ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:০২

প্রিন্ট

আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিটের যাত্রা শুরু

আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিটের যাত্রা শুরু
আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিটের উদ্বোধন। ছবি প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাত্রা শুরু করলো আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিট। এর মধ্য দিয়ে এক ছাদের নিচে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রথম স্তন ক্যান্সারের সমন্বিত চিকিৎসা শুরু হলো। সোমবার দুপুরে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিটের উদ্বোধন করেন আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খান।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেকচার গ্যালারী-১ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. এখলাসুর রহমান, আনোয়ার খান মডার্ণ হেলথ্ গ্রুপের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আশরাফ আব্দুল্লাহ ইউসুফ, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী, পরিচালক ডা. এনায়েত হোসেন ও গণমাধ্যমকর্মী হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের গাইনী ও অবস্ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সেহরীন এফ সিদ্দিকা। বিশেষ বক্তব্য রাখেন কলেজের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এহতেশামুল হক, চিকিৎসক টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কলেজের কনসালট্যান্ট সনোলজিস্ট ইন্টারভেনশনাল আল্ট্রাসাউন্ড বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়রা ইসলাম খান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণ রূপা মজুমদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম আরিফ।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. এখলাসুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি বলেন, আমরা ব্রেস্ট ইউনিটটির যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি মানুষের সেবা দেয়ার লক্ষে। একঝাঁক তরুণ মেধাবী এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দের সমন্বয়ে ইউনিটটি সাজানো হয়েছে। অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে। আমি মনে করি, অত্যন্ত সুলভ মূল্যে রোগীরা এখানে উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা পাবেন। তিনি বলেন, আমাদের এই ইউনিটটি কয়েকটি ডিপার্টমেন্টের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা প্রদান করবেন। স্তনের সকল ধরণের সমস্যার সমাধান এই ইউনিট থেকে দেয়া হবে।

করোনাযুদ্ধে আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালের ভূমিকা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চেষ্টা করে আসছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। করোনাযুদ্ধে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা অংশ নিয়েছি। সরকার যেভাবে চেয়েছে আমরা সেভাবেই সেবা প্রদান করে চলেছি। আমাদের চিকিৎসকবৃন্দরা রাত-দিন মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

আনোয়ার খান মডার্ণ কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম আরিফ।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আরো বলেন, আমার কাজ শুধু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা নয়। আমি একজন জনপ্রতিনিধি। আমাকে সংসদীয় এলাকার মানুষের জন্যও কাজ করতে হয়। আধুনিক রামগঞ্জ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে আনোয়ার খান বলেন, আমার সংসদীয় এলাকা ছিলো পিছিয়ে পড়া জনপদ। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় শতাধিক স্কুল চার তলায় উন্নতি হচ্ছে, চল্লিশটির মত কলেজ ৬ তলা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ২৪০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষ আমার আপনজন। আমি মা-বাবা হারা সন্তান। রামগঞ্জের মানুষের মধ্যেই আমি আমার মা-বাবাকে খুঁজে পেয়েছি। তাদের সুখে আমি সুখী এবং তাদের দুঃখেই আমি দুঃখী।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. এখলাসুর রহমান বলেন, আমি আশা করি, ইউনিটটি অত্যন্ত ভাইব্রেন্ট ইউনিট হবে। এটা দেশের স্তন চিকিৎসাসেবায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেলের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আশরাফ আব্দুল্লাহ ইউসুফ বলেন, এই ইউনিটটি একটি স্বয়ংসম্পন্ন ইউনিট। এখানে অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ যুক্ত হয়েছেন। আশা করি ইউনিটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আনোয়ার খান মডার্ণ কলেজের কনসালট্যান্ট সনোলজিস্ট ইন্টারভেনশনাল আল্ট্রাসাউন্ড বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়রা ইসলাম খান।

গাইনি এন্ড অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহরীন এফ. সিদ্দিকা বলেন, আমাদের সমাজে দরকার সচেতনতা। সময়মত স্তন স্ক্রিনিং করতে হবে। আমরা চাই না কোনো মা-বোন-মেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এহতেশামুল হক বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন আমাদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান। আমরা তারই নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছি। আমাদের হাসপাতালে আগে থেকেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা রয়েছে। আরো উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষে এটি চালু করা হয়েছে।

ডা. হুমায়রা ইসলাম খান বলেন, আমি ইউনিটটিতে যুক্ত হয়েছি। আশা করি সবার জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাত্রা শুরু করলো আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিট।

চিকিৎসা সেবা এবং মূল্য

আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিটে নয়টি প্যাকেজে সেবা প্রদান করা হবে। প্যাকেজ-১ এ রয়েছে ক্লিনিকাল ব্রেস্ট স্ক্রিনিং। এর খরচ ৫০০ টাকা। প্যাকেজ-২ এ রয়েছে ক্লিনিকাল ব্রেস্ট স্ক্রিনিং এবং উভয় স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি। উভয়ের মূল্য যথাক্রমে ৫০০ এবং ২৫০০ টাকা। প্যাকেজ-৩ এ রয়েছে ক্লিনিকাল ব্রেস্ট স্ক্রিনিং এবং একটি স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি; উভয়ের মূল্য যথাক্রমে ৫০০ এবং ২২০০ টাকা। প্যাকেজ-৪ এ রয়েছে ক্লিনিকাল ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ও উভয় স্তনের ম্যামোগ্রাফি। উভয়ের মূল্য যথাক্রমে ৫০০ টাকা এবং ২০০০ টাকা। প্যাকেজ-৫ এ রয়েছে ক্লিনিকাল ব্রেস্ট স্ক্রিনিং, একটি স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি এবং উভয় স্তনের ম্যামোগ্রাফি; খরচ সমূহ যথাক্রমে ৫০০ টাকা, ২২০০ টাকা এবং ২০০০ টাকা। প্যাকেজ-৬ এ রয়েছে ক্লিনিকাল ব্রেস্ট স্ক্রিনিং, উভয় স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি এবং উভয় স্তনের ম্যামোগ্রাফি; খরচ সমূহ যথাক্রমে ৫০০ টাকা, ২৫০০ টাকা এবং ২০০০ টাকা। প্যাকেজ-৭ এ রয়েছে আল্টাসাউন্ডের মাধ্যমে এফএনএসি এবং প্যাথলজি। উভয়ের খরচ যথাক্রমে ১৫০০ টাকা এবং ৬০০ টাকা। প্যাকেজ ৮ এ কোর বায়োপসি; মূল্য ১৫০০০ টাকা। প্যাকেজ-৯ এ মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিম টিউমার বোর্ড; খরচ ৩০০০ টাকা।

চিকিৎসা দিবেন যারা

আনোয়ার খান মডার্ণ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিটে দেশের সেরা বিশেষজ্ঞগণ চিকিৎসা দেবেন। তারা হচ্ছেন- আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম আরিফ (এমবিবিএস ও এফসিপিএস ‘সার্জারি’), গাইনি এন্ড অবস্’র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকী ‘প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপরোস্কপিক সার্জন’), ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এহ্তেশামুল হক ‘এমবিবিএস, বিসিএস ‘স্বাস্থ্য’ ও এম. ফিল ‘রেডিওথেরাপি’), ডা. হুমায়রা ইসলাম খান ‘এমবিবিএস ‘ডিএমসি’, কনসালটেন্ট সনোলজিস্ট ইন্টারভেনশনাল আলট্রাসাউন্ড বিশেষজ্ঞ ফেলো অব রেডিওলোজী এন্ড ইমেজিং, নিউ ইংল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার হসপিটাল টাফটস ইউনিভার্সিটি , বোস্টন, ইউএসএ’) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জিক্যাল অনকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণা রূপা মজুমদার ‘এমবিবিএস, এফসিপিএস ‘সার্জারি’, এফসিআরএ ‘কেলো-রেকটাল’, জেনারেল, কেলো-রেক্টাল, ব্রেস্ট, রিকনস্ট্রাকটিভ ও লেজার সার্জন’), ডা. সামান্তা মেহরীন প্রিয়ামা (এমবিবিএস ‘ডিইউ’, এমআরসিএস-পি১ ‘ইউকে’), মেডিকেল অফিসার (সার্জারি) ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিট এবং ডা. হাসনাতুল ফেরদৌস সুপ্তি (এমবিবিএস ‘ডিইউ’, মেডিকেল অফিসার ‘সার্জারি’ ব্রেস্ট কেয়ার ইউনিট।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিও/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত