ঢাকা, বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৫১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২০

প্রিন্ট

করোনা শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে

কমেছে শনাক্তের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে দৈনিক করোনা ভাইরাসে শনাক্তের হার এখন ১০ শতাংশের নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা নমুনার হিসাবে বাংলাদেশে এখন প্রতি ১০০ জনে আক্রান্ত হচ্ছেন ৯.৯৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৫৭৮০ জনের মৃত্যু হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে আরো ১০৯৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হলেন ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ রোগ থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৪৯৮ জন। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ থেকে মোট সুস্থ মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৩ জন।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৯৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৬ জনের।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যে সাতটি বিষয় মনে রাখবেন

করোনা বিস্তার এবং প্রাণহানি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে। বিশ্বজুড়ে সোমবার পর্যন্ত ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে ২৪ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার।

মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে সাধারণ কিছু সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

১. গণপরিবহন: গণপরিবহন এড়িয়ে চলা কিংবা সতর্কতার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাস, ট্রেন কিংবা অন্য যে কোন ধরণের পরিবহনের হাতল কিংবা আসনে করোনাভাইরাস থাকতে পারে। সেজন্য যে কোন পরিবহনে চলাফেরার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা এবং সেখান থেকে নেমে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. কর্মক্ষেত্র: অফিসে একই ডেস্ক এবং কম্পিউটার ব্যবহার করলেও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁচি-কাশি থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায়। যে কোন জায়গায় করোনাভাইরাস কয়েক ঘন্টা এমনকি কয়েকদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। অফিসের ডেস্কে বসার আগে কম্পিউটার, কিবোর্ড এবং মাউস পরিষ্কার করে নিন।

৩. জনসমাগমস্থল: যেসব জায়গায় মানুষ বেশি জড়ো হয় সেসব স্থান এড়িয়ে চলা কিংবা বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে খেলাধুলার স্থান, সিনেমা হল থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থানও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জুমার নামাজের সময় বাড়ি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

৪. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যখন গ্রাহকরা যায় তখন অনেকেই একটি কলম ব্যবহার করেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি যদি সে কলম ব্যবহার করে তাহলে পরবর্তী ব্যবহারকারীদেরও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। সেজন্য নিজের কলম আলাদা করে রাখতে পারেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

৫. লিফট: ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে আরেকটি জায়গা হতে পারে বাড়ি কিংবা অফিসের লিফট। লিফট ব্যবহারের সময় নির্ধারিত ফ্লোরে যাবার জন্য লিফটের বাটন অনেকে ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থাকেন এবং সে লিফটের বাটনে অন্যদের আঙ্গুল গেলেও সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

৬. টাকা-পয়সা: ব্যাংক নোট বা টাকায় নানা ধরণের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করার ঘটনা নতুন নয়। এমনকি ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সংক্রামক নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের একদল গবেষক বলেছিলেন, তারা বাংলাদেশি কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রায় এমন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছেন, যা সাধারণত মল-মূত্রের মধ্যে থাকে।

৭. শুভেচ্ছা বিনিময়: করমর্দন এবং কোলাকুলির মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। আপনি যে ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি এবং করমর্দন করছেন, তিনি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে সেটি অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। এজন্য করমর্দন এবং কোলাকুলির না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরো পড়ুন: করোনায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু

কেএস/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত