ঢাকা, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ২১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৪০

প্রিন্ট

কালো জাদুর রাজধানী ভারতের ‘মায়ং’

কালো জাদুর রাজধানী ভারতের ‘মায়ং’
ফিচার ডেস্ক

কালো জাদু শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। শরীরে লাল কাপড় জড়িয়ে হাতে মানুষের মাথার খুলি আর হাড় নিয়ে তন্ত্র মন্ত্র সাধনা করতে আমরা হরর মুভিতে দেখেছি কিংবা গল্পের বইতে পড়েছি। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে কতজন মানুষ এসবে বিশ্বাস করে। কিন্তু আমাদের পাশের দেশ ভারতে রয়েছে এমন একটি গ্রাম মায়ং, যেখানে এখনও কালো জাদুর চর্চা চলে আসছে।

মায়ং ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চলের আসাম রাজ্যের ছোট্ট একটি গ্রাম। ধারনা করা হয়, এ গ্রামে কয়েক শত বছর ধরে চলে আসছে কালো জাদুর চর্চা। কিছু অঞ্চলের মানুষ যেমন তাদের শিল্প-সংস্কৃতি পরের প্রজন্মকে শিখিয়ে যায় তেমনি মায়ং গ্রামের মানুষ তাদের পরের প্রজন্ম কে কালো জাদুতে নিপুণ করে গড়ে তুলে। মায়ং নামটি সংস্কৃতি শব্দ মায়া থেকে এসেছে।

মায়ং অঞ্চলে কালো জাদুর চর্চা বেশ কয়েকশত বছর আগে থেকে চলে আসছে। মহাভারতেও মায়ং এর উল্লেখ রয়েছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে ভীমের পুত্র ঘটোৎকচ ছিলেন মায়ং এর রাজা। স্থানীও মানুষদের মতে, ১৩৩৭ সালে এই গ্রামের তান্ত্রিকেরা মোহাম্মদ শহর এক লাখ সৈন্য পরাজিত করেছিলো কালো জাদুর সাহায্য নিয়ে। আবার ১৬৬৬ সালে আওরঙ্গজেব তার সেনাপতি রাজা রাম সিংকে আসাম দখলের জন্যে পাঠানো হলেও ১৬৭১ সালে রাজা রাম সিং রাজি হন কিন্তু অবাক করা বিষয় যুদ্ধের পর রাজা রাম সিংকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেকের মতে এ যুদ্ধেও কালো জাদুর ব্যবহার করা হয়।

মায়ং এলাকার তান্ত্রিকদের বিশ্বাস তাদের পূর্বপুরুষ সাধনা আর মন্ত্রের মাধ্যমে যেকোনো প্রাণীর আকৃতি নিতে পারতেন, উড়তে পারতেন অথবা নিমিষেই গায়েব হয়ে যেতে পারতেন। এখানকার কিছু তান্ত্রিক আবার মানুষের চিকিৎসা করে থাকে তন্ত্র মন্ত্রের মাধ্যমে। কিছু তান্ত্রিক আছেন যারা হাত দেখে ভবিষ্যত বলে দিতে পারে। আবার ধরুন আপনার মূল্যবান কোন কিছু হারিয়ে গিয়েছে। মায়ং এর তান্ত্রিক খুব সহজেই তা খুঁজে বের করে দিতে পারবে।

সম্মোহন জাদুর মাধ্যমে মানুষ কিংবা পশু-পাখিকে তান্ত্রিকরা নিজেদের বশে আনতে পারেন। তান্ত্রিকরা মানুষের ক্ষতিও করতে পারে কালো জাদুর মাধ্যমে। কথা গুলো আপনার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও মায়ং এর মানুষদের কাছে এসবে আস্থা আর বিশ্বাস করা খুবই সাধারণ বিষয়।

ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ মায়ং এ খনন কাজ করে কয়েকশত বছরের পুরোনো তরবারি আর ছুঁড়ি পেয়েছেন। ধারনা করা হয়, সাধকরা নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে এগুলো ব্যবহার করে নর বলি দিতেন। এছাড়া এখানে কিছু প্রাচীন যুগের পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, যেখানে কালো জাদু করার নিয়ম আর মন্ত্র লিপিবদ্ধ করা আছে যেগুলো মায়ং ব্ল্যাক ম্যাজিক এন্ড উইচক্র্যাফট মিউজিয়ামে সংগ্রহ করে রাখা রয়েছে। অনেক বিজ্ঞানী মায়ং এর এসব পাণ্ডুলিপি নিয়ে স্টাডি করেও এর সমাধান বের করতে পারেনি।

বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে পুরো বিষয়টি অবাস্তব ও কাল্পনিক বলে মনে হলেও মায়ং এ এখনো কালো জাদুর সাধন আর পরবর্তী প্রজন্মকেও এই বিদ্যায় পটু করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত