ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৪৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২০, ১৭:৩২

প্রিন্ট

গতবারের সঙ্গে এবারের ঈদের পার্থক্য

গতবারের সঙ্গে এবারের ঈদের পার্থক্য
জার্নাল ডেস্ক

এবারের ঈদে বিশ্বব্যাপী এক ভিন্ন আমেজ এনে দিয়েছে করোনাভাইরাস। সামাজিকও শারীরিক দূরত্ব এবং ফেসমাস্ক ব্যবহার যার অন্যতম কারণ। দি সান এর প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

লকডাউনে থেকেও বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ মানুষ তবুও ভিন্নভাবে ঈদের জামাতে অংশ নেন, ধর্মীয় এ উৎসব পালন করেন।

বিশ্বের ১.৮ বিলিয়ন মুসলিম এক মাস রোজা রাখার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। পুরো রমজান মাসে তারা সুর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন, কোনো খাদ্য গ্রহণ করেন না। মানুষের প্রতি পারস্পরিক মঙ্গলকামনা এবাদত বন্দেগীর মধ্যে দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন।

ঈদের জামাতে মুসলমানদের বাধ ভাঙ্গ জোয়ারের মত উপচে পড়া মানুষের ঢল যেভাবে নামে এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি।

কেউ কি কখনো ভেবেছে ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসল্লি শূন্য থাকবে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান। তবে ঈদের দিনে সেখানে এমন নির্জনতা দেখে গিয়েছে যা আগে কেউ দেখেনি। সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে বড় এই ঈদগাহ মাঠে এবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

এবার সেখানে ঈদুল ফিতরের ১৯৩তম ঈদের জামাত কথা ছিলো। প্রতিবছর এই মাঠে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেয়। কিন্তু আজ শনিবার সেখানে ছিল কোলাহলহীন শূন্য মাঠ। শুধু শোলাকিয়ায় নয় এবার দেশের কোনো খোলা জায়গায় বা ঈদগাহে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়নি।

এবার দেখা যাক বিশ্বের অন্যান্য দেশে করোনায় ঈদ উদযাপন পরিস্থিতি:

ঈদে মুসলমানরা প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করেন। একসাথে উৎসবের খাবার খান। সামাজিক মেলবন্ধনের মধ্যে উপহার আদান প্রদান করেন। ইসলামি ক্যালেন্ডারে এই ঈদ খুবই উল্লেখযোগ্য এক দিবস।

কিন্তু এবার করোনাভাইরাস যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে তাই মুসলমানরা সারাবিশ্বে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব পালনে কঠোরতা অবলম্বন করছেন। তুরস্ক, ইরাক, জর্ডানের মত কিছু দেশে কঠিনভাবে লকডাউন পালন করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের মক্কায় কাবা শরীফ লকডাউনের কারণে একেবারে ফাঁকা ছিল ঈদের দিনেও।

কসোভার প্রিস্টিনার গ্রান্ড মসজিদে বিশ্বের অন্যান্য মসজিদের মত এভাবেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ পড়েন। অনেকে ঘরেই নামাজ পড়েছেন।

ঈদের জামাতে ইরানে ঈদগাহে প্রবেশের আগে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

ব্রিটেনের ম্যানচেষ্টারের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইমাম হামজাহ হাসান ঈদের জামাতে খুৎবা রাখেন। ফেসবুকে তার এ খুৎবার বাণী প্রচার করা হয়।

অনেক মুসলিম দেশে বিশাল ঈদের জামাত আগেভাগেই বাতিল করা হয়। অনেক মসজিদ বন্ধ ছিল। বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

মালয়েশিয়ায় কিছু মসজিদখুলে দেয়া হয় এবং পারিবারিকভাবে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়। তবে তা ৩০ জনের মধ্যে এবং সামাজিক মেলা মেশা ২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছ।

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন থেকে আগেই অনুরোধ জানানো হয় ঘরে থেকে ঈদ এবার বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ভার্চুয়ালি উদযাপন করতে।

কাউন্সিলের সেক্রেটারি হারুন খান বলেন, এবার আমরা পবিত্র ঈদের দিনটিকে নিরাপদের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করছি যাতে কেউ করোনায় আক্রান্ত হন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত