ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

রঙিন কমলায় দৃষ্টিনন্দন নানিয়াচর

  হিমেল চাকমা, রাঙামাটি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৩৮  
আপডেট :
 ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:১১

রঙিন কমলায় দৃষ্টিনন্দন নানিয়াচর
ছবি: নানিয়াচরের কমলা বাগান

হিমেল চাকমা, রাঙামাটি

রাঙামাটির নানিয়াচরে এ বছর কমলার ভালো ফলন হয়েছে। আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি রঙিন কমলায় ভরপুর এখন নানিয়াচরের বাগানগুলো। বাজারে কমলার দাম থাকায় এ বছর বেশ আয় হবে বলছেন বাগানীরা।

রাঙামাটি জেলায় সবচেয়ে বেশি কমলার চাষ ও ভালো ফলন হয় নানিয়াচর উপজেলার বুড়িঘাট, সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নে।

গেলো শনিবার নানিয়াচর উপজেলা ও লংগদু উপজেলা সীমান্ত এলাকা বুড়িঘাট ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় কমলার বাগানগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে বড় বড় রঙিন কমলা। কমলার ভারে নুয়ে পড়েছে কমলা গাছের ঢালপালাগুলো। বাঁশের খুঁটির ঠেস দিয়ে মাটির উপরে রাখা হয়েছে কমলাগুলো।

পাহাড়ের ঢালে সৃজন করা এসব কমলার বাগানের মালিক এ বছর প্রত্যেকে ৫/১০ লাখ টাকা আয়ের কথা ভাবছেন।

শৈলাচ্ছড়ি গ্রামের কমলা চাষি রঞ্জন চাকমা (৪৫) বলেন, এ বছর তিনি শুধু কমলা বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন। গত বছর থেকে এ বছর ফলন বেশি ও কমলাগুলো আকারে বড় হয়েছে।

ছবি ১: নানিয়াচরের কমলা বাগান

একই গ্রামের নিপুণ চাকমা (৩২) বলেন, এ বছর তার বাগানের কমলার ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর তিনি ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন।

নব কার্বারী পাড়া গ্রামের নবজ্যোতি চাকমা (৩৫) বলেন, কমলা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কিছু বাজারে বিক্রি করেছি। এ বছর ২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা তার। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে ফলন আরো বাড়াতে পারবো।

তিনি বলেন, রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলার কমলাগুলো শেষ হবার পর আমাদের এলাকার কমলাগুলো বাজারে আসে। গাছে কমলাগুলো রং ধরে। স্বাদে মিষ্টতা বাড়ে। এজন্য আমাদের কমলাগুলো এখন বাজারে সেরা কমলা। কমলাগুলো এতদিন গাছে রাখতে পশু, কীট পতঙ্গ ও পাখির সাথে আমাদের বেশ লড়াই করতে হয়। রাতদিন এখন বাগানগুলো পাহারা দিতে হয়। না হলে বানর, পাখি, কাঠ বিড়ালী, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন কীট কমলার ক্ষতি করে।

ছবি ২: নানিয়াচরের কমলা বাগান

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতি বছর এ এলাকায় কমলার ভালো ফল হলেও এ বছর পরিমিত বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কমলার ভালো ফলন হওয়ার পাশাপাশি আকারেও বড় হয়েছে কমলাগুলো। করোনা কালীন সময় কমলার ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাজারেও বেশ ভালো কমলার দাম।

যেসব বাগানী কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কমলা বাগানগুলো পরিচর্যা করেছে সেগুলোতে একটি কমলার ওজন হয়েছে ২শ’ থেকে ৩শ’ গ্রাম পর্যন্ত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটির জেলার মধ্যে নানিয়াচর উপজেলার বুড়িঘাট ও সাবেক্ষং ইউনিয়নে উৎপাদিত কমলাগুলো সবচেয়ে বড়। এ বছর জেলা কমলার ফলন বেশি হয়েছে যার বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকার উপরে।

এ বছর রাঙামাটিতে ৮০০ হেক্টর জমিতে কমলার বাগান রয়েছে। এ থেকে ৯ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন কমলার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। রাঙামাটির বাজারে বর্তমানে আকার অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি কমলা ৩০ টাকা ৬০ টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত