ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৭

প্রিন্ট

সো কল্ড নায়িকা হতে চাই না: রূপসা

সো কল্ড নায়িকা হতে চাই না: রূপসা
ইমরুল নূর

ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ওড়িয়া ছবি দিয়ে। এরপর সেখানে অনেক প্রস্তাব পেলেও নিজেকে থীতু করে নেন মেগা সিরিয়ালে। ভালোবাসা ভালোবাসা, এসো মা লক্ষ্মী, শ্রীকৃষ্ণ এই তিনটি মেগা সিরিয়ালে নিজের অভিনয়ের জানান দিয়েছিলেন। তিনি আর কেউ নন, টালিগঞ্জের মিষ্টি মেয়ে রূপসা মুখোপাধ্যায়। চলতি বছরে পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ‘কে তুমি নন্দিনী’ ছবি দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

সিরিয়ালের পর এই প্রথম বড় ব্যানারে ছবি মুক্তি পেয়েছে এই অভিনেত্রীর। কলকাতার শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনায় এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন বনি সেনগুপ্ত। ছোট পর্দায় কাজ করলেও বড় পর্দায় নিজেকে একটু অন্যরকম ভাবেই উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন রূপসা। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন ‘কে তুমি নন্দিনী’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। তার সঙ্গে আলাপচারিতার চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো...

বাংলাদেশ জার্নাল: ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি দিয়েই আলোচনায় এসেছেন। রীতিমত তারকা বনে গিয়েছেন। এই স্টারডমটা কেমন উপভোগ করেন?

রূপসা: আমার ক্যারিয়ার শুরু মূলত ওড়িয়া ছবি দিয়ে। এরপর কলকাতার মেগা সিরিয়ালে কাজ করেছি। সেখানে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি। ‘কে তুমি নন্দিনী’ আমার জন্য একটা টার্নিং বলা যায়। বিগ বাজেটের ছবি, যেখানে আমি মূল নায়িকা হিসেবে কাজ করেছি। ছবির গল্পটাই আমাকে (নন্দিনী) ঘিরে। সেদিক থেকে আমি ভীষণ আনন্দিত। এরকম একটা প্রজেক্টে কাজ করতে পেরে।

আর তারকা বনে যাওয়ার আসলে কিছু নেই। আমি এখনও তারকা হইনি। এখনও স্ট্রাগল করছি। আমি সবে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছি। এখনও অনেক কিছু করার আছে। স্টারডমের কথা যদি বলি, ইন্ডাস্ট্রির নবাগতা হিসেবে সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সাপোর্ট পাচ্ছি, এটা আমার জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। মানুষ আমাকে একটু হলেও চিনছে, কোথাও দেখলে কাছে এসে একটা ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভালো লাগছে খুব। দর্শকরা আমার কাজের প্রশংসা করছে। আমি চাই দর্শকদের মধ্যে এই জিনিসগুলো বাড়ুক। কাজ ভালো হলে সেটার জন্য মতামত জানাক।

বাংলাদেশ জার্নাল: ক্যারিয়ার শুরুর জার্নিটা একটু জানতে চাই। আগে থেকেই কি ইচ্ছে ছিল নায়িকা হবেন?

রূপসা: না, আগে এরকম কোন ইচ্ছেই ছিল না আমার। ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল এয়ার হোস্টেস হবো। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরেই আমার ইচ্ছে ছিল ট্রেইনিং নিবো কিন্তু আমার মা চেয়েছিলেন আমি যেন অভিনেত্রী হই। হঠাৎ করেই আমার ইন্ডাস্ট্রিতে আসা। কোন রকম প্ল্যানিং ছিল না, আর অভিনয় নিয়ে কোন ধারণাও ছিল না। ডেসটিনি বলতে একটা কথা আছে, হয়তো ভগবান এটাই চেয়েছিল তাই অভিনয়ে আসা।

বাংলাদেশ জার্নাল: এই মুহূর্তে হাতে কি কি ছবি আছে?

রূপসা: অপহরণ নামে একটা ছবির কাজ শেষ করেছি। এখানে আমার বিপরীতে রয়েছেন সাহেব ভট্টাচার্য। ছবিটির কাজ শেষ, সামনেই মুক্তি পাবে। এছাড়াও নতুন দুটি ছবি রয়েছে, কাজ শুরু হবে। আর কলকাতায় এখন কমার্শিয়াল ছবির বাইরে ভিন্ন ঘরানার ছবি তৈরি হচ্ছে বেশি। তাই যেকোন স্ক্রিপ্ট পেলেই সেটাতে কাজ করছি না। একটু বেছে, বুঝে শুনে কাজ করার চেষ্টা করছি। যেই চরিত্রটা আমার সাথে যাবে এবং যেখানে আমার অভিনয়ের যথেষ্ঠ সুযোগ থাকবে, সে ধরণের কাজগুলো করতে চাই। নায়িকা হিসেবে নাচ, গান নিয়েই থাকতে চাই না। গল্প প্রধান বিষয়টা থাকতে হবে। কে তুমি নন্দিনী ছবিতে পুরো গল্পটাই নন্দিনীকে ঘিরে। ওরকম ছবির অপেক্ষা করছি। মোটকথা চরিত্রটা ভীষণ শক্তিশালী হতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন শিল্পীরা কাজের ক্ষেত্রে সিনিয়রদের থেকে কতটুকু সহায়তা পান ?

রূপসা: টলিউডে সিনিয়ররা কাজে ক্ষেত্রে ভীষণ হেল্পফুল। অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোন শটটা কিভাবে দিলে ভালো হবে, কিভাবে এক্সপ্রেশন দিলে সেটা ভালো দেখাবে, সবকিছুই নিজ হাতে দেখিয়ে দেন। যেটা আমি পেয়েছি সিনিয়রদের থেকে। কে তুমি নন্দিনী ছবির আগে আমাকে অডিশন দিতে হয়েছিল। এরপর আমি যখন চূড়ান্ত হয়েছি এরপর থেকে যেমন রূদ্রনীল ঘোষ আমাকে অনেক হেল্প করেছে। শট দেওয়ার সময় আমি ভয় পেতাম, এত সিনিয়র শিল্পী রয়েছেন তাদের সামনে কিভাবে অভিনয় করবো! ভুল হলে যদি কেউ কিছু বলে বা বকা দেয়! কিন্তু তেমন কিছুই হয় নি। বরং আমাকে সবাই সাহস দিত। কোন শট এনজি হলে, আমি ঘাবড়ে যেতাম কিন্তু তারা সাহস দিয়ে বলতো, এটা হয় নি তাতে কি পরেরটা বেশ ভালো হবে। এভাবে সবাই খুব সাপোর্ট করতেন, এখনও করেন। সবার থেকে অনেক অনেক হেল্প পাই সত্যি।

বাংলাদেশ জার্নাল: কলকাতার বাইরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহ কেমন?

রূপসা: আমাদের ইন্ডাস্ট্রি বলি বা দেশ বলি এখানে বাংলাদেশের অনেকেই আছেন। বাংলাদেশের অনেক প্রশংসা শুনি সবার কাছ থেকেই। আমার কখনও বাংলাদেশে যাওয়া হয় নি। তবে ভীষণ ইচ্ছে আছে বাংলাদেশে কাজ করার। এর আগে বাংলাদেশ থেকে আমি একটা ছবির প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তখন আমি ছবিটা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ আমি চেয়েছিলা আগে আমার এখানে ভালো কিছু একটা করি এরপর না হয় সেখানে কাজ করবো। তবে এখন খুবই ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের প্রজেক্টে কাজ করার। যদি কোন পরিচালক বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আমাকে নিয়ে আগ্রহ দেখায় কাজ করার জন্য, আমি করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? নিজেকে কি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, নায়িকা নাকি অভিনেত্রী?

রূপসা: অবশ্যই নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এখন সো কল্ড নায়িকা বলে কিছু হয় না। নাচ, গান তো সবাই করতে পারে। এগুলো জানলেই নায়িকা হওয়া যায় কিন্তু অভিনেত্রী হওয়া যায় না। একমাত্র অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে পারলে সেটা স্থায়ী হয়। কে তুমি নন্দিনী ছবিতে সবাই আমার কাজের খুব প্রশংসা করেছেন। এটা শুনে আমি এতটাই আনন্দিত হয়েছি যে ,বলে বোঝানো যাবে না। তখন মনে হয় যে, আমাকে আরও ভালো ভালো কাজ করতে হবে। নিজেকে আরও ভালোভাবে গ্রুম করি, অভিনয় শিখি, প্রস্তুত করি। দর্শকদের নতুন কিছু দিতে চাই। তাই অভিনয়টাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজটা করে যেতে চাই। অভিনেত্রী হলে নায়িকা আপনি আপনিই হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত