ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:০৩

প্রিন্ট

২০০ বছরের প্রাচীন বটবৃক্ষ

২০০ বছরের প্রাচীন বটবৃক্ষ
মো.রুহুল আমিন

আমার নাম বটবৃক্ষ। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক বৃক্ষ আমি। আমি ভীষণ মমতাময়ী এক বৃক্ষ। আমার অজস্র শাখা-প্রশাখা আর শতসহস্র পাতাজুড়ে কালের বিশাল ইতিহাস।

আর সেই বিশাল ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকার ধামরাইয়ে আনন্দ নগর বাজারের মাঝে রয়েছে প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো বটবৃক্ষ। আর এই বৃক্ষকে ঘিরে রয়েছে নানান উপকথা। প্রকৃতি এই অবাক শিল্প উপভোগ করার পাশাপাশি গল্প শুনেও আনন্দ পাওয়া যায়। এখনো ঔই এলাকার বয়োবৃদ্ধদের কাছে শুনা যায় এর ইতিহাস।

ধামরাইয়ের আনন্দ নগর (রাজনগর) বাজারের বেশ পরিচিত। আনন্দ নগর গ্রাম বহু আগে কুমার সম্প্রদায়ের বসতির জন্য বিখ্যাত ছিল। তাছাড়া কিছু জমিদাররা শাসন করতো ঔই এলাকা। অনেক পুরাতন দালানকোঠা দেখা যায় বাজারের পাশে।

স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দীন বলেন, আমরা শুনেছি সেই সময় কুমার সম্প্রদায়ের লোকেরা পাতকুয়া ব্যবহার করতো, সেন বংশীয় কুমার পরিবারের কোনো একজনের পাত কুয়োর উপর একদিন একটি গাছ জন্মে। সে বহু আগের কথা, কারো কারো মতে প্রায় ২শ’ বছর আগের গল্প হবে, আবার কেউ কেউ একটু আগ বাড়িয়ে ঘটনার শুরু প্রায় ৩০০ বছর আগের কথাও বলে থাকেন।

দীর্ঘ ২০০ বছর সেও কম না। এত বছর আগে এখানে জনপদের সন্ধান পাওয়া যায়। এখন যে বাজার রয়েছে এক সময় এখানে ফাঁকা জায়গা যা মাঠের মতো ছিল। এখানে যে গাছটি জন্মে, ডালপালায় আভাস দেয় সেটি একটি বটগাছ। ফাঁকা মাঠে গরু ছাগল চড়ানো হতো। দরিদ্র লোকজন আবার চাষাবাদও করতো।

আনন্দ নগর বাজারে যেহেতু বট গাছ সেহেতু অযত্নে বা অবহেলায় হলেও দিন দিন তা বেড়ে ওঠতে লাগলো। গাছটি ডালপালা ছড়াতে থাকে আর তার বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। তারপর একদিন গাছটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। হাজারো মানুষ গাছের নিচে বিশ্রাম নিতো।

কাইয়ুম বেপারী বলেন, আমরা এই বটগাছের কথা আমার বাবার কাছে শুনেছি। ধুধু মাঠ ছিল। দিনের বেলায় তাদেরকে গাছের আশে পাশে আসতে দিত না। আমরাও তার কিছুটা দেখেছি। কিন্তু এখন জামানা পাল্টে গেছে। দিন রাত বলতে কোন কথা নেই, সারা রাত মানুষ যাতায়াত করে থাকে। কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

বর্তমানে আনন্দ নগর বাজারে সেই বট গাছকে ঘিরে প্রায় দের শতাধিক দোকান রয়েছে। জনসমাগম বেড়েছে। সাপ্তাহিক হাট বসতো। তবে সেটা স্থানীয় রাজনীতির কারণে বন্ধ রয়েছে। তারপরও গাছটি নিয়ে কোন জটিলতা নেই। হিন্দুরা গাছটিকে ঘিরে বিভিন্ন পূজার আয়োজন করে। শীতকালীন বাৎসরিক সাকরাইন মেলা বসে।

বিশাল আকারের বটগাছ। ছায়াঘেরা শীতল পরিবেশ চারপাশে। ডানে বামে সামনে পেছনে যেদিকে তাকাই বট ছাড়া কিছু নেই। ঘুরছি দেখছি আর ভাবছি কী বিশাল বটবৃক্ষ। যার দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে আমরা তো বটেই যে কেউ মোহিত হবেন। এখন গাছটি শুধু ছায়াই দিয়ে যায়। শত শত মানুষ গাছটির নিচে বসে বিশ্রাম নেয়। গাছটি নিয়ে কথা বলতেই ধীরে ধীরে মানুষ জমায়েত হলো। কেউ এর কথা বাবার কাছে আবার কেউ দাদার কাছে শুনেছে। তবে স্থানীয় বা দোকানদারের কাছে বটবৃক্ষ নিয়ে মজার মজার সব গল্প শুনা যায়।

তবে প্রায় ২ শত বছরের পুরাতন বটবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখা ও তার সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এর ইতিহাস অনেক। আনন্দ নগর বাজারের বটবৃক্ষটি আজও দাড়িয়ে থেকে হাজারো মানুষকে ছায়া দিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত