ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৬:১১

প্রিন্ট

কমল গণস্বাস্থ্যের ডায়ালাইসিস ফি

কমল গণস্বাস্থ্যের ডায়ালাইসিস ফি

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশের দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর স্বার্থে গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারে মূল্য কমানো হয়েছে। নতুন তালিকায় ছয়টি ক্যাটাগরিতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের চেয়ে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ফি গড়ে ২০০ টাকা করে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনাকালে রাতে রোগীদের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে খরচ পড়বে জনপ্রতি ১০০ টাকা।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, অতি দরিদ্রদের জন্য ডায়ালাইসিসে প্রতি সেশনের ফি ৬০০ টাকা। আবার কেউ সপ্তাহে তিন বার ডায়ালাইসিস করালে খরচ আরও কমে পড়বে এক হাজার ৪০০ টাকা। আর চতুর্থ শিফটে (রাত ১০টা-ভোর ৬টা) ফি পড়বে ৪০০ টাকা ও প্রতি তিন সেশনে এক হাজার টাকা। দরিদ্রদের জন্যে প্রতি সেশনের ফি ৮০০ টাকা। সপ্তাহে তিন বার ডায়ালাইসিস করালে খরচ পড়বে এক হাজার ৮০০ টাকা। চতুর্থ শিফটে ফি পড়বে ৫০০ টাকা ও প্রতি তিন সেশনে এক হাজার ২০০ টাকা।

নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য প্রতি সেশনের ফি এক হাজার ও এক হাজার ৩০০ টাকা। সপ্তাহে তিন বার ডায়ালাইসিসের খরচ যথাক্রমে দুই হাজার ৫০০ ও তিন হাজার ৫০০ টাকা। চতুর্থ শিফটে ফি পড়বে ৭০০ ও এক হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি তিন সেশনে এক হাজার ৮০০ ও তিন হাজার টাকা।

উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও ধনীদের জন্য প্রতি সেশনের ফি দুই হাজার ও দুই হাজার ৫০০ টাকা। সপ্তাহে তিন বার ডায়ালাইসিসের খরচ পড়বে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ও সাত হাজার টাকা। চতুর্থ শিফটে ফি পড়বে এক হাজার ৫০০ ও দুই হাজার টাকা এবং প্রতি তিন সেশনে চার হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে হতদরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব দেখে আমরা খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত। বর্তমানে দেশের মানুষের আয়ের সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ কারণে আমরা সেই নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে আমাদের এখানে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা তিন শিফটে ডায়ালাইসিস করা হতো। এখন রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চতুর্থ শিফটেও ডায়ালাইসিস চলবে। দূর থেকে আসা রোগীদের রাতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রটোকল অনুসরণ করে ২০১৭ সালের ১৩ মে দেশের বৃহত্তম কিডনি সেবা কেন্দ্র গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। ১০০ ইউনিটের গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের সঙ্গে আটটি আইসিইউ বেড এবং হেপাটাইটিস বি, সি পজিটিভ রোগীদের জন্য ৫৬টি আলাদা বিশেষ বেড রয়েছে।

দেশের খ্যাতনামা নেফ্রোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফীর নেতৃত্বে আরও তিন জন নেফ্রোলজিস্ট ও একজন বিশেষজ্ঞ ইন্টেসেভিস্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের সেবা প্রদান চলছে। এছাড়া, গণস্বাস্থ্য সমাজিভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও কোনো বাড়তি চার্জ ছাড়াই সেবা দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত