ঢাকা, রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ আপডেট : ৮ মিনিট আগে

আরও কঠিন হয়ে উঠবে জনজীবন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২২, ২২:২৮  
আপডেট :
 ০৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত শুক্রবার রাত ১২টা থেকেই কার্যকর করার ঘোষণা দেয়া হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১৩০ টাকা এবং অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিজেল ও কেরোসিন ৮০ টাকা, পেট্রোল ৮৬ টাকা এবং অকটেন ৮৯ টাকা। এক্ষেত্রে ডিজেল ও কেরোসিনে বাড়ল ৩৪ টাকা, পেট্রোলে ৪৪ টাকা এবং অকটেন ৪৬ টাকা। এক লাফে জ্বালানি তেলেরে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করায় আরও কঠিন হয়ে উঠবে জনজীবন।

এরমধ্যে ডিজেল ও কেরোসিনে বেড়েছে ৪২.৫ শতাংশ এবং অকটেন ও পেট্রোলে বেড়েছে ৫১ শতাংশ। এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির এ ঘোষণার পর রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নেয়ার জন্য মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভিড় দেখা যায়।

এর আগে শুক্রবার বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ছাড়াও গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের ব্যাপারে আমরা অপেক্ষায় আছি, গ্যাসের ব্যাপারে আমরা আরেকটা সমন্বয়ে যেতে চাচ্ছি এবং আমরা মনে করছি, তেলেরও একটা সমন্বয় হওয়া উচিত। ইতোমধ্যে বিপিসি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার উপরে নিজে থেকে লস দিয়েছে। বৃহৎ অ্যামাউন্ট এই সময়ে। আমি মনে করি যে, কোথায় কমলো, কোথায় বাড়ল তা না। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে একটা সমন্বয় থাকা উচিত।

বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ই আর এল)-এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ে এই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নাই। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনঃবিবেচনা করা হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। ভারত ২২ মে থেকে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে যা এখনো বিদ্যমান আছে। এই মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা। (১ রুপি=গড় ১.২৩ টাকা)। অর্থাৎ বাংলাদেশে কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রয় হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিগত ৬ মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে (সকল পণ্য) ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে/জিকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত