ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১৯:২২

প্রিন্ট

করোনা বিস্তারে দায়ী কে?

করোনা বিস্তারে দায়ী কে?
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের সঙ্গে করোনার সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু ঠাণ্ডার সঙ্গে এই ভাইরাসের অন্য গোত্রগুলোর (সর্দি ও কাশি) সম্পর্ক রয়েছে। তবে করোনার বিস্তারে ঠাণ্ডা বেশি দায়ী নাকি মানুষের আচরণ- এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো দ্বিমত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, একেক দেশে করোনার একেক রকম আচরণ দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু আবহাওয়া নয়, সেখানকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা ও জনসাধারণের সচেতনতার বিষয়টিও কাজ করে।

এদিকে শীতে দেশে ভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে সরকার। এজন্য নানা প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। আর গত কিছুদিন ধরে মৃত্যুর সংখ্যা ও নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতেও দেখা গেছে। দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন মারা গেছে। একই সঙ্গে এই ভাইরাসে দুই হাজার ১৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৫৪ হাজার ১৪৬ জনে পৌঁছাল।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শীতকালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রওশন আরা খানম বলেন, করোনা প্রকোপ কমে আসার পর এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ঠাণ্ডার সঙ্গে ভাইরাসের বাড়া-কমার কোন সম্পর্ক আছে, সেটা আমরা এখনো পাইনি।

অন্যদিকে শীত শুরু হতেই করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এই দ্বিতীয় ধাক্কায় লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। তবে এটি দ্বিতীয় ঢেউ কিনা তা এখনই বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়। এসময় নতুন রোগী শনাক্ত হয় দুই হাজার ২৩০ জন, ২৩ নভেম্বর দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ২ হাজার ৪১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, ২২ নভেম্বর দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। এই দিন ২ হাজার ৬০ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে, ২১ নভেম্বর দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে ১ হাজার ৮৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়, ২০ নভেম্বর ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। আর এই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৭৫ জন, ১৯ নভেম্বর করোনায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়। নতুন করে এই সময়ে ২ হাজার ৩৬৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, ১৮ নভেম্বর দেশে ২ হাজার ১১১ জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং মৃত্যু হয় ২১ জনের এবং ১৭ নভেম্বর ভাইরাসটিতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে ২ হাজার ২১২ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, এটা দ্বিতীয় ঢেউ কিনা তা এখনো বলতে পারব না। কারণ দেশে প্রথম দফার সংক্রমণ শেষ হয়নি। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশগুলোতে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেভাবে শীত পড়ছে না এবং তাপমাত্রা মাইনাস ৫ থেকে ৬ ডিগ্রির নিচেও নামে না। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে এখনই বলা যাবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কেএস/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত