ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ১৫:৫৬

প্রিন্ট

পরিচালক ছাড়া শুটিং কতটুকু যৌক্তিক?

পরিচালক ছাড়া শুটিং কতটুকু যৌক্তিক?
আসিফ আলম

একটি চলচ্চিত্রের ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’ বলা হয় চলচ্চিত্রের নির্মাতাকে। যিনি কিনা তার একটি চলচ্চিত্রের শুরু থেকে শেষ অবধি পুরোটাই তার তত্ত্বাবধানে রাখেন। একজন নির্মাতা ছাড়া কেউ কখনো বুঝতে পারে না, আসলে চলচ্চিত্রটিকে দর্শকের কাছে ফুটিয়ে তুলতে কী প্রয়োজন। মোট কথা প্রযোজকের টাকা লগ্নির পর ছবি নির্মাণের পুরো দায়ভার নির্মাতার।

সম্প্রতি সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, প্রায়ই গানের কিংবা ফাইটিংয়ে থাকছে না ছবির নির্মাতা। নৃত্য পরিচালক কিংবা ফাইট ডিরেক্টরই শেষ করে দিচ্ছে নাচ ও মারামারির শুট। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়।

পরিচালক ছাড়া চলচ্চিত্রের শুটিং কতটা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমান। তিনি বলেন, ‘একজন পরিচালক তার নিজস্ব ভাবনা, পরিকল্পনাতেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এখন যদি পরিচালক মনে করেন তার কাজ, ভাবনা অন্য কারো দ্বারা সমাধান হয়, তাহলে তাকে পরিচালক হিসেবে চিহ্নিত করার আগে দু'বার ভাবতে হবে। কারণ প্রত্যেকটা ফ্রেম প্রত্যেকটা কম্পোজিশন পরিচালক তার ভাবনায় রাখেন। কিছু কিছু কারিগরি বিষয় যেমন: ফাইটের বিষয়। এখানে পরিচালক তার ভাবনার বিষয় বলতে পারেন। সেটা বাস্তবায়ন করবেন ফাইট ডিরেক্টর। তবে পরিচালকের সামনেই এসব বিষয় ঘটে। এ সময় পরিচালক বুঝে নেন শিল্পী তার গল্পের প্রয়োজনে কতটা ভাব প্রকাশ করছেন। বিষয়টি দূরে থেকে বুঝে নেয়াটা সম্ভব নয়। একজন শিল্পী যে মুদ্রাটা করে দেখাচ্ছেন সেটা সিনেমার জন্য কতটা জরুরি আর ব্যাকগ্রাউন্ড আমার সিনেমার সঙ্গে কতটা মিল রয়েছে তা দূরে থেকে বোঝা যাবে না।’

নির্মাতা শাহিন সুমন বলেন, ‘এ বিষয়টি আগে হতো না। গত বছর থেকে শুনছি, গানের শুটিংয়ে পরিচালক থাকছেন না। অবশ্য এর অনেক কারণও থাকতে পারে। যেমন—দেশের বাইরে শুটিং করা অনেক খরচের বিষয়। সেখানে একজন মানুষ কম গেলে খরচ কিছুটা কমে। আবার কম সময়ে একটি ছবি শেষ করে ঈদের সময় মুক্তি দিতে গেলে এমনটা হতে পারে। দেখা গেল ছবির সিক্যুয়েন্সের কাজ শেষ করে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করছেন পরিচালক, অন্যদিকে গানের শুটিং হচ্ছে দেশের বাইরে, তিনি যেতে পারছেন না।’

এদিকে দেশের স্বনামধন্য নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল বলেন, ‘করণ জোহর বা সঞ্জয় লীলা বনসালি কোনো দিন শুটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলে আমি শুনিনি। বাংলাদেশে বদিউল আলম খোকন ছাড়া তো কোনো গানের শুটিং আমরা করিনি। আরে নাচের শুটিং তো সিনেমার অংশমাত্র। আমি যখন একটি সিনেমার গানের শুটিং করি, তখন নাচটা আমার মতো করি। ক্যামেরায় ধারণ করি আমার মতো। তবে সেটা পরিচালকের চাওয়া পূর্ণ করি মাত্র। যিনি গল্পের মধ্যে গানটি ব্যবহার করবেন, তিনিই বলতে পারবেন লোকেশন, গেটআপ-মেকআপ ঠিক আছে কি-না। যে কারণে ছবির গানের শুটিংয়ে অবশ্যই পরিচালককে থাকতে হবে।

ছবি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে গান, এমনটা দাবি করে মাসুম বাবুল বলেন, ‘হাফিজ উদ্দিন সাহেবের একটি ছবির গানের শুটিং করেছিলাম। ছবির নামটা মনে নেই। এডিটিংয়ে গিয়ে আমার মনে হলো কী যেন ঠিক নেই। তারপর বুঝতে পেরেছি, ছবির গল্পটা আমার মাথায় ছিল না। এরপর এমন ভুল আর হয়নি। ছবির গল্প, গানের আগে পরের সিক্যুয়েন্স শুনে-বুঝে, সেগুলো পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে কাজগুলো করে থাকি। আর পরিচালক ছাড়া গানের শুটিং করলে তো মনে হবে ছবির মধ্যে একটা মিউজিক ভিডিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল / এএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close