ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২০, ১৫:৫৭

প্রিন্ট

হোম কোয়ারেন্টাইন কার্যকরে ইন্টারনেটের দাম কমান!

হোম কোয়ারেন্টাইন কার্যকরে ইন্টারনেটের দাম কমান!

Evaly

এম.এস.আই খান

বিমানবন্দর থেকে বাড়ির অন্দর কোথাও কোন সুরক্ষা নেই। করোনা আজ ধনী-গরিব সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। অর্থের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও কেউ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারছে না।

বাংলাদেশে জন্ম নিয়েও যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে তারা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে নিজ দেশটা আজ যদি উন্নত থাকত তবে আজ সে কিছুটা হলেও জীবনের নিরাপত্তা পেত। কথায় কথায় যারা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেত তারা আজ অনুভব করছে দেশের চিকিৎসা সেবাকে শক্তিশালী না করায় আজ কত ভয়াবহ হুমকির মুখে আমরা। না আছে খাদ্যের সুরক্ষা, না চিকিৎসার। আজ যেন বাতাসে বিষ ছড়িয়ে গেছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসে অপেক্ষা করছে মৃত্যুর শীতল পরশ।

১. বিদেশ থেকে আগতরা সরকারি কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাচ্ছে না, তাদের অভিযোগ- সেখানকার অবস্থা মোটেও ভাল নয়। ফলে বাড়িতে চলে যাচ্ছে। আর হোম কোয়ারেন্টাইনে যাদের থাকার কথা তারা বিদেশ বিভুঁই হওয়ায় ঘরে থাকতে চাচ্ছে না। ‘কতক্ষণ আর নিজেকে বদ্ধ রাখা যায়’ বলেই বেরিয়ে পড়ছেন গ্রামের হাট-বাজারে, দোকানে। প্রবাসীদের বড় অংশ কাজের শেষে ইন্টারনেটে সময় কাটায়। দেশের গ্রামে-গঞ্জে ওয়াইফাই সুবিধা নাই। সিম কম্পানিগুলোর ইন্টারনেট খরচ অনেক বেশি। ব্যাপারটি অনেকের কাচ্ছে তুচ্ছ মনে হলেও বলছি- কম টাকায় সিমের ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করার নির্দেশ দিন। অন্তত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষ ঘরে বসে বসে লম্বা সময় কাটাতে পারবে। এক মাসের জন্য ফ্রি করে দিলে ভাল হয়।

২. চিকিৎসকরা পর্যন্ত ভয়ে আছেন। তাদের কাছে করোনা প্রতিরোধী পোশাক নাই। কেউ আক্রান্ত হলেও নার্স/ডাক্তারা তাদের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। করোনা না হওয়া সত্ত্বেও শুধু সন্দেহের কারনে ঢাকা মেডিকেল কলেজে একটি মেয়ে মারা গেছে চিকিৎসা না পেয়ে। এমনকি করোনাভাইরাস সতর্কতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এমন অবস্থায় বোঝাই যাচ্ছে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা দেওয়ার মত অবস্থা দেশে নাই। তাই যারা বিদেশ থেকে দেশে আসতে চাচ্ছেন তারা আক্রান্ত হলে বিদেশে যে চিকিৎসা পাবেন দেশে তা পাবেন না। তাই অন্তত বাংলাদেশের চাইতে, যে দেশে আপনি আছেন সেখানে চিকিৎসা সুরক্ষা তুলনামূলক বেশি পাবেন।

৩. দেশে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা জারি করুন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হোক। মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশের কালোবাজারি, মানহীন উৎপাদন, বাড়তি দাম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হোক। সম্ভব হলে ও প্রয়োজন হলে অবসর প্রাপ্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাজে লাগানো হোক। তবে চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে কোন চিকিৎসকই সেবা দিতে রাজি হবেন না। আর সব ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোন ধরনের জমায়েত, আড্ডা ভেঙে দিক।

৪. বাংলাদেশে যারা করোনা থেকে বাঁচতে পানি পড়া, ঝাঁক ফুক, কিংবা কোন হুজুরের দেখা স্বপ্নে বিশ্বাস করে অন্ধের মত তাই করতে শুরু করেন তারা ভারতে থাকলে কী গোমূত্র পান করতেন? পরিচ্ছন্ন ও সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন। করোনার ভয়ে মসজিদে নামাজ না পড়াকে দুর্বল ঈমানের পরিচয় বলে অনেকে প্রচার করছেন। অথচ রসূল (সঃ) কাঁচা পেয়াজ খেলে মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন, কারণ মুখে লেগে থাকা পেয়াজের দুর্গন্ধ থেকে অন্য মুসল্লিরা কষ্ট পেতে পারেন। (জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ বুখারি, হাদিস : ৮৫৫) সুতরাং করোনার মত এত বড় মহামারী যা অন্য মুসল্লির জন্য শুধু কষ্টের কারণ নয় প্রাণ হারানোর শঙ্কা সেখানে এই সময়ে মসজিদে নামাজ পড়াটা কতটা যৌক্তিক?

৫. দেশ বাঁচলে আপনি বাঁচবেন, আপনি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যতের দুর্নীতিবাজরা নিজ দেশটার কথা একটু ভাবুন। দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদকে লুণ্ঠন না করে দেশের কল্যাণে কাজ করেন। করোনাই শেষ নয়, অনুরূপ অন্য কোন দুর্যোগও আসতে পারে। সেই দুর্যোগে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়লে মানুষগুলো আর সামনে আগাতে পারবে না। এই মৃত্যুর দুয়ার থেকে আমরা একসাথে বাঁচার ও দেশটাকে গড়ার প্রত্যয় নেই। আল্লাহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

shopno
  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best