ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:২৫

প্রিন্ট

গরীব চাষার ছেলে থেকে ইসরোর চেয়ারম্যান

গরীব চাষার ছেলে থেকে ইসরোর চেয়ারম্যান
অনলাইন ডেস্ক

গত এক মাস ধরে সারা বিশ্বের আলোচনায় ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। একই সঙ্গে আলোচিত ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন-ও। কেননা তার হাত ধরেই তো মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে চন্দ্রযান ২। কিন্তু তার এই যাত্রাপথ কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। এক দ্ররিদ্র কৃষকের সন্তান তিনি। ফলে আর্থিক কারণে বারবার থমকে গেছে তার লেখাপড়া।

কে শিবনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১৪ এপ্রিল, তামিলনাড়ুর মেলা সারাক্কালভিলাই গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে। বাবা ছিলেন কৃষক। তার বাবা এতটাই গরীব ছিলেন যে, স্কুলে পড়তে জুতো কেনার টাকাও ছিল না তার। তাই খালি পায়েই স্কুলে যেতেন তিনি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও অনেকটা একই রকম ছিলো তার জীবনযাত্রা। খালি পায়ে উঠে এসছিলো চপ্পল। তবে প্যান্ট কেনার পয়সা কোথায়? তাই ছাত্রজীবনের অধিকাংশ সময়ই ধুতি পরে কাটিয়েছেন। কিন্তু সংসারের এই অভাব অনটন তাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীর একটি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন ইসরোর বর্তমান চেয়ারম্যান শিবন। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিলো তীব্র আগ্রহ। কৃষক পরিবারে তার আগে কেউ সেভাবে লেখাপড়া করেনি। ১৯৮০ সালে মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতক হয়েছিলেন। পরিবারে তিনিই প্রথম স্নাতক।

তবে কলেজ পাশের পর ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়েই পড়ার ইচ্ছা ছিলো তার। কিন্তু এত টাকা না থাকায় কৃষক বাবা তাকে ডিগ্রি ক্লাসে ভর্তি হতে বলেন। বাবার মন বদলাতে টানা এক সপ্তাহ উপবাস করেন তিনি। তাতেও গলেনি বাবার মন। শেষে বাধ্য হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কলেজে ডিগ্রিতে।

সেখান থেকে অঙ্ক নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কিন্তু ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা যে কতটা তীব্র শেষ পর্যন্ত তা অনুভব করতে পারেন বাবা। তাই স্নাতক পাস করার পর ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য জমি বিক্রি করেন। এরপর শিবনকে ডেকে বলেন, ‘তুমি যা করতে চেয়েছিলে এতদিন তোমাকে তা করতে দিইনি। কিন্তু আমি আর তোমাকে বাধা দেব না। জমি বেঁচে তোমার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের খরচ জোগাব।’

বেছে বেছে বাড়ির সবচেয়ে কাছের কলেজেই তাকে ভর্তি করিয়ে দেন বাবা। যাতে কলেজে ছুটির পরই ছেলে তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে খেতে কাজ করতে পারেন।

১৯৮২ সালে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন শিবন। ওই বছরই ইসরোর পিএসএলভি তৈরির প্রজেক্টে যুক্ত হন। তারপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তরতর করে এগিয়ে গেছে তার ক্যারিয়ার। তিনি ইসরোর লিকুইড প্রপালশন সিস্টেম সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ২০১৪ সালে। আর মহাকাশ গবেষণা সংস্থার কর্তৃত্ব হাতে পান গত বছর। এরপরই হাতে নেন ভারতের চন্দ্র অভিযান প্রকল্প।

চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণের কথা ছিলো ২০১৮ সালের মার্চে। তবে মহাকাশযানে আরও পরীক্ষা চালানোর জন্য প্রথমে এপ্রিল এবং পরে অক্টোবর পর্যন্ত দেরি করা হয়। শেষে এর উৎক্ষেপণের তারিখ চূড়ান্ত করা হয় চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর। পরে সময় এগিয়ে শেষেমেষ চন্দ্রযান -২ যাত্রা শুরু করে গত ২২ জুলাই। মহাকাশে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে শুক্রবার রাত ১টা ৫৩ মিনিট নাগাদ চাঁদের মাটিতে পা রাখার কথা ছিলো ভারতের চন্দ্রযান-২’র। কিন্তু চাঁদের মাত্র ২.১ কিলোমিটার আগে থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ল্যান্ডার বিক্রমের।

চন্দ্রযান ২-এর মতো চ্যালেঞ্জিং প্রকল্পে আশানুরূপ ফল না মেলায় ভেঙে পড়েছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান বিজ্ঞানী শিবন-ও। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তখন ভেঙে পড়া সিভনকে সামলে নেন মোদি। তাকে জড়িয়ে ধরে পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দেন মোদি। এই দৃশ্যের ভিডিও দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলো গোটা ভারত। সূত্র: আনন্দবাজার

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত