ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৬:১২

প্রিন্ট

প্রতিনিয়ত রাতে কম ঘুম হচ্ছে? সাবধান!

প্রতিনিয়ত রাতে কম ঘুম হচ্ছে? সাবধান!
স্বাস্থ্য ডেস্ক

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন কাজের চাপে কমে আসছে আমাদের ঘুমের সময়। সঠিক সময়ে শুয়েও কিছুতেই ঘুম হচ্ছে না। নানান চিন্তা ভাবনার ফলে প্রায় সারারাত পেরিয়ে ভোর হয়ে আসছে, তাও ঘুমের দেখা নেই। এই সমস্যা যদি আপনার প্রায়ই চলতে থাকে তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে মহাবিপদ। বিপদে পড়ার আগেই সাবধান হোন। নিয়মিত কম ঘুমোতে থাকলে হতে পারে নানান সমস্যা, জেনে নিন এগুলি।

স্ট্রেস, টেনশন, কাজের চাপ বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য অনেক সময়েই আমাদের রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। যদিও বা কোনোক্রমে ঘুম এলো, তাও অপর্যাপ্ত। একদিন-দুদিন ঠিক আছে, কিন্তু এমনটা নিয়মিত হতে থাকলে অবশ্যই ভয়ের ব্যাপার। কারণ, সঠিক ঘুম না হলে আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, দেখা দেয় একাধিক প্রাণঘাতী অসুখ।

মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়: মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার আছে যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়। মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা কমতে থাকে। মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম না পেলে অতিরিক্ত বিষণ্ণতা, হ্যালুসিনেশনের, স্মৃতিভ্রংশের মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে দিনে নিজের বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও লোপ পেতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বৃদ্ধি করে: দিনে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম হলে বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। চিকিত্সকদের মতে আমরা না ঘুমালে আমাদের শরীরের ‘লিভিং অর্গানিজম’গুলো ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য। বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হাইপার টেনশনের মতো সমস্যা।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে: ঘুম মূলত আমাদের শরীরের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি পন্থা। যখন আমরা ঘুমোই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী ‘লিভিং অর্গানিজম’ কাজ করতে থাকে। কিন্তু আমরা না ঘুমালে এই ‘লিভিং অর্গানিজম’গুলো কাজ করতে পারে না। ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে।

হার্টের সমস্যা বৃদ্ধি করে: আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালী কিছুটা হলেও বিশ্রাম পায়। কিন্তু ঘুম না হলে বা কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। এর ফলে হার্টের সমস্যা বাড়তে থাকে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়: দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যহত হয়। যার ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

সুতরাং যে কাজের চাপের ফলে ঘুমের সময় কমিয়ে ফেলেছেন সেই কাজে মনঃসংযোগেরও সমস্যা দেখা দেয়। তাই সব কিছুর ঊর্ধ্বে নিয়ম করে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের জন্য রাখুন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত