ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৪০

প্রিন্ট

হাওরে শিলাবৃষ্টি-গরম বাতাসের পর পোকাড় উপদ্রব

হাওরে শিলাবৃষ্টি-গরম বাতাসের পর পোকাড় উপদ্রব
ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে গত রোববার বিকেলে শুরু হয় হঠাৎ দমকা গরম বাতাস। এই বাতাসের কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিন থেকে চার ঘণ্টা স্থায়ী বাতাসে স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয় এক ধরনের আতঙ্ক। তবে রাতে বাতাস কমার পর আতঙ্ক কমে গেলেও সকালে উঠে কৃষকের মাথায় হাত। সূর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে উঠতি বোরো ধানের শীষ শুকাতে শুরু করে ক্ষেতের পর ক্ষেত। শুধু তাই নয় শিলাবৃষ্টিতেও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে ফসলী জমির। এদিকে এরই মধ্যে আবার শুরু হয়েছে শীষ কাঠাল নামক এক পোকার উপদ্রব। হেক্টরের পর হেক্টর ফসলী জমি খেয়ে ফেলছে এই পোকা। ছায়ার হাওরের একটি অংশ ঘাতুয়া হাওর। এই হাওরে পোকার উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক প্রবোধ সরকার ৯ একর জমিতে চাষ করেছেন। তার মধ্যে ৩ একর জমি শীষ কাঠাল নামক এই পোকায় খেয়ে ফেলেছে। এছাড়া শীলাবৃষ্টি ও গরম বাতাসে অন্যান্য জমিগুলো ৫০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে এই কৃষক জানান।

বাহাড়া ইউনিয়নের খলার হাওর ভেড়াডহর ছাগল নাইয়া, হবিবপুর ইউনিয়নের ভান্ডারবিল, উদগল হাওরেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ছায়ার হাওরের কৃষকদের।

প্রবোধ সরকার বলেন, গত রোববার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুধু গরম বাতাস ছিল। কোনো রকম ঝড়-বৃষ্টি ছিল না। বাতাসটা অসহ্য মনে হচ্ছিলো। সকালে রোদ ওঠার পর হাওরে গিয়ে দেখি থোড় আসা ধান মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমারা সংসার চালাবো কী করে? বেশি ফলনের জন্য হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। কিন্তু এখন সর্বনাশ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বাতাসটি আমরা বুঝতে পারি নাই। জীবনেও এমন গরম বাতাস দেখি নাই। সকালে উঠে দেখি ক্ষেতের ধান মরে গেছে। আমরা কী খেয়ে বাঁচবো। ঋণ করে গিরস্থি (চাষ) করেছি। এখন কী করে ঋণ দেব, কীভাবে সারা বছর স্ত্রী, সন্তানের ভরণ-পোষণ করবো?

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার হাওরাঞ্চলে উঠতি বোরো হাইব্রিড জাতের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গরম দমকা বাতাসে ফসলের শীষ শুকিয়ে যাচ্ছে। পুরো ক্ষেতে ধানের শীষ মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে শীষ কাঠাল নামক পোকায় ৫০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। তবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে করে ৪৫ হেক্টর জমি পোকাড় আক্রমণ থেকে রক্ষা করা গেছে। গত রোববারের গরম বাতাসে ৩৫ ভাগ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মবিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, গরম বাতাসে হাওরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে লোকবল সংকট থাকায় শতভাগ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১২ জন মাঠকর্মী প্রয়োজন। এর মধ্যে আছে ৪জন। তাই লোকবল সংকট থাকায় পরামর্শ প্রদানে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শাল্লায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। সকল এলাকায় পোকার আক্রমণ নেই। যেখানে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেখানকার কৃষকদের বিকালে সোনালী মিস নামের কীটনাশক ১০ লিটার পানির সঙ্গে ১০ মিলি মিশিয়ে অথবা মার্শাল নাইট্রো ১০ লিটার পানির সঙ্গে ২০ মিলি মিশিয়ে ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-

হিট শকে কালিয়াকৈরের শত হেক্টর জমির ধানে চিটা

তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেই ধানে চিটা

১০ মিনিটের গরম বাতাসে সর্বনাশ, সব ধানে চিটা

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত