ঢাকা, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

প্রিন্ট

চিবিয়ে খাওয়া আখের সহজে চাষ পদ্ধতি

চিবিয়ে খাওয়া আখের সহজে চাষ পদ্ধতি

কৃষি ডেস্ক

প্রায় সব মানুষের কাছেই চিবিয়ে খাওয়া আখ বা আখের রস খুব জনপ্রিয়। বাংলাদেশের সকল এলাকাতে চিবিয়ে খাওয়া আখ ও রস আহরণের জন্য আখের আবাদ হয়। বসত বাড়ির আঙিনা ও বাড়ির আশেপাশে পড়ে থাকা অনাবাদী জমিতে অনায়াসে চিবিয়ে খাওয়া আখের আবাদ করা যায়।

প্রায় প্রত্যেক এলাকায় স্থানীয় জাতের আখ আছে। তাই সহজে স্থানীয় জাতের আখের বীজ সংগ্রহ করে লাগানো যায়। এছাড়া জনপ্রিয় কিছু উন্নত জাত আছে। এই জাতগুলো হলো বিএসআরআই আখ ৪১, বিএসআরআই আখ ৪২, চাঁনপুরী গ্যান্ডারি, টেনাই, বাঁশ কুশাইল, সিও ২০৮, পচাদানা, ঢোল বাজারী, মিশ্রি দানা ও মধুমালা ইত্যাদি।

সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক মাসে আখের দুই চোখ বিশিষ্ট বীজখণ্ড বীজ তলায় বপন করে চারা তৈরি করে নিতে হবে। বীজ তলায় বীজ বপন করার পূর্বে সতেজ চোখ বিশিষ্ট বীজখণ্ড প্রতি লিটার পানিতে এক গ্রাম ব্যাভিষ্টিন অথবা নোইন মিশ্রিত দ্রবণে ৩০ মিনিট সময় ধরে শোধন করে নিতে হবে।

বীজ তলায় সাধারণত ৩ হাজার ৫০০ আখ বীজের সেট বপন করলে চারার চাহিদা মিঠে যাবে। জমিতে জো থাকায় অবস্থায় দোআঁশ মাটি ও এটেল দোআঁশ মাটিতে ৮/৯ ইি গভীর করে চাষ দিতে হবে। চারার বয়স যখন ৪০/৪৫ দিন হবে তখন নালা পদ্ধতিতে সারি থেকে সারির দূরত্ব ১ (এক) মিটার এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৬০ সে.মি দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করতে হবে। নালায় রোপণের সময় পরিমাণ মতো জৈব সার গোবর এবং রাসায়নিক সার টিএসপি, জিপসাম, দস্তা, ১/৩ এমওপি সার এবং কীটনাশক রিজেন্ট ২ কেজি বিঘা প্রতি, কুরাটার বিঘা প্রতি ৫ কেজি একসাথে মিশ্রিত করে প্রয়োগ করতে হবে।

চারা রোপণের পর নালায় সেচ প্রদান করতে হবে, যাতে চারা ও সার মাটির সাথে মিশে যায়। চারা লাগানোর ২০/২৫ দিন পর ১/৩ ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ করে পূর্বের ন্যায় নালায় সেচ দিতে হবে। অবশিষ্ট ১/৩ ভাগ ইউরিয়া ও ১/৩ ভাগ এমওপি সার কুশি গজানোর সময় প্রয়োগ করে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

সার প্রয়োগের শেষ ধাপে বাকী ১/৩ ভাগ ইউরিয়া ও ১/৩ ভাগ এমওপি সার আখের বয়স যখন ৫/৬ মাস হবে তখন উপরি প্রয়োগ করতে হবে। আখের জমিতে রস ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ৩/৪ বার সেচ দিতে হবে। চিবিয়ে খাওয়া আখ চাষের জন্য সাধারণত ৩৩ শতাংশের বিঘায় নিম্নলিখিত হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

ইউরিয়া ৩৬ কেজি

টিএসপি ২৬ কেজি

এমওপি ২৬ কেজি

জিপসাম ১০ কেজি

দস্তা ১ কেজি

গোবর ২ টন

আখের জমিতে সার প্রয়োগের সাথে সাথে আখের আন্তঃপরিচর্যা করতে হবে। সাধারণত আখ ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কেটে সহজে চিবিয়ে খাওয়া যায় ও রসের জন্য বিক্রি করে চাষি অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারে ও পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারে। তাই প্রত্যেক বসত বাড়িতে আখ চাষ করে আখের আবাদ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

লেখক: কৃষিবিদ ড. আবুল কালাম আল আজাদ

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত