ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪১

প্রিন্ট

গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধান দুইটি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এবং রবি-আজিয়াটায় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে গ্রামীণফোনের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসির পাওনা দাবি ১২৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠায়। বৃহস্পতিবার ওই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসি বাংলার।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে বিটিআরসি একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। আজ আমরা সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি। এখন বিটিআরসি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে, বড় দুইটি বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করা হলে, সেটি বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, এতে নেতিবাচক বার্তা দেয়ার কী আছে? সরকার জনগণের পাওয়া টাকা আদায়ের জন্য ব্যবস্থা নেবে না? এখানে তো জোর করে কিছু করা হচ্ছে না। জনগণের প্রাপ্য টাকা আদায়ের জন্য সরকারকে তো পদক্ষেপ নিতেই হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলছেন, এখন আমরা প্রশাসক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত লোকজন দেখতে শুরু করব। এরপর সেখানে প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কতদিনের মধ্যে এটি করা হবে, তা এখনি বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

বিটিআরসি দাবি করে আসছে, গ্রামীনফোন এবং রবি, এই দু’টি কোম্পানির কাছে ২০ বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। অডিট করে তারা এটি জানতে পেরেছে।

এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

কিন্তু মোবাইল কোম্পানি দুটো বলছে, টাকার অংক নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

এর মধ্যে সরকারের একজন মন্ত্রীর মধ্যস্থতায় আংশিক টাকা দিয়ে আপাতত একটি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হলেও, তাতে মোবাইল ফোন কোম্পানি দুইটি রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে ১৬ কোটির বেশি মোবাইল ফোন গ্রাহক রয়েছে। তার তিন-চতুর্থাংশ রয়েছে এই দুটি কোম্পানির।

প্রশাসক নিয়োগ করলে কী হবে?

কোন কোম্পানি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে কোম্পানি আইন অনুসারে সরকারে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে।

সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে এই প্রশাসকরা তখন কোম্পানি পরিচালনা করবেন।

গ্রামীণফোন এবং রবি, প্রতিটা কোম্পানির ক্ষেত্রে চারজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তাদের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন। বাকি তিনজনের একজন আইন, আরেকজন প্রকৌশল, অপরজন অর্থ এবং বাজারজাত করণ বিশেষজ্ঞ থাকছেন।

বিটিআরসি আশা করছে, প্রশাসকরা দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের পাওয়া নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হবে।

গত ২রা এপ্রিল গ্রামীণফোনকে একটি নোটিশের মাধ্যমে বিটিআরসিকে ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৪ হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা প্রদান করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি।

বিটিআরসির নিয়োগ করা একটি অডিট ফার্ম ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে এই বকেয়া তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়।

এই পাওনার মধ্যে ৪০৮৬ কোটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাওনা - যেটাও জুড়ে দেয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছে গ্রামীণফোন এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেড।

গ্রামীণফোন একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, যেসব কারণ দেখিয়ে বিটিআরসি এই অর্থ দাবি করছে তা অযৌক্তিক।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত