ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৩১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৫০

প্রিন্ট

নতুন ভিডিও প্রকাশ

শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ-ভাঙছে সিসি ক্যামেরা, ভিডিও ফাঁস

জামিয়ার শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ, ভাঙছে সিসি ক্যামেরা
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি নির্যাতনের আরও একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়,শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে পেটাচ্ছে পুলিশ। আর সেখানকার সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে দিচ্ছে নিরাপত্তা কর্মীরা। কিন্তু আন্দোলনে যোগ না দিয়ে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে থাকা নিরীহ শিক্ষার্থীদের এ ভাবে পেটানো হল কেন, তার কোনও সদুত্তর নেই দিল্লি পুলিশের কাছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পুলিশি ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তার সপক্ষে এত দিন কার্যত তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে রোববার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনা হয়। সেই ভিডিয়োতে লাইব্রেরির ভিতরে ঢুকে পড়ুয়াদের মারধর ও তাণ্ডবের ছবি সামনে আসতেই শুরু হয় তোলপাড়। পরে প্রকাশ্যে আসে প্রায় একই রকম একাধিক ভিডিয়ো।

এরমধ্যেই সোমবার আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এই ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে, ওই দিন ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিলেন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা। আগের দিনের ফুটেজ ছিল লাইব্রেরির স্টাডি রুমের ভিতরের। সোমবারের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা। শিক্ষার্থীরা একে একে বাইরে বার হচ্ছেন। কিন্তু সরু দরজা দিয়ে এক সঙ্গে অনেকে বেরোতে গিয়ে জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। তখনই শুরু হয় মারধর।

বিশেষ করে ভিডিয়োর শেষ ২০ সেকেন্ড কার্যত ভয়ঙ্কর। শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি হয়ে পড়ে আছেন। কেউ ছুটে পালানোর চেষ্টা করছেন। ওই অবস্থাতেই ছাত্রদের যাকে সামনে পাচ্ছেন, তাকেই নির্বিচারে লাঠিপেটা করছেন নিরাপত্তা কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই জায়গাটা ফাঁকা হয়ে যায়। তারপরর এক নিরাপত্তা কর্মীকে লাঠি দিয়ে সিসিক্যামেরাগুলো ভেঙে দিতে দেখা যায়।

রোববার ভিডিও সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে আন্দোলনে যোগ দেননি, লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করছিলেন— এমন ছাত্র-ছাত্রীদের এই ভাবে নির্বিচারে লাঠিপেটা করার যুক্তি কী, তা নিয়ে সরব হয়েছে নানা মহল। সোমবারের ভিডিয়ো সামনে আসার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে।

রোববার একাধিক ভিডিও সামনে আসার পরেই অস্বস্তিতে পড়েছিল দিল্লি পুলিশ। সব ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে আশ্বাস দিয়েছিল তদন্তের। দিল্লি পুলিশ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। ভিডিওটি সামনে আসার পরেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই ফুটেজের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করে দিল্লি পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু নতুন এই ফুটেজ সামনে আসার পরে সেই অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত