ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

ইভ্যালি অবসায়নে দেনা মেটানোর প্রস্তাব

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৪

ইভ্যালি অবসায়নে দেনা মেটানোর প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইভ্যালি, ই অরেঞ্জসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে গ্রাহকরা এখন দিশেহারা। টাকা ফিরে পেতে আইনের আশ্রয়ও নিয়েছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানি আইন অনুযায়ী অবসায়নের মাধ্যমে এসব গ্রাহকদের দেনা পরিশোধ করা সম্ভব। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, সমন্বয় ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি আয়োজিত ‘ই-কমার্স খাতের চ্যালেঞ্জ: সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এমন অভিমত প্রকাশ করেন বক্তারা।

সভায় কর্পোরেট আইন বিশেষজ্ঞ ও ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এখন জনগণের পাওনা টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন? অনেকে বলাবলি করছেন, যে সরকারি অর্থায়ন থেকে জনগণের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু জনগণের করের টাকা সরকারের কাছে আমানত। একজনের লুটপাটের টাকা পরিশোধে আমি ট্যাক্স দিইনি, এটা সংবিধানবিরোধী।

ইভ্যালি অবসায়ন করে দেনা পরিশোধের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এখন কোম্পানি আইন অনুযায়ী ওই কোম্পানিকে অবসায়ন করে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে পাওনা পরিশোধ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে যে লোকের ২০ হাজার টাকা পাওনা আছে তাকে এক হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব হলে, তাকে ওইটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই করের টাকায় এই পাওনা পরিশোধ করা যাবে না।

ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম আরও বলেন, আইনের অভাব নাই, নতুন আইনেরও দরকার নাই। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যদি বাড়ানো যায় এবং সেই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সততার সাথে কাজ করে তাহলে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকানো যাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) যেসব আইন আছে, তা দিয়ে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

ব্রাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আরএফ হোসাইন বলেন, ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স কোম্পানি দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় বিপদ সংকেত দিয়েছে। ইভ্যালিসহ সম্প্রতি যা ঘটেছে তা সকল পক্ষের লোভের কারণেই হয়েছে। এখন জনগণের বিপুল পাওনা টাকা কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করে যেটুকু পাওয়া যায়, তাই ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সভায় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত