ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:৩৬

প্রিন্ট

কাশ্মীর সংকট: জাতিসংঘের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

কাশ্মীর সংকট: জাতিসংঘের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করলো ভারত
অনলাইন ডেস্ক

কাশ্মীর সংকট সমাধানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি দিল্লি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার একাধিক প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত।

জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাবে নয়াদিল্লি সম্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কাশ্মীর ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। কাশ্মীর নিয়ে মাথা ঘামানোর বদলে, পাকিস্তান বেআইনি ভাবে ভারতের যে অঞ্চল দখল করে রেখেছে জাতিসংঘকে তা মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

রোববার চারদিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছেছেন মহাসচিব গুতেরেস। সে দেশে পা রেখেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপরই সংবাদ সম্মেলনে কাশ্মীর এবং বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। গুতেরেস বলেন, ‘কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চলমান সংঘাত নিয়ে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। দুই দেশ রাজি থাকলে এ নিয়ে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত আমি।’

এ সময় ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেরই আরও সংযত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন গুতেরেস।

গুতেরেসের মধ্যস্থতার প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি ভারত। জম্মু-কাশ্মীর চিরকাল ভারতের অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। গায়ের জোরে, বেআইনি ভাবে পাকিস্তান যে অঞ্চলগুলিকে দখল করে রেখেছে, সেগুলিকে মুক্ত করতে বরং পদক্ষেপ করা হোক।’

ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলি নিজেরাই মিটিয়ে নেবে এবং এ ব্যাপারে তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন রবীশ কুমার।

ভারতের অভিযোগ সন্ত্রাস দমনে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না পাকিস্তান। এই অজুহাত তুলে গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাতিল করে আসছে ভারত।

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জবাবে বালাকোট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালায় ভারতের বিমান বাহিনী। তখন এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দেয়। তার মধ্যেই গত বছর ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করে উপত্যকাকে দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টাও চালিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে এই প্রচেষ্টায় বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ।

এদিকে কাশ্মীর ইস্যুকে যতই নিজেদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে আন্তর্জাতিক সমালোচনা উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হউক না কেন ভারতের ওপর এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের চাপ বাড়ছে। ভারতের মোদি সরকার গত ৭ মাস ধরে চেষ্টা চালানোর পরও স্বাভাবিক হয়নি কাশ্মীরের পরিস্থিতি। বরং সম্প্রতি কাশ্মীরের বন্দি রাজনৈতিক নেতাদের আটকে রাখার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর থেকে কার্যত বন্দি জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে উপত্যকার জনগণ। তবে দেশের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলটিকে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টায় মরিয়া ভারতের হিন্দুবাদী সরকারগুলো।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত