ঢাকা, সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৩৬

প্রিন্ট

ভ্যাকসিনের যত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ভ্যাকসিনের যত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক করোনার সংক্রমণ রোধে ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। আগামী বুধবার থেকে বাংলাদেশেও ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে করোনা টিকার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু যে কোনো টিকারই সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তেমনি এই ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

করোনা ভ্যাকসিনের যত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে-

সাধারণ প্রতিক্রিয়া: যে কোনো টিকারই সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। যেমন, শরীরে ইনজেকশন দেয়ার স্থানটি লাল হয় বা ফুলে যায়। তিনদিনের মধ্যে অবসাদ, জ্বর, মাথা ব্যাথা, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ব্যাথা হতে পারে। তবে এর কোনটিই দীর্ঘস্থায়ী নয়।

শরীরে টিকার কার্যকারিতা শুরু হলে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। অনুমোদন পাওয়া করোনা ভ্যাকসিনগুলোর ক্ষেত্রেও এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

গুরুতর প্রতিক্রিয়া: বিরল হলেও কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যেমন, যুক্তরাজ্যে টিকা কর্মসূচি চালুর পর গত ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুইজনের অ্যালার্জি দেখা দেয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ধরণের সমস্যা যাদের আছে তাদেরকে সতর্ক করেছে। তবে সার্বিকভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণেই করোনার বিভিন্ন টিকার অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি, যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

টিকার উপাদান: সাধারণত টিকায় দুর্বল বা মৃত ভাইরাস থাকে। যার মাধ্যমে শরীর সেই ভাইরাসের বিপরীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। তবে করোনার টিকাগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রথমবারের মতো এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে কোন ভাইরাস থাকে না। তার বদলে কোভিড-১৯ এর জীবাণুর ব্লুপ্রিন্ট বা প্রতিরূপ থাকে। তাই দুই ধরণের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দুই রকম হতে পারে।

বায়োনটেক-ফাইজার: অনুমোদন পর্যায়ে বায়োনটেক-ফাইজার উদ্ভাবিত টিকার গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকাগ্রহীতা সাময়িক অবসাদ আর মাথা ব্যাথায় ভুগেছে। এমআরএনএ ভ্যাকসিনটির ব্যবহার শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে একজন ও ব্রিটিনে দুইজনের ত্বক লাল হওয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যাদের অ্যালার্জি সমস্যা রয়েছে, তাদের সতর্ক করেছে বিট্রিশ মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি।

মডার্না: বায়োনটেক-ফাইজারের মতোই এমআরএনএ ভিত্তিক মডার্নার টিকাটি। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই টিকাগ্রহীতাদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। হালকা যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে সেগুলো ছিল সাময়িক। তবে ১০ শতাংশ অবসাদে ভুগেছেন বলে জানিয়েছে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক প্যানেল। অল্প কয়েকজন রোগী অ্যালার্জি ও মুখের স্নায়ু নিষ্ক্রিয় হওয়ার মতো জটিলতায় ভুগেছেন। তবে কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।

অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকা: অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে একজন মেরুদণ্ডের প্রদাহে ভুগেছেন। সেপ্টেম্বরে এই ঘটনার পর কিছুদিন ট্রায়াল বন্ধ ছিল। কিন্তু পরে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরীক্ষার পর জানিয়েছে, সেটির কারণ ভ্যাকসিন নয়। এছাড়া টিকাটি নেয়ার পর ইনজেকশনের স্থানে ও পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যাথা ও অবসাদগ্রস্ততার মতো সাধারণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলক কম ছিল।

স্পুটনিক ফাইভ: তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরুর আগে গত আগস্টেই নিজেদের টিকা স্পুটনিক ফাইভ এর অনুমোদন দেয় রাশিয়া। দুই ধরণের পরিবর্তিত অ্যাডেনোভাইরাস ব্যবহার করা হয়েছে এতে। রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্বর, মাথাব্যাথার মতো টিকাটির কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে কোনো গুরুতর প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ না করার অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া: এখন পর্যন্ত যত তথ্য জানা গেছে, সেগুলোর কোনটিই আসলে পরিপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে না। দীর্ঘ মেয়াদে টিকাগুলোর ব্যবহার মানবদেহে কী ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, তা অজানা। সেটি হয়তো সামনের মাস বা বছরগুলোতেই পরিস্কার হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত