ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে

আজিজুর রহমান: অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৫৭

আজিজুর রহমান: অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা
আজিজুর রহমান
জার্নাল ডেস্ক

এদেশের কাব্য এবং সংগীত রচনায় এক অবিস্মরণীয় নাম আজিজুর রহমান। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ মানুষটি কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও গানই তাকে সবার মাঝে সমাদ্রিত করে। বাঙালি মুসলমান গীতিকারদের মধ্যে গানের সংখ্যায় কবি নজরুলের পরই তার স্থান।

কবি আজিজুর রহমান প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক গান এবং তিশত এর বেশি কবিতা লিখেছেন। ঢাকার প্রায় প্রখ্যাত সুরকাররা যেমন আজিজুর রহমানের গানে সুর দিয়েছেন তেমন তার গানও গেয়েছেন খ্যাতনামা প্রায় সব শিল্পীই।

আজিজুর রহমান ১৯১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বশির উদ্দিন প্রামানিক ও মাতার নাম সবুরুন নেছা। শিশুবয়সে তার পিতা মৃত্যুবরণ করার পর তার শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটে। এ সময় তিনি স্থানীয় যাত্রা ও নাটকের দলে যোগদান করেন।

১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বেতারে প্রথমে অনিয়মিত এবং পরে নিয়মিতভাবে যোগ দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতারে চাকরিতে বহাল ছিলেন। সাংবাদিক হিসেবেও তার খানিকটা পরিচিতি ছিল। অধুনালুপ্ত দৈনিক পয়গম পত্রিকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক ছিলেন তিনি। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কিশোর মাসিক ‘আলপনী’রও সম্পাদক ছিলেন একনিষ্ঠ এই কবি। সাহিত্যচর্চা শুরুর আগে নাটকে অভিনয়ে তার উৎসাহ ছিল বেশি। ফলে শিলাইদহের ঠাকুর বাড়িতে তিনি গড়ে তোলেন একটি নাট্যদল। কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ও তার দলের ব্যাপক সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সমাজসেবায় তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ।

১৯৩৪ সালে তিনি তার পিতামহ চাঁদ প্রামানিকের নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার। এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বইয়ের খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তার সাংগঠনিক মমতা ছিল প্রবল। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৩১ সালে কবি আজিজুর রহমান বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার ফুল হরিগ্রামের আজহার সিকদারের কন্যা ফজিলাতুন্নেসাকে বিয়ে করেন। ৩ ছেলে ৪ মেয়ের জনক আজিজুর রহমান।

গান

আজিজুর রহমান দুই হাজারের অধিক গান রচনা করেছেন। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায় রে,

কারো মনে তুমি দিও না আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে ,

আকাশের ঐ মিটি মিটি তারার সাথে কইবো কথা, নাই বা তুমি এলে,

পৃথিবীর এই পান্থশালায়, হায় পথ ভোলা কবি,

আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি,

বুঝি না মন যে দোলে বাঁশিরও সুরে,

দেখ ভেবে তুই মন, আপন চেয়ে পর ভালো,

পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা আমারই দেশ ভাই রে প্রভৃতি।

গ্রন্থ

ডাইনোসরের রাজ্যে (১৯৬২)

জীবজন্তুর কথা (১৯৬২)

ছুটির দিনে (১৯৬৩)

এই দেশ এই মাটি (১৯৭০)

উপলক্ষের গান (১৯৭০)

তিনি প্রায় ৩০০-এর উপরে কবিতা রচনা করেছেন। তার মধ্যে নৈশনগরী, মহানগরী, সান্ধ্যশহর, ফেরিওয়ালা, ফুটপাত, তেরশপঞ্চাশ, সোয়ারীঘাটের সন্ধ্যা, বুড়িগঙ্গার তীরে, পহেলা আষাঢ়, ঢাকাই রজনী, মোয়াজ্জিন, পরানপিয়া, উল্লেখযোগ্য।

১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কবি আজিজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাকে ভর্তি করা হয় তৎকালীন ঢাকার পিজি হসপিটালে। সেখানে চিকিৎসার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ১৯৭৮ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবির জীবদ্দশায় তেমন কোনো সম্মাননা না পেলেও ১৯৭৯ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’ লাভ করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত