ঢাকা, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৪১ মিনিট আগে

যে কারণে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে তরুণরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৫৮  
আপডেট :
 ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৩

যে কারণে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে তরুণরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এর কারণ অনেক তরুণই জানেন না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী।

বাংলাদেশ জার্নাল: বর্তমানে তরুণরাও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন- তার কারণ কি?

অধ্যাপক ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী: জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস, স্ট্রেসফুল লাইফ, জীবনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া- এই চারটি সমস্যার কারণে তরুণ প্রজন্ম উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সেকালের জীবনযাপন এবং একালের জীবনযাপনে অনেক পার্থক্য নজর কাড়ে। সেকালে সবাই সকাল ৫টায় ঘুম থেকে উঠত, আর এখন ভোর ৫টায় ঘুমাতে যায়, ওঠে দুপুর ১টায়। সেকালের তরুণদের মুভমেন্ট ছিল অন। এখনকার তরুণদের মুভমেন্ট অফ। তখনকার তরুণদের জীবনে দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা, কোস্তাকুস্তি, সাঁতার ইত্যাদি ফিজিক্যাল মুভমেন্ট প্রাধান্য পেত। বর্তমানে তারা শুয়ে শুয়ে দিনাতিপাত করছে। ল্যাপটপ, মোবাইল, ফেসবুক, নেট, মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপে শুয়ে শুয়ে তাদের দিনরাত কেটে যাচ্ছে। খাবার ঠিক নেই, ঘুমের ঠিক নেই। এভাবেই তাদের রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে।

আর খাদ্যাভ্যাস! সে-তো একেবারে বিপরীত। আমাদের কালে আমরা সবসময় খেতাম শাকসবজি এবং মাছ কদাচিৎ মাংস। অধীর আগ্রহে বসে থাকতাম আত্মীয়স্বজন আসার আশায়। কবে একজন আত্মীয় আসবে, বাড়ির মুরগিটা জবাই হবে, আমিও তাদের সঙ্গে একটুকরো মাংস খেতে পারব। আরেকটি মাংস খাওয়ার সময় ছিল কোরবানি ঈদের সময়। এখন তরুণরা প্রতিনিয়ত মাংস খাচ্ছে, মাঝে মাঝে মাছ কদাচিৎ শাকসবজি। এখনকার খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের পক্ষেই কথা বলে।

স্ট্রেসফুল লাইফ ও জীবনের চ্যালেঞ্জ: আমাদের সময়ে আমরা একটি জিনিসকে টার্গেট করে বসে থাকতাম। ভালো লেখাপড়া অথবা ব্যবসা অথবা রাজনীতি। জীবনে রিলাক্সেশন ছিল, মনটা ফুরফুরে ছিল, দেহমনে ছিল স্নিগ্ধতা। এখন একইজন একসঙ্গে তিনটি জিনিস করে। এতে করে জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। লাইফটা স্ট্রেসফুল হয়ে পড়ে, রক্তচাপ উল্লাস করে বাড়তে থাকে।

অতি অল্প সময়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নেশায় বিভোর আজকের তরুণরা। ধৈর্য নেই, অপেক্ষা নেই। এ কারণে মনে অনেক চাপ তৈরি হয়। তারপর রক্তচাপ।

চিকিৎসক পরিচিতি

অধ্যাপক ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জন থেকে মেডিসিনের ওপর এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সেন্ট এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন। মেম্বার অব আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ান হিসেবে সম্মানিত হন। ২০১৯ সালে স্বাধীনতা সংসদ কর্তৃক এক্সিলেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সোসাইটি উনাকে ম্যান অব দি ইয়ার ২০২১ প্রদান করে। এই প্রজ্ঞাবান চিকিৎসক মেডিসিনের বিভিন্ন সেক্টরে বুৎপত্তির নিদর্শন রেখে চলেছেন। তিনি শুধু চিকিৎসকই নন, একাধারে কবি, সাহিত্যিক, লেখক, কলামিস্ট, সুবক্তা, সমাজসংস্কারক ও সংগঠক। তিনি চার বছর বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের যুগ্ম সম্পাদক, দুই বছর মহাসচিব এবং দুই বছর সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ২১৭টি পোস্ট তৈরি করে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিভাগকে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে তার চাকরিজীবন শেষ করেছেন। মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু করে চাকরির সব ধাপ পার হয়ে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পিআরএল-এ যান। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার জকিগঞ্জে। তার জন্মভূমি, বড় হওয়া, লেখাপড়া, প্রথম চাকরিকাল কেটেছে চট্টগ্রামে। এই রোগীবান্ধব, ছাত্রবান্ধব, জনবান্ধব অধ্যাপক মার্চ মাস থেকে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজে মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এর সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে দুপুর ২টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত