ঢাকা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২১, ১৪:২৮

প্রিন্ট

রাজবাড়ীতে ‘কালোসোনা’ খ্যাত পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে

রাজবাড়ীতে ‘কালোসোনা’ খ্যাত পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে
ছবি: প্রতিনিধি

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের আবাদের পাশাপাশি কদম পেঁয়াজ বীজের আবাদও হয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে। জেলায় পেঁয়াজ আবাদে যে পরিমাণ বীজ প্রয়োজন তার অধিকাংশ বীজ রাজবাড়ীতেই উৎপাদিত হয়ে থাকে। উৎপাদিত এসব বীজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। বেশি দাম হওয়ায় পেঁয়াজের এ বীজকে চাষি ও কৃষি অধিদপ্তর ‘কালোসোনা’ বলে নামকরণ করেছে। বিঘা প্রতি প্রকার ও মান ভেদে ৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকার বীজ বিক্রি হয়। এ বীজ আবাদ করে চাষিরা অন্যান্য ফসলের চাইতে অধিক পরিমাণে লাভবান হয়ে থাকেন। কৃষি অধিদপ্তর বলছে, অধিক লাভের কারণে প্রতিবছরই বীজের আবাদ বাড়ছে। এবছর বীজ বিক্রি থেকে ৩৭ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলা, পাংশা,বালিয়াকান্দি কালুখালী ও গোয়ালন্দে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে জেলা সদর ও কালুখালী উপজেলাতে আবাদ বেশি হয়ে থাকে। কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের গড়িয়ানা ও দামুকদিয়া গ্রামের ফসলী মাঠে গিয়ে দেখা যায় পুরো মাঠ জুড়ে শুধু কদম পেঁয়াজ বীজের আবাদ করেছেন চাষিরা। প্রতি বছরই এ মাঠে চাষিরা পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেন।

জেলার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ বীজ আবাদ ও উৎপাদন এখানেই হয়ে থাকে। বেশি লাভের কারণে পেঁয়াজ বীজ ছাড়া অন্য কোন ফসলে তেমন একটা আগ্রহ দেখান না এখানকার চাষিরা । এক বিঘা জমিতে খরচ বাদে এবং প্রকার ভেদে ৫ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লাভ হয় বলে তারা অন্যান্য ফসলের চাইতে বীজের আবাদেই আগ্রহ বেশি। গত বছর ১৬৮ হেক্টর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হলেও এবছর তা বেড়ে ১৭৭ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ৯ হেক্টর জমিতে বীজের আবাদ বেড়েছে।

প্রতি বছরের মত এবছরও এ এলাকার চাষি মোঃ ওয়াজেদ আলী মন্ডল ও বকু মন্ডল পেয়াজ বীজ আবাদ করেছন কয়েক বিঘা জমিতে। বিঘাপ্রতি বীজ, সার, কীটনাশক, মজুরী ও চাষাবাদসহ তাদের খরচ হয়েছে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে দুই থেকে আড়াই মণ বীজ হয়ে থাকে। প্রকার ভেদে ৬ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয়ে থাকে। গত বছরও ভালো দামে বীজ বিক্রি করেছেন। তবে বাজার দর গত বছরের মত থাকলে তারা বিঘা প্রতি ৫ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা বীজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক এসএম সহীদ নুর আকবর বলেন, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাজবাড়ী জেলা বিশেষ ভূমিকা পলন করে আসছে। গত বছর ১৬৮ হেক্টর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছিল। এবছর তা বেড়ে ১৭৭ হেক্টর আবাদ হয়েছে। স্বাভাবিক হারে হেক্টর প্রতি সাড়ে ৫ মে.টন উৎপাদন ধরা হলে ৯২ মে.টন বীজ উৎপাদন হবে জেলায়। বাজার দর স্বাভাবিক থাকলে রাজবাড়ীর চাষিরা ৩৭ কোটি টাকার উৎপাদিত বীজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন।

আরও পড়ুন- সবুজের মাঠে সূর্যমুখীর হাসি

টিভি’র খবর পাল্টে দিল তরমুজ নিয়ে বাতেনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত