ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২০, ১৪:০৬

প্রিন্ট

কেউ করছে প্রচার, কেউ দিচ্ছে নিষেধাজ্ঞা

কেউ করছে প্রচার, কেউ দিচ্ছে নিষেধাজ্ঞা
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কোথাও কোথাও চলছে জোড় প্রচার-প্রচারণা। আবার কোথাও কোথাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার। তবে, যাই হচ্ছে না কেন এটা স্বীকার করে নিতে হবে করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত পৃথিবী।

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাস এরই মধ্যে ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে৷ আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এখনো এ রোগের টিকা বা উপশমে কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি৷ বিভিন্ন দেশে গুরুতর রোগীদের উপর কয়েকটি ওষুধের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ চলছে৷ যে ওষুধগুলোর একটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন৷ এটি মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ৷

তবে এ ওষুধের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের গতি অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে৷ যদিও ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিরাপদ। এছাড়া, আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায়ও এ ওষুধ ব্যবহৃত হয়৷ কিন্তু কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত নয়৷

কেন এ ওষুধ নিয়ে এত হইচই

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ব যখন দিশেহারা তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই করোনায় চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সফলতার পক্ষে প্রচারে নেমে যান৷ এমনকি, মে মাসের প্রথম দিকে তিনি সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিজে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবনের দাবিও করেন৷ তার এ দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশনে এ ওষুধের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়৷

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতার পক্ষে সাফাই গেয়ে একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন৷ যদি পরে অনলাইন থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেয়া হয়৷

অথচ গত ২২ মে প্রকাশিত মেডিক্যাল জার্নাল দ্য লানসেট-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক লাখ কোভিড-১৯ আক্রান্তের উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ব্যবহারে তাদের শরীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি৷ বরং ওই ওষুধে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়৷ যদিও অনেক বিজ্ঞানী দ্য লানসেট-র জরিপ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ যার প্রেক্ষিতে জার্নালটি প্রতিবেদনের কিছু তথ্য সংশোধন করে৷ কিন্তু তাতেও বিতর্ক শেষ হয়নি। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best