শাবনূর কয়েকটি ছবি এনে দিয়েছে আপনাকে বা পরিচালককে বলতো এই ছবিতে রিয়াজকে নেন। এরকম কি হয়েছে কখনও?

এরকম যদি কখনও হতো বা আমি যদি জানতাম যে, এই ছবিটা কোনো নায়িকা এনে দিয়েছে সে ছবি আমি কখনও করতামই না। এ ধরণের কাজ নিয়ে আমাদের মধ্যে ইগো নিয়ে খুব ঝামেলা হয়েছিলো।

শাবনূরের সঙ্গে আপনার জুটি তুমুল হিট ছিলো। এই জুটিটা ভেঙে যাওয়ার কারণ কি ছিলো?

আমাদের দুজনের মধ্যে কিছু ইগো বিষয়ক সমস্যা ছিলো। আর ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্স তো ছিলোই। সেসময় ইণ্ডাস্ট্রির মানুষ নানারকম কথা বলতো। কার জন্য ছবি চলছে, শাবনূরের জন্য নাকি রিয়াজের জন্য? এরকম অনেক কথা চলত ইন্ডাস্ট্রিতে। যদিও আমি সেসব মাথায় নিতাম না। আর আমাদের দুজনের মধ্যে একটা অলিখিত চুক্তি ছিলো, সেটার ভায়োলেশন যখন শাবনূরের দিক থেকে আসা শুরু হলো তখন আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ওকে আমিও নতুন জুটি তৈরি করবো। তখন থেকেই আমি নতুন জুটি তৈরি করার চেষ্টা করি আর আমাদের ইগোটা আরও বেশি জোরালো হয়ে উঠে।

ওইসময় একটা কুচক্র শাবনূরকে বোঝাতে শুরু করে যে তার একটা নতুন জুটি করা উচিত। তাকে বিভিন্ন কিছু বলতো। সেই চক্রের মূল হোথা ছিলো মাসুম বাবুল, পরিচালক এফ আই মানিক, জেড এইচ মিন্টু। তখন আমি মনে করেছিলাম যে, এদের তিনজনের চেয়ে নিশ্চয় আমার গুরুত্ব শাবনূরের কাছে বেশি কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তখন আমি নতুন জুটি নিয়ে ভাবতে শুরু করি।

নায়ক রিয়াজের প্রিয় নির্মাতা কারা?

প্রিয় তো অনেকেই আছেন, অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছি। কোন অর্থে নাম বলবো সেই মাপকাঠিটাও নেই আমার কাছে। তবে প্রিয় কয়েকটা নাম বলতে চাই, যাদের সঙ্গে অনেক বেশি ক্লোজ ছিলাম; সেগুলো হলো- হুমায়ূন আহমেদ, মতিন রহমান, মোহাম্মদ হান্নান, দীলিপ বিশ্বাস, জাকির হোসেন রাজু, এস এ হক অলিক, সালাহউদ্দিন লাভ্লু, এফ আই মানিক ইত্যাদি।

মোহাম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘পড়ে না চোখের পলক’ সিনেমাটি আমাকে ইন্ডাস্ট্রিতে রিয়াজ হিসেবে পরিচিত করে। এটিই আমার প্রথম হিট সিনেমা। এই সিনেমাটি দিয়েই আমি দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করি। হান্নান ভাই এখন আর নেই কিন্তু উনার সঙ্গে আমার বেশ হৃদ্যতা ছিলো। আমাকে অনেক গুরুত্ব দিত এবং অনেক আদরও করতো। আমার কোনো একটা শট ভালো হলে আমাকে বলতো, ‘তুই একটু পেছনে ঘুর, তোর পাছায় একটা লাথি দেব’। আমাদের মধ্যে এমন হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। তিনি আমাকে তার পরিবারের সদস্যদের মতই আপন করে নিয়েছিলেন, তার বাসায় গিয়েছি। উনার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবার সঙ্গেই কথা হতো। একজন পরিচালকের সঙ্গে এই সম্পর্কটা খুবই হৃদ্যতার। উনি-ই প্রথম পরিচালক যার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিলো। এর আগে দীলিপ বিশ্বাসের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক, কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা হান্নান ভাইয়ের সঙ্গেই গড়ে উঠেছিলো আমার।

আর দীলিপ বিশ্বাস এবং উনার স্ত্রীকে আমি দাদা-বৌদি ডাকলেও উনারা আমার কাছে ছিলেন বাবা-মায়ের মত। কিছু সিনেমা করার পর ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আমাকে গাইডলাইন দিয়েছিলেন দীলিপ দাদা। আমাকে গাইড করতেন, সাংঘাতিক রকমের সহযোগিতা করেছেন তিনি। সেদিক থেকে দেবাশীষ বিশ্বাস যে আমার ছোট ভাই না, এটা আমি কখনোই বলতে পারবো না।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত