ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:৩৪

প্রিন্ট

থামছে না বিক্ষোভ, উত্তেজনা বাড়ালো পুলিশের গুলি

থামছে না বিক্ষোভ, উত্তেজনা  বাড়ালো পুলিশের গুলি
অনলাইন ডেস্ক

তেহরানে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে তেহরানে বিক্ষোভ চলছে। সোমবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই যে ইউক্রেনের সেই যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে গত শনিবারই তা স্বীকার করে নিয়েছে তেহরান। এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশও করেছে ইরান সরকার। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। কিন্তু এতেও প্রশমিত হয়নি ইরানি জনতার ক্ষোভ। কেননা গত বুধবার ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১৭৬ জনের প্রায় সবাই ইরানি নাগরিক।

ক্ষেপণাস্ত্রে বিমান বিধ্বস্ত, ইরানের স্বীকারোক্তি

সোমবার রাতে তেহরানের আজাদি স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কয়েকশো মানুষ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। তারপরেও বিক্ষোভস্থল ত্যাগ না করায় আন্দোলনকারী জনতার ওপর গুলি চালায় পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপি জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দু’টি ভিডিওতে পুলিশকে গুলি চালাতে দেখা গেছে।

একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মাঝে হঠাৎই এসে পড়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল। এক মহিলাকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা আজাদি স্কোয়ার। ওরা মানুষকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। একনায়কের মৃত্যু হোক।’ অন্যটিতে দেখা গিয়েছে, মাটিতে চাপ চাপ রক্ত। কয়েকজন যুবক এক নারীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তার পায়ে গুলি লেগেছে। এক জনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘প্রচুর রক্ত বার হচ্ছে। এখনই ব্যান্ডেজ লাগবে।’’

পুলিশ গুলি চালানোর পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিক্ষোভকারীরা । জ়াহরা রাজ়েঘি নামে এক বিক্ষোভকারী বললেন, ‘যখনই বিমান ভেঙে পড়ার কথা ভাবছি, আমার হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যাচ্ছে। মৃতদের পরিবারের কথা ভেবে লজ্জায় ডুবে যাচ্ছি। তিনদিন ধরে আমাদের ধোঁয়াশায় রেখেছিল সরকার।’

সাইদ নামের অন্য এক বিক্ষোভকারী বলেন,‘রাজনৈতিক ফায়দার জন্য সত্যটা চাপা দিয়েছিল সরকারি সংবাদ সংস্থা। পরে অবশ্য সব কিছুই সামনে এসেছে। ওদের সত্যিটা বলতেই হয়েছে।’

এদিকে ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা করবেন না, আমেরিকা সব দেখছে’।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত