ঢাকা, রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

বাচ্চাদের চোখের যত্নে যা করণীয়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৬  
আপডেট :
 ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৪৬

বাচ্চাদের চোখের যত্নে যা করণীয়
অধ্যাপক ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন। ফেকো সার্জন ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে কর্মরত আছেন আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান। বাচ্চাদের চোখের নানা রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চোখের যত্নে দিয়েছেন নানা নির্দেশনা।

তিনি বলেন, বাচ্চাদের চোখের যত্নে অভিভাবকদের হতে হবে সচেতন। সঠিক সময়ে নিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। চোখের যত্নে বাচ্চাদের উপর কিছু চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল: বাচ্চাদের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন ঘটে কত বছর বয়সে?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: মনে রাখতে হবে সাধারণত ১০ বছর বয়সে বাচ্চাদের দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। বিশেষ ক্ষেত্রে কখনো কখনো তার আগেও শুরু হতে পারে। সাধারণত বাচ্চার ২০ বছর বয়স পর্যন্ত এই পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে ২ শতাংশ শিশুর ২০ বছরের পরেও পরিবর্তন হতে পারে ৷ তাই ১০ বছর পূর্ণ হলেই বাচ্চাদের চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল: যেসব বাচ্চা চশমা ব্যবহার করে, তাদের কতদিন পর পর চোখ পরীক্ষা করা উচিত?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: সাধারণত ৬ মাস থেকে অন্তত এক বছর পর পর চোখ পরীক্ষা করানো উচিৎ। এভাবে ২০ বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এরপর প্রয়োজন বোধ না হলে চোখ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল: বাবা-মা চশমা ব্যবহার না করলেও ছেলে-মেয়েদের চশমা ব্যবহার করতে হয় এটা কেন এবং কী কারণে হয়ে থাকে?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: মনে রাখতে হবে, বাচ্চাদের সকল বৈশিষ্ট্য বাবা ও মায়ের জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই মিশ্রণ সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই শিশুদের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বাবা-মায়ের অনুরূপ নয়। শিশুর দেহের ক্রোমোজোমে অবস্থিত বাবা-মায়ের দৃষ্টিশক্তির জন্য দায়ী জিন পাশাপাশি অবস্থান করে। তাদের সম্মিলিত প্রভাবে বাচ্চার জন্য নতুন ধরনের দৃষ্টিশক্তি লাভ হয়। ফলে বাচ্চার দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হতে পারে, আবার অস্বাভাবিকও হতে পারে। যেটাকে আমরা ভাগ্য বলে থাকি।

বাংলাদেশ জার্নাল: বাচ্চাদের চশমার পাওয়ার নিয়ে অবিভাবকদের থাকে নানা ধারণা। এ ব্যপারে বাবা-মায়ের কোন বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিৎ?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চার চোখও বড় হতে থাকে। কিন্তু বড় হওয়ার পরিমাণ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে রেটিনা অনেক পেছনে চলে যায়। ফলে আলো রেটিনাতে না পড়ে তার সামনে পড়ে। আমরা তখন কনকেভ (মাইনাস গ্লাস) ব্যবহার করি। যেন আলো রেটিনার সামনে না পড়ে রেটিনাতে পড়ে। অনুরূপ বাচ্চাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে যদি চোখের বৃদ্ধি কম হয়, তাহলে আলো রেটিনার পেছনে পড়ে এবং কনভেন্স লেন্স (প্লাস লাগে)। তবে মাইনাস গ্লাস বা প্লাস গ্লাস কোনোটিই ভালো নয়।

বাংলাদেশ জার্নাল: এই পরিবর্তন কি কোনো খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: জিনের বহিঃপ্রকাশ কোনো খাবারের সাথে সাধারণত সম্পর্কযুক্ত নয়। তাই তা হবে না। আপনি যাই খান না কেন, জিনের বহিঃপ্রকাশ হবেই।

বাংলাদেশ জার্নাল: বাচ্চাদের চোখের এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় বা করণীয় কী?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: মনে রাখবেন, বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে তার চোখ যদি অস্বাভাবিক গতিতে বড় হয় তাহলে তার রেটিনা পাতলা (থিন) হয়ে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে- একটা ফুটবলকে বাতাস দিলে তার ব্লাডার ফুলে ওঠে এবং ব্লাডারের প্রাচীর পাতলা হয়ে একসময় ফেটে যায়। তেমনিভাবে রেটিনা পাতলা হয়ে নানা রকম দুর্বল স্থান তৈরি হয়, যা বাচ্চাকে অন্ধ করে দিতে পারে। সেই জন্য প্রতি বছর বাচ্চাকে রেটিনা বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: চশমা ব্যবহার করতে হলেও অনেক সময় বাচ্চাদের থাকে অনীহা। সে ক্ষেত্রে অবিভাবকদের করণীয় কী?

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: চশমা শুধুমাত্র তার জন্য সহকারী। চশমা পরলে ভালো দেখবে, না পরলে খারাপ দেখবে। চোখের ভালো-মন্দের সাথে চশমার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। অতএব চশমা পরা নিয়ে বাচ্চাদের চাপ প্রয়োগের কিছু নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন: বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্যও আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

চিকিৎসক পরিচিতি

অধ্যাপক ডা. মো. ছানোয়ার হোসেন, এমবিবিএস, এফসিপিএস

বিভাগীয় প্রধান, চক্ষু বিভাগ

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত