ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২২

প্রিন্ট

অ্যান্টিবায়োটিক যখন বুমেরাং

অ্যান্টিবায়োটিক যখন বুমেরাং
জার্নাল ডেস্ক

সামান্য সর্দি-জ্বর হয়েছে। দোকানে গিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে নিলেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই। দু’দিনেই অসুখ কমে গেল। ফলে বাকি ওষুধগুলি আর খাওয়া হল না। এমনটা আমরা প্রায়ই করে থাকি। কিন্তু এর ফলেই ঘটে বিপত্তি।

প্রথমত, যে অ্যান্টিবায়োটিকটি খেয়েছেন, সেটি আপনার রোগের জন্য যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

দ্বিতীয়ত, আপনার শরীরে যে জীবাণুগুলি ছিল, সেগুলি পুরোপুরি মারা গেল না। উল্টে আরও শক্তিশালী হল।

তৃতীয়ত, এই অ্যান্টিবায়োটিকটি ভবিষ্যতে আপনার শরীরে কাজ না-ও করতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে এ ধরনের বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পরে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন আলেকজ়ান্ডার ফ্লেমিং। তার মতে, এটি এমন একটি ওষুধ, যা সাবধানে ব্যবহার না করলে, মানবজাতির সঙ্কট ডেকে আনবে। ঘটনাচক্রে পেনিসিলিন বাজারে আসার কয়েক বছরে মধ্যেই দেখা যায়, বহু রোগীর মধ্যে পেনিসিলিনের রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়েছে। এর কারণ অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

ব্যাকটেরিয়া দমনের হাতিয়ার হল অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু ভুল ব্যবহারে এই হাতিয়ার বুমেরাংয়ের কাজ করে। অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন রোগের জন্য কোন অ্যান্টিবায়োটিক এবং তার পরিমাণ কতটা হওয়া উচিত, তা কিন্তু একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারেন। কারণ আমাদের শরীরে ভাল ব্যাকটেরিয়াও আছে। ভুল ওষুধের ফলে সেগুলো মারা যেতে পারে। চিকিৎসক ছাড়া আর কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়, কোন অসুখে কোন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন। শরীর একটু ঠিক হয়ে গেলেই অনেকে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু ডোজ শেষ না হলে ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে না। উল্টে অ্যান্টিবায়োটিক পেয়ে তারা নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এর ফলে কিন্তু একই অসুখ ঘুরে-ফিরে আসে।

অল্প অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ভুল প্রায় সকলেই করে থাকি। তা ছাড়া একই অ্যান্টিবায়োটিক বারবার খেলে সেই ওষুধের রেজিট্যান্স তৈরি হয় শরীরের মধ্যে। আমাদের শরীরে যে ভাল ব্যাকটেরিয়া আছে, সেগুলি ওই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এমন ঘটনাও দেখা গিয়েছে যে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়ার ফলে রোগীর শরীরে প্রায় কোনও অ্যান্টিবায়োটিকই আর কাজ করছে না। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ব্যবহার করতে না পারলে ভাল-মন্দ সব ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেই প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হবে।

অ্যান্টিবায়োটিক জোরালো ওষুধ। সুতরাং বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশুদের জন্য কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বয়স্কদের ইমিউনিটি ক্ষমতা কম। বয়স্ক কাউকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময়ে তার কী কী রোগ আছে, সেগুলো জেনে নেওয়া আবশ্যিক।

ইমিউনিটি ক্ষমতা শিশুদের মধ্যেও কম। একদম ছোট্ট শিশুকে খুব প্রয়োজন না হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়ে অল্প সর্দি-জ্বরে অভিভাবকেরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে চিকিৎসককে অনুরোধ করেন অ্যান্টিবায়োটিক দিতে। এটি অনুচিত। যদি প্রয়োজন হয়, তা হলে চিকিৎসক নিজেই অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন।

অনেক চিকিৎসক আছেন, যারা অ্যান্টিবায়োটিকের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, অন্য ওষুধেই রোগ নিরাময় সম্ভব। অনেক উন্নত দেশ অসুখের গোড়াতেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার বিরোধী।

এটা স্পষ্ট, অসুখ নিরাময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তা ব্যবহারে সতর্ক হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত