ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৯

প্রিন্ট

দেশের বৃহত্তর করোনা হাসপাতালে থাকছে যেসব সুবিধা

দেশের বৃহত্তর করোনা হাসপাতালে থাকছে যেসব সুবিধা
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেট বিশেষায়িত করোনা হাসপাতাল। ছবি নিজস্ব

মোস্তাফিজুর রহমান

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য উহান শহরে দ্রুততম সময়ে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল চীন। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার উর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে তেমনি দ্রুত সময়ে বাংলাদেশেও একটি হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে।

মাত্র ২০ দিনে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেট বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর করে রোববার সেটি উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এসময় তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আগের চেয়ে প্রায় ১০ গুন মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপও ১০ গুন বেড়েছে। এ কারণেই আমরা ডিএনসিসি মার্কেটটিকে কোভিড হাসপাতাল করতে কাজ শুরু করি। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে সেই অসাধ্য ডিএনসিসি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্ভব করেছে।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা শহরে এই মুহূর্তে সব মিলিয়ে যতগুলো আইসিইউ সুবিধা রয়েছে, শুধু এই হাসপাতালেই তার চেয়ে বেশি আইসিইউ সমমানের শয্যা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক দিকনির্দেশনার ফলেই এত অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় এই ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল’ করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে।

ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ এ হাসপাতালটিতে ২২২ আইসিইউসহ মোট ১ হাজার ১০০ শয্যার ব্যবস্থা হয়েছে। হাসপাতালটির সার্বিক তত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

হাসপাতালটির প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, হাসপাতালটিতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় সব ধরণের চিকিৎসা সুবিধা থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বাংলাদেশ জার্নাল বলেন, হাসপাতালটিতে আইসিইউ সুবিধাসহ ২১২টি শয্যা- ১১২টি আইসিইউ এবং ১০০টি এইচডিইউ (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এতে বিশেষ সুবিধাসহ ২৫০টি শয্যা থাকছে, এসব শয্যায় কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন দেয়ার এবং হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সুবিধা থাকবে। ডেডিকেটেড ৪৮৮টি শয্যা থাকছে, এসব শয্যায় সিলিন্ডার এবং অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি বিভাগে থাকছে ৫০টি শয্যা। এর পাশাপাশি ডায়ালাইসিস সুবিধাসহ ৪টি শয্যা রাখা হয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসার কাজ পরিচালনা করার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফসহ প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে।

প্রায় ৮ বছর আগে নতুন কাঁচাবাজারের জন্য সাত একর জায়গায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনসিসি মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরে থাকা এক লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট আয়তনের মার্কেটটি গতবছর করোনার আইসোলেশন সেন্টার করা হয়। পরবর্তিতে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ল্যাব হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সম্প্রতি করোনার সংক্রামণ বেড়ে যাওয়ায় এটি বিশেষায়িত হাসপাতালের উদ্যোগ নেয়া হয়।

আরো পড়ুন

একদিনে রেকর্ড ১০২ মৃত্যু

দেড় মাসে ১০ গুণ বেড়েছে করোনা সংক্রমণ

আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছে: আইইডিসিআর

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত