ঢাকা, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

কোলন ক্যান্সারের শতভাগ চিকিৎসা দেশেই সম্ভব

  আসিফ কাজল

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৯  
আপডেট :
 ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২০

কোলন ক্যান্সারের শতভাগ চিকিৎসা দেশেই সম্ভব
আসিফ কাজল

বর্তমান সময়ে দেশে মানবদেহে কোলন ক্যান্সার ও পিত্তথলিতে পাথর, এমন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এর জন্য দায়ী চর্বিযুক্ত খাবার ও আধুনিক জীবন যাপন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন ল্যাপারোস্কপি ও কোলো-রেকটাল সার্জন ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত (এফসিপিএস)। তিনি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল : কোলারেক্টরাল ক্যান্সার রোগটি কি?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত: আমাদের পাকস্থলীর পরে আমাদের শরীরে বৃহদান্ত ও ক্ষুদ্রান্ত রয়েছে। বৃহদান্তে যে সমস্যাটা থাকে তাকে আমরা কোলন বলি। কোলন ক্যান্সারটা আসলে বৃহদান্তের একটি রোগ। মানব শরীরের ডান পাশ থেকে বাম পাশে যেটা রয়েছে সেখানেই এই রোগের জীবানু থাকে। আমাদের খাওয়া-দাওয়ার পরিবর্তন ও বদ অভ্যাসের কারণেই ক্যান্সারটি হয়ে থকে। বিশ্বের বর্তমানে এটি অন্যতম ক্যান্সার।

বাংলাদেশ জার্নাল : কি কারণে কোলন ক্যান্সারকে উন্নত বিশ্বের রোগ বলা হয় ?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত : এর কারণ হচ্ছে আধুনিক লাইফ স্টাইল। ফাস্টফুড, ফ্রাইফুড, ড্রাইফুড, প্রসেসড খাবার তারা নিয়মিত খেয়ে থাকেন। এর ফলে তাদের কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা বেশি। যে কারণে এ রোগটি তাদের বেশি হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশেও এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল : এ থেকে মুক্তির উপায় কি?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত : আমরা মাছে-ভাতে বাঙ্গালী। মাছ-ভাতের সঙ্গে আমাদেরকে বেশি বেশি সবজি খেতে হবে। এ খাবারটি খেলেই আমরা সুস্থ থাকবো। কিন্তু এখন আমরা খুব বেশি পরিমাণে ফাস্ট ফুড খাচ্ছি। আমাদের খাবারের প্লেটে মাংসের পরিমান বেড়ে গেছে। এর ফলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গেই মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল : এ রোগের লক্ষণ কি?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত: কোলন ক্যান্সারের প্রধান সমস্যা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি বোঝার কোন উপায় নেই। তবে অনেকে খেয়াল করলে দেখবেন পায়খানায় সমস্যা হচ্ছে। অনেকের পায়খানায় রক্ত যাচ্ছে। কিন্তু কোলন ক্যান্সারে রক্ত গেলেও ব্যথা থাকেনা। ফলে অনেকে বুঝতেও পারে না। তবে ক্ষুধা মন্দা, পেটে চাকা দেয়া ব্যথা ও ওজন কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই চিকিৎকের কাছে আসা উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল : দেশে এর চিকিৎসা কেমন?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত: আমাদের দেশে ভালভাবেই এর চিকিৎসা হচ্ছে। দেশে বেশকিছু ক্যান্সার ইন্সটিটিউট আছে। বলা যায় দেশেই এর শতভাগ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ জার্নাল : আপনিতো শুধুই কোলন ক্যান্সারের সার্জন নয়। আপনি পিত্তথলির অপারেশনও করে থাকেন। দেশে এই রোগেও অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। পিত্তথলীতে পাথর বা গলবøাডার স্টোনের কারণ কি

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত: আমরা একে বলে থাকি ফাইভ এফ। অর্থাৎ ফার্টাইল, ফিমেল, ফেয়ার, ফ্যাটি ও ফরটি ইয়ার্স। অর্থাৎ যারা মহিলা, সন্তান ধারণে সক্ষম, সুন্দরী ও একটু স্বাস্থবান এবং চল্লিশ বছরের বেশি বয়স। এদের ক্ষেত্রে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে আমাদের কাছে এখন সব ধরণের রোগীই আসছে। সর্বোপরি এ রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে খাদ্যভাস।

বাংলাদেশ জার্নাল : পাথর হলেই কি অপারেশন করতে হবে?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত: পাথর যদি খুব বেশি বড় না হয় এবং কোনো ব্যথা যদি তৈরি না করে তাহলে আমরা এক-দুই বছর সময় নিয়ে থাকি। কিন্তু যারা হৃদরোগ রোগী, যাদের ডায়বেটিক, কিডনীর সমস্যা আছে তাদের জন্য আমরা অবজারভেশন করি। কারণ এ রোগে যারা ভুগে থাকেন তাদের অন্যান্য রোগের জটিলতা বাড়তেই থাকে। তবে এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা হলো অপারেশন। কোনো ওষুধ,কবিরাজীতে এই রোগে কোনো কাজ হবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল : ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে অপারেশনে সুবিধা কি?

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত: ল্যাপারোস্কোপি হলো আধুনিক অপারেশন চিকিৎসা ব্যাবস্থা। এর ফলে রোগীর শরীরে ছোট ছিদ্র করেই অপারেশন করা সম্ভব। মাত্র একদিনেই এই রোগের অপারেশন শেষ করে রোগীকে বাড়ি পাঠানো হয়। যেকারণে রোগীকে হাসপাতালেও থাকতে হয় না।

ডা. এহসান-উল-বারী রাহাত (এফসিপিএস)

ল্যাপারোস্কপি ও কোলো-রেকটাল সার্জন

সহকারী অধ্যাপক, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল

বাংলাদেশ জার্নাল/এমজে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত