ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:২৭

প্রিন্ট

‘অভিনয় করতে এসে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছি’

‘অভিনয় করতে এসে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছি’
ইমরুল নূর

তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে কম বেশি সবাই এখন ইউটিউবমুখী হয়ে উঠেছেন। অনলাইন প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে ইউটিউব এখন অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ইউটিউবে ছোট ছোট কন্টেন্ট নির্মাণ করে ইউটিউবার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এরকম মানুষের সংখ্যা অনেক।

সাঈদ শাহেদ ইউটিউব থেকে উঠে আসা তরুণ প্রজন্মের একজন অভিনেতা। ইতোমধ্যেই তিনি ইউটিউবকেন্দ্রিক বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক ও সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিওতে অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ইউটিউব দিয়ে পরিচিতি পেলেও তার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল বিজ্ঞাপন দিয়ে।

২০১৪ সালে বিজ্ঞাপন দিয়েই শোবিজে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সেসময় সেমন্তি শৌমির সঙ্গে এলিট ক্র্যাক গার্ড এবং নাদিয়া আফরিন মিমের সঙ্গে ডলফিন ম্যাট্রেসের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন শাহেদ। এরপর হঠাৎ করেই বিজ্ঞাপন থেকে সরে গিয়ে ইউটিউবের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

কাজের শুরু সম্পর্কে জানাতে গিয়ে শাহেদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার পরিচিতিটা ইউটিউব দিয়ে হলেও মিডিয়ায় কাজের শুরুটা হয়েছিল বিজ্ঞাপন দিয়ে। তবে দুই একটা বিজ্ঞাপন করে ঐ দিক থেকে ফোকাস শিফট করে ফেলি। এরপর কিছু স্টিল ফটোশুটের কাজও করি। কিন্তু ওসবের কোনটাতেই মন বসাতে পারিনি। কারণ অভিনয় করার সুযোগ আছে এমন কিছু খুঁজছিলাম ঐ সময়টাতে।

এরপর দুই একটা রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু সেখানে আশানুরূপ ফল পেলাম না। পরে ২০১৬ সালে অনন্ত জলিল তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘দ্যা স্পাই’ সিনেমার কাস্টিংয়ের জন্য একটা রিয়েলিটি শো করে ‘ড্যানিশ মুনসুন ফিল্মস প্রেজেন্টস টেলেন্ট হান্ট’। ওটাতে আমি অংশগ্রহণ করি এবং হিরো ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হই। সেই হিসেবে তার ছবি ‘দ্যা স্পাই’ তে আমার ভালো একটা কাস্টিংয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবিটাই আর হয়নি।

বলতে গেলে আমরা যারা ওই রিয়েলিটি শোয়ের বিজয়ী ছিলাম তাদের সাথে এক প্রকার অন্যায় করা হয়েছে। তারপর একই বছরে আমার ভার্সিটির এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘প্র্যাঙ্ক কিং’র ফাউন্ডার আর্থিক সজীব ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। তারপর থেকেই ইউটিউবভিত্তিক কাজ শুরু করি। বলতে গেলে আমার পথচলার শুরুটা এখান থেকেই।’

আপনার সাথে এরকম একটা অন্যায় হয়েছে তার কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ করেননি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগটা করবো কার কাছে? আর অভিযোগ করে খুব একটা লাভ হবে না ভেবে চেষ্টাও করি নাই।’

সেই রিয়েলিটি শো নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন নাটকে নিয়মিত হতে চাই। এটাই এখন মেইন ফোকাস। বেশকিছু নাটকে কাজ করছি। কিন্তু নাটকে নতুনদের জন্য অভিনয়ের সুযোগটা কম। নির্মাতারা রিস্ক নিতে চান না। নির্মাতাদের দোষ দিয়েও আসলে লাভ নেই। সব জায়গায় এখন সিন্ডিকেট চলে। সুতরাং আমি বলবো তারা নিরুপায়। তবে কিছু নির্মাতা আছেন যারা নতুনদের ব্যাপারে উৎসাহী। সুতরাং আমি আশাবাদী যে সামনে এই জায়গাটায় নতুনদের আরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

ইউটিউবের মাধ্যমে যে পরিচিতিটা পেয়েছেন সে অনুপাতে আপনাকে কাজে দেখা যায়নি কেন? প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘যখন আমি ইউটিউব ছেড়ে মেইনস্ট্রিমে কাজ করতে আসি এখানে খুব বাজে ধরনের পলিটিক্সের শিকার হয়েছি। সেটা আমার মত যারা নতুন তাদের প্রত্যেকেরই ফেইস করতে হয়। এই নোংরা পলিটিক্সটা নতুনদের নিরুৎসাহিত করে। তাছাড়া ঐ যে বললাম নির্মাতারা রিস্ক নিতে চান না! আর লবিং, তোষামোদি এই ব্যাপারগুলোতো আছেই। এসবে আমি খুব কাঁচা। এটাই হয়তো মূল কারণ। এজন্যই এখনও পিছিয়ে আছি।’

আপনি তো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে মার্কেটিংয়ে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেছেন। কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে একটা সুন্দর ক্যারিয়ারের হাতছানি। সেটা ছেড়ে অভিনয়েই কেন? শাহেদ বলেন, ‘আমি যখন নটরডেম কলেজে পড়তাম, তখন নটরডেম নাট্যদলের কিছু সিনিয়র ভাই ব্রাদারদের সান্নিধ্যে ছিলাম। ঠিক ঐ সময়টাতে আমার একটা জিনিস উপলব্ধি হয়। আমি দেখলাম অভিনয় হচ্ছে এমন একটা মাধ্যম, যেখানে এক জীবনে হাজারটা জীবনের স্বাদ নেয়া সম্ভব। এই উপলব্ধি থেকেই অভিনয়ের প্রেমে পড়া।

তারপর আর ছাড়তে পারিনি। এজন্যই হয়তো কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড আমায় টানে না। মনে প্রাণে একজন অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখি। তবে মানুষ যা চায়, তা সবসময় পায় না। যেমন অঞ্জন দত্ত হতে চেয়েছিলেন অভিনেতা, অথচ আজকে আমরা তাকে গায়ক হিসেবেই চিনি। এমন কিছু যদি আমার সাথে হয়, যদি কোনোদিন অভিমান থেকে অভিনয়ের সাথে আমার প্রেমের ইতি ঘটে তাহলে আমি নির্মাতা হবো! চুপিচুপি নির্মাণের উপর পড়াশুনা করছি। বাকিটা ভবিষ্যতই বলে দেবে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/ আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত